Dhaka ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ রাণীশংকৈলে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গৃহবধূর মৃত্যু উদ্ভাবকদের যথাযথ স্বীকৃতি নিশ্চিতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী কালীগঞ্জে জামায়াতে ইসলামীর নতুন অফিস উদ্বোধন ঢাকায় রোববার থেকেই বর্ধিত ভাড়া কার্যকর প্রশ্ন ফাঁসের প্রচারণা স্রেফ গুজব: শিক্ষামন্ত্রী যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজে মাইন অপসারণে জাহাজ পাঠাবে জার্মানি শৈলকুপায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে দুই সার ডিলারকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ভূমি সহকারী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনের অকাল প্রয়াণ জব্বারের বলী খেলায় কুমিল্লার বাঘা শরীফ হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
  • / 15

নেছারাবাদ উপজেলায় হাত-পা বিহীন এক নবজাতকের জন্মকে ঘিরে হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।

জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেশিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত আংশিক গঠিত। পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন।

তবে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতির অপারেশনসহ সব চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করা হয়েছে। অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসকও তার সার্জন ফি নেননি।

লিজা আক্তারের বাড়ি পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করলেও সন্তান প্রসবের আগে তিনি বাড়িতে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা বলেন, “আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মায়নি বলে স্বামী তাকে ফেলে দিতে বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার সন্তানকে ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে ছেড়ে গেলেও আমি আমার সন্তানকে মানুষ করে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর তার কী হবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য করলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, দিনমজুর পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করা হয়েছে।

অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি নিজের ফিও মওকুফ করেছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাত-পাবিহীন শিশুর জন্ম: বাবা বললেন ফেলে দিতে, হাসপাতাল করল বিল মওকুফ

প্রকাশের সময় : ১০:৪০:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

নেছারাবাদ উপজেলায় হাত-পা বিহীন এক নবজাতকের জন্মকে ঘিরে হৃদয়বিদারক ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে। জন্মের পর শিশুটিকে গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন তার বাবা। তবে স্বামীর এমন নিষ্ঠুর নির্দেশ উপেক্ষা করে সন্তানকে বুকে নিয়েই বাড়ি ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মা লিজা আক্তার।

জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মিয়ারহাট বন্দরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে ছেলেশিশুটির জন্ম হয়। শিশুটির দুই পা নেই এবং একটি হাত আংশিক গঠিত। পিতা দিনমজুর আল আমীন নবজাতককে নিতে অস্বীকৃতি জানান এবং স্ত্রীকে সন্তানটি অন্যত্র দিয়ে দিতে বা ফেলে আসতে বলেন।

তবে মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। প্রসূতির অপারেশনসহ সব চিকিৎসা ব্যয় মওকুফ করা হয়েছে। অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসকও তার সার্জন ফি নেননি।

লিজা আক্তারের বাড়ি পাশের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া গ্রামে। তিনি জানান, এটি তার তৃতীয় সন্তান। জীবিকার তাগিদে ঢাকায় দিনমজুরের কাজ করলেও সন্তান প্রসবের আগে তিনি বাড়িতে আসেন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে লিজা বলেন, “আমার সন্তান স্বাভাবিকভাবে জন্মায়নি বলে স্বামী তাকে ফেলে দিতে বলেছে। কিন্তু আমি কখনোই আমার সন্তানকে ফেলে দিতে পারব না। স্বামী আমাকে ছেড়ে গেলেও আমি আমার সন্তানকে মানুষ করে তুলব।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত কাজ করে সন্তানকে খাওয়াতে পারব। কিন্তু আমার মৃত্যুর পর তার কী হবে—এই চিন্তাই আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। কোনো সহৃদয় ব্যক্তি সাহায্য করলে সন্তানের ভবিষ্যৎ কিছুটা হলেও নিশ্চিত হবে।”

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গোলাম মোস্তফা জানান, দিনমজুর পরিবারের পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাসপাতালের সব খরচ মওকুফ করা হয়েছে।

অপারেশন পরিচালনাকারী চিকিৎসক প্রীতিষ বিশ্বাস বলেন, জিনগত কারণ বা গর্ভকালীন যথাযথ চিকিৎসার অভাবে অনেক সময় এ ধরনের শিশু জন্ম নিতে পারে। মানবিক দিক বিবেচনায় তিনি নিজের ফিও মওকুফ করেছেন।