মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাই
- প্রকাশের সময় : ০১:১১:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
- / 15
মিয়ানমারের সাবেক জান্তাপ্রধান মিন অং হ্লাই দেশের নতুন প্রেসিডেন্ট হতে যাচ্ছেন। সেনা অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর অনুগতদের দিয়ে গঠিত নবনির্বাচিত সংসদ তাকে প্রেসিডেন্ট হিসেবে বেছে নিচ্ছে।
অনেকের মতে, এটি মূলত বেসামরিক শাসনের ছদ্মবেশ। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার উৎখাতের পর এক বছরের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবায়নে সময় লেগেছে পাঁচ বছর।
সংবিধান অনুযায়ী মিন অং হ্লাই সেনাপ্রধানের পদ ছেড়েছেন, তবে সেনাবাহিনীর প্রভাব এখনো অটুট রয়েছে। সংসদের এক-চতুর্থাংশ আসন সেনাবাহিনীর জন্য সংরক্ষিত এবং সামরিক-সমর্থিত দল ইউএসডিপি অধিকাংশ বেসামরিক আসন দখল করেছে। ফলে নির্বাচনকে অনেকেই পূর্বনির্ধারিত বলে মনে করছেন।
নতুন সরকারেও সামরিক প্রভাব বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। সেনাপ্রধান হিসেবে তার ঘনিষ্ঠ মিত্র জেনারেল ইয়ে উইন উ দায়িত্ব নিচ্ছেন। পাশাপাশি একটি শক্তিশালী পরামর্শদাতা পরিষদ গঠন করা হয়েছে, যার হাতে বেসামরিক ও সামরিক উভয় বিষয়ে প্রভাবশালী ক্ষমতা থাকবে।
অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের ফলে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়েছে। এতে হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। সামরিক বাহিনী বহু এলাকা হারালেও বিমান হামলা ও কঠোর সামরিক কৌশল ব্যবহার করে প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোর ওপর চাপ বজায় রেখেছে।
অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে এক কোটি ষাট লাখের বেশি মানুষ মানবিক সহায়তার প্রয়োজন, আর প্রায় চল্লিশ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত। মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি সংকট সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
রাজনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। সামরিকবিরোধী ন্যাশনাল ইউনিটি গভর্নমেন্ট নতুন সরকারকে অবৈধ বলছে এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মিন অং হ্লাইয়ের এই ক্ষমতা গ্রহণ সংঘাতের অবসান নয়; বরং তা দীর্ঘস্থায়ী সংকটকে আরও গভীর করতে পারে।
সূত্র : বিবিসি






















