Dhaka ০৭:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ডেঙ্গুতে আরো ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১৮৬০ কালুখালীর মদাপুরে চেয়ারম্যান প্রার্থী কুন্নুর সমর্থনে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা ঝিনাইদহে মিশন আচার্যের মায়ের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিলেন রাশেদ খান কালুখালীর হাঁড়ীভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার মান উন্নয়নে অভিভাবক সমাবেশ ডিসেম্বরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘অপতৎপরতা’ দমন করা হবে: ডিবিপ্রধান ১৭ অক্টোবরের ছুটি বাতিল, প্রজ্ঞাপন জারি জাবিতে জঙ্গল থেকে ভোররাতে তিন নারীসহ পাঁচ বহিরাগত আটক উন্নত জাতি গড়তে শিক্ষাব্যবস্থায় অবহেলা করা যাবে না: মঈন খান স্ত্রী চাইলে তাৎক্ষণিক পরিশোধ করতে হবে বকেয়া দেনমোহর: হাইকোর্টের রায় দেশকে অস্থির করার জন্য ‘পতিত দোসররা’ নানাভাবে কাজ করছে: রিজভী

আজ অমর একুশে বইমেলা শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 163

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এবার মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এবং পরিচালক সরকার আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১০৮৪টি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় স্থাপন করা হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশু চত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট সংখ্যা ১০৭টি। শিশুদের অবাধ বিচরণ ও সহজে বই সংগ্রহের সুবিধার্থে শিশু চত্বরকে উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে।

মেলার সামগ্রিক বিন্যাস আগের বছরের মতো থাকলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহির পথ স্থানান্তর করে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। খাবারের স্টল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে।

মেলায় নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বই বিক্রি করবে নির্ধারিত কমিশনে। একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার বিক্রয় স্টল থাকবে মেলার উভয় অংশেই।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে থাকবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে থাকবে শিশুপ্রহর। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগত মানের ভিত্তিতে প্রকাশককে প্রদান করা হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক মানে সেরা বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থে বিশেষ অবদানের জন্য থাকবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। এ ছাড়া এ বছর নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আজ অমর একুশে বইমেলা শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৮:১৫:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহান ভাষা আন্দোলনের অমর শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ দুপুর ২টায় বইমেলার উদ্বোধন করবেন। এবার মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’।

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমির আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে বইমেলার সর্বশেষ প্রস্তুতি তুলে ধরেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. মো. সেলিম রেজা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন একাডেমির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম এবং পরিচালক সরকার আমিন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এবারের বইমেলায় অংশ নিচ্ছে মোট ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান। এর মধ্যে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে। মোট ইউনিট সংখ্যা ১০১৮টি। গত বছর অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ছিল ৭০৮টি এবং ইউনিট ছিল ১০৮৪টি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের উন্মুক্ত মঞ্চসংলগ্ন গাছতলায় স্থাপন করা হয়েছে লিটল ম্যাগাজিন চত্বর, যেখানে ৮৭টি লিটল ম্যাগাজিনের জন্য স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। শিশু চত্বরে অংশ নিচ্ছে ৬৩টি প্রতিষ্ঠান, ইউনিট সংখ্যা ১০৭টি। শিশুদের অবাধ বিচরণ ও সহজে বই সংগ্রহের সুবিধার্থে শিশু চত্বরকে উদ্যানের মাঝামাঝি স্থানে রাখা হয়েছে।

মেলার সামগ্রিক বিন্যাস আগের বছরের মতো থাকলেও কিছু আঙ্গিকগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। মেট্রোরেল স্টেশনের অবস্থানগত কারণে বাহির পথ স্থানান্তর করে মন্দির গেটের কাছে নেওয়া হয়েছে। টিএসসি, দোয়েল চত্বর, এমআরটি বেসিং প্লান্ট এবং ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন এলাকায় চারটি প্রবেশ ও বাহির পথ থাকবে। খাবারের স্টল ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সীমানা ঘেঁষে স্থাপন করা হয়েছে।

মেলায় নামাজের স্থান, ওয়াশরুমসহ প্রয়োজনীয় পরিষেবা অব্যাহত থাকবে। পবিত্র রমজান উপলক্ষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মুসল্লিদের জন্য তারাবি নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বাংলা একাডেমি এবং অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো ২৫ শতাংশ কমিশনে বই বিক্রি করবে। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বই বিক্রি করবে নির্ধারিত কমিশনে। একাডেমির বই ও পত্রপত্রিকার বিক্রয় স্টল থাকবে মেলার উভয় অংশেই।

প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত মূল মঞ্চে থাকবে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার। প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে থাকবে শিশুপ্রহর। এ ছাড়া শিশু-কিশোরদের জন্য চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন থাকবে। নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের জন্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে রাখা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা।

মেলার সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবে পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গোয়েন্দা সংস্থা। পুরো এলাকায় ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। মেলা প্রাঙ্গণ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা, ধুলা নিয়ন্ত্রণে পানি ছিটানো এবং মশক নিধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এদিকে অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ২০২৫ সালে প্রকাশিত গ্রন্থ থেকে গুণগত মানের ভিত্তিতে প্রকাশককে প্রদান করা হবে ‘চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার’। শৈল্পিক মানে সেরা বইয়ের জন্য তিনটি প্রতিষ্ঠান পাবে ‘মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। শিশুতোষ গ্রন্থে বিশেষ অবদানের জন্য থাকবে ‘রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার’। স্টলের নান্দনিক সাজসজ্জায় শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে ‘কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার’। এ ছাড়া এ বছর নতুনভাবে প্রবর্তন করা হয়েছে ‘সরদার জয়েনউদ্দীন স্মৃতি পুরস্কার’।

আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত বইমেলা চলবে। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা খোলা থাকবে। ছুটির দিনে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে।