Dhaka ০৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মমত্ববোধ দিয়ে দেশ গড়ার আহ্বান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নতুন বিমান সচিব নূরুন্নাহার চৌধুরী নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে উদ্যোগ নেয়ার নির্দেশনা প্রধানমন্ত্রীর ন্যাশনাল ব্যাংককে ৭ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা সোনালী ব্যাংকের জুরাইনে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিনের দাফন সম্পন্ন ফেব্রুয়ারিতে পদ্মা ব্যারাজ উদ্বোধনের আশা সংসদীয় কমিটির মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন মির্জা আব্বাস কালীগঞ্জে জামায়াতের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকারের অভিযান, ৪ প্রতিষ্ঠানকে ২৬ হাজার টাকা জরিমানা দেশের কল্যাণে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কাজ করা মানুষের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা বদলে যাবে, যা যুক্ত হবে

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 163

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দেবেন, সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কি না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা।

সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে।

গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয় পায়, তাহলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন বা ৯ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারে বাধ্য থাকবে।

১. সংবিধান ও মৌলিক অধিকার

১. রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা, অন্য মাতৃভাষার স্বীকৃতি থাকবে।
২. নাগরিকদের পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
৩. সংবিধানের মূলনীতি হবে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।
৪. নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা যুক্ত হবে মৌলিক অধিকার হিসেবে।

২. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

১. জরুরি অবস্থা জারি করতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে এবং বিরোধীদলীয় নেতা/উপনেতা উপস্থিত থাকতে হবে।
২. রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন গোপন ব্যালটে সংসদ সদস্যদের ভোটে।
৩. প্রধান বিচারপতি, কমিশন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে।
৪. প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের জন্য দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

৩. সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থা

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে।
২. সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; উচ্চকক্ষে আসন হবে ১০০।
৩. সংসদে নারী সংরক্ষিত আসন ১০০ করা হবে।
৪. এমপিরা বাজেট ও আস্থা বিল ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
৫. নির্বাচন কমিশন গঠনে বিরোধী দলের প্রতিনিধি ও বিচারপতি সমন্বিত কমিটি থাকবে।

৪. আইন ও বিচারব্যবস্থা

১. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগের বিচারক থেকে।
২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে, হাইকোর্টে এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন হবে।
৩. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল শক্তিশালী হবে, ন্যায়পাল, কমিশন ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগে কমিটি থাকবে।
৪. সংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা সংযুক্ত হবে।

৫. আইন সংশোধনে ৩৭টি সংস্কার

১. সংসদের কমিটি ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ।
২. বিচারকদের আচরণবিধি, আদালত ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন।
৩. স্বাধীন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠন।
৪. কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জিতলে সংবিধানে যা বদলে যাবে, যা যুক্ত হবে

প্রকাশের সময় : ১১:২১:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। এদিন আলাদা ব্যালটে ভোটাররা যে গণভোটে ভোট দেবেন, সেখানে সুনির্দিষ্ট করে খুব অল্প করে মাত্র চারটি বিষয় লেখা থাকবে। এই সনদ বাস্তবায়নে ভোটারদের সমর্থন আছে কি না, সেই প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দেবেন ভোটাররা।

সংস্কার কমিশনের রিপোর্ট অনুযায়ী গণভোটে মোট ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে ৪৭টি প্রস্তাব সাংবিধানিক এবং ৩৭টি সাধারণ আইন বা নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছে।

গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদে এই ৮৪টা ধারা বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবে। আর যদি ‘না’ জয় পায়, তাহলে জুলাই সনদ কার্যকর হবে না। গণভোটে হ্যাঁ জয় পেলে আগামী সংসদের সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিন বা ৯ মাসের মধ্যে জুলাই সনদ অনুযায়ী সাংবিধানিক সংস্কারে বাধ্য থাকবে।

১. সংবিধান ও মৌলিক অধিকার

১. রাষ্ট্রভাষা হবে বাংলা, অন্য মাতৃভাষার স্বীকৃতি থাকবে।
২. নাগরিকদের পরিচয় হবে বাংলাদেশি।
৩. সংবিধানের মূলনীতি হবে—সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক ন্যায়বিচার, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও সম্প্রীতি।
৪. নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা যুক্ত হবে মৌলিক অধিকার হিসেবে।

২. রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

১. জরুরি অবস্থা জারি করতে মন্ত্রিসভার অনুমোদন লাগবে এবং বিরোধীদলীয় নেতা/উপনেতা উপস্থিত থাকতে হবে।
২. রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন গোপন ব্যালটে সংসদ সদস্যদের ভোটে।
৩. প্রধান বিচারপতি, কমিশন চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নিয়োগে রাষ্ট্রপতির স্বাধীনতা বৃদ্ধি পাবে।
৪. প্রধানমন্ত্রী সর্বাধিক দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের জন্য দায়িত্বে থাকতে পারবেন।

৩. সংসদ ও নির্বাচন ব্যবস্থা

১. তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হবে।
২. সংসদ হবে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট; উচ্চকক্ষে আসন হবে ১০০।
৩. সংসদে নারী সংরক্ষিত আসন ১০০ করা হবে।
৪. এমপিরা বাজেট ও আস্থা বিল ছাড়া স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারবেন।
৫. নির্বাচন কমিশন গঠনে বিরোধী দলের প্রতিনিধি ও বিচারপতি সমন্বিত কমিটি থাকবে।

৪. আইন ও বিচারব্যবস্থা

১. প্রধান বিচারপতি নিয়োগ হবে আপিল বিভাগের বিচারক থেকে।
২. বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে, হাইকোর্টে এক বা একাধিক বেঞ্চ স্থাপন হবে।
৩. সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল শক্তিশালী হবে, ন্যায়পাল, কমিশন ও নিয়ন্ত্রক নিয়োগে কমিটি থাকবে।
৪. সংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার রোধের ব্যবস্থা সংযুক্ত হবে।

৫. আইন সংশোধনে ৩৭টি সংস্কার

১. সংসদের কমিটি ও সদস্যদের বিশেষ অধিকার ও দায়িত্ব নির্ধারণ।
২. বিচারকদের আচরণবিধি, আদালত ব্যবস্থাপনা ডিজিটালাইজেশন।
৩. স্বাধীন জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন ও সরকারি কর্ম কমিশন গঠন।
৪. কুমিল্লা ও ফরিদপুর নামে দুটি প্রশাসনিক বিভাগ গঠন।

সূত্র : বিবিসি বাংলা