প্রতীক নিয়ে মাঠে লড়াই শুরু, নিরাপত্তায় গুরুত্ব আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
- প্রকাশের সময় : ১২:২০:৩৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬
- / 167
নানা শঙ্কা ও অভিযোগের মধ্যেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মূল মাঠের লড়াই শুরু হয়েছে। প্রায় দুই হাজার প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়ার মধ্য দিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা। প্রতীক হাতে পেয়ে প্রার্থীরা এখন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, ফলে রাজনৈতিক ব্যস্ততার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পুলিশ, র্যাব ও একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনীগুলোর সক্ষমতা রয়েছে বলেও দাবি করেছেন তারা। পুলিশ জানিয়েছে, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার রোধে জোরালো অভিযান চালানো হচ্ছে এবং কারাগার থেকে মুক্তিপ্রাপ্ত সন্ত্রাসীদের ওপর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় সব জেলার পুলিশ সুপার ও মহানগর পুলিশ কমিশনারদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভোটের ক্ষেত্রে হুমকি হতে পারে এমন ব্যক্তিদের শনাক্ত করে নজরদারিতে রাখা এবং প্রয়োজন হলে আইনের আওতায় আনার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, নির্বাচন উপলক্ষে পুলিশসহ প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৫ লাখ ৫৫ হাজার ৯৫৮ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এছাড়া বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, সশস্ত্র বাহিনীর প্রায় এক লাখ, র্যাবের প্রায় ৮ হাজার, নৌবাহিনীর ৫ হাজার, কোস্ট গার্ডের ৩ হাজার ৫০০ এবং ফায়ার সার্ভিসের ১৩ হাজার সদস্য নির্বাচনী দায়িত্ব পালন করবেন। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে ড্রোনের ব্যবহারও শুরু হয়েছে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক রাজনৈতিক সহিংসতা প্রসঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নির্বাচন এলেই সহিংসতা বাড়ে। তবে এবার যাতে এমন কিছু না ঘটে, সে জন্য পুলিশসহ অন্যান্য বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
নির্বাচনী প্রচারে কী করা যাবে আর কী করা যাবে না, সে বিষয়ে আচরণবিধিতে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপচনশীল দ্রব্য দিয়ে ব্যানার, লিফলেট ও ফেস্টুন তৈরি করা যাবে না এবং পলিথিন বা প্লাস্টিক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানারে নিজের প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার করা যাবে না, তবে দলীয় প্রার্থী হলে বর্তমান দলীয় প্রধানের পোর্ট্রেট ছবি ব্যবহার করা যাবে।
এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারের সুযোগ রাখা হলেও এর জন্য শর্ত আরোপ করা হয়েছে। প্রচার শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের নাম, আইডি ও ই-মেইলসহ শনাক্তকরণ তথ্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জমা দিতে হবে। অসৎ উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ভুয়া তথ্য ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতির অপব্যবহার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, চরিত্রহনন বা মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশের ওপরও কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
নিরাপত্তার বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, প্রচারণা চলাকালে পুলিশের ব্যস্ততা স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে এবং সংঘাত এড়াতে নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। তিনি বলেন, প্রথমবারের মতো নির্বাচন উপলক্ষে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য মাঠে দায়িত্ব পালন করছেন।
র্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, নির্বাচনী মাঠে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে র্যাব। অপতথ্য ও গুজব ঠেকাতে র্যাবের সাইবার টিম কাজ করছে এবং নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।





















