Dhaka ০৬:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু : আইনমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশিদের শ্রম ভিসা সাময়িক বন্ধ করল লাওস ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

আমি পরবর্তী সরকারের কোনো পদে থাকব না: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫
  • / 218

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি রাষ্ট্রের কোনো পদে থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত ওই নিবন্ধে ড. ইউনূস লেখেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরবর্তী সরকারে তিনি কোনো নির্বাচিত বা নিযুক্ত পদে থাকবেন না বলেও জানান তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা; যেখানে সব রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন দেশ-বিদেশে থাকা সব বৈধ ভোটার তাদের ভোট দিতে পারেন।”

নিবন্ধে তিনি এক বছর আগের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, সাহসী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট এক স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। পরে ছাত্রনেতাদের আহ্বানে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন এবং ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন।

ড. ইউনূস জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল গণআন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারে অগ্রগতি অর্জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সাবেক সরকার বছরে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

নিবন্ধে ড. ইউনূস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের প্রতি। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।

তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকার বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবিধানিক সংশোধনী—যাতে বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে না যায়।

নিবন্ধের শেষভাগে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ যদি এমন একটি দেশে পরিণত হয়, যেখানে সবাই নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তবে তা হবে লাখো মানুষের সাহস ও দৃঢ়তার ফল। এ যাত্রায় আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে।”

(মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজ-এ প্রকাশিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিবন্ধ অবলম্বনে)

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

আমি পরবর্তী সরকারের কোনো পদে থাকব না: প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

প্রকাশের সময় : ০৮:৩৪:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ অগাস্ট ২০২৫

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচনের পর তিনি রাষ্ট্রের কোনো পদে থাকবেন না। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজ-এ প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) প্রকাশিত ওই নিবন্ধে ড. ইউনূস লেখেন, আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নেবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত পরবর্তী সরকারে তিনি কোনো নির্বাচিত বা নিযুক্ত পদে থাকবেন না বলেও জানান তিনি।

ড. ইউনূস বলেন, “আমাদের সরকারের মূল লক্ষ্য হলো একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করা; যেখানে সব রাজনৈতিক দল ভোটারদের কাছে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারবে। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেন দেশ-বিদেশে থাকা সব বৈধ ভোটার তাদের ভোট দিতে পারেন।”

নিবন্ধে তিনি এক বছর আগের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে লেখেন, সাহসী শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে ৫ আগস্ট এক স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটে। পরে ছাত্রনেতাদের আহ্বানে তিনি অনিচ্ছা সত্ত্বেও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের দায়িত্ব নেন এবং ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণ করেন।

ড. ইউনূস জানান, সরকারের অন্যতম প্রধান কাজ ছিল গণআন্দোলনে নিহত ও আহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া এবং লুট হওয়া সম্পদ উদ্ধারে অগ্রগতি অর্জন। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ১৫ বছরে সাবেক সরকার বছরে ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছে।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, অর্থনীতি পুনর্গঠন, আইন-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে দেশ এগিয়ে যাচ্ছে।

নিবন্ধে ড. ইউনূস কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, বিশ্বব্যাংক ও জাতিসংঘের প্রতি। তিনি বলেন, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হতে পারে।

তিনি জানান, নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি সরকার বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপক সংস্কার প্রস্তাব তৈরি করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সাংবিধানিক সংশোধনী—যাতে বাংলাদেশ আর কখনো স্বৈরাচারী শাসনে ফিরে না যায়।

নিবন্ধের শেষভাগে তিনি লেখেন, “বাংলাদেশ যদি এমন একটি দেশে পরিণত হয়, যেখানে সবাই নিরাপত্তা ও মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে, তবে তা হবে লাখো মানুষের সাহস ও দৃঢ়তার ফল। এ যাত্রায় আমাদের সবার দায়িত্ব রয়েছে।”

(মার্কিন সংবাদমাধ্যম ডেসারেট নিউজ-এ প্রকাশিত ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নিবন্ধ অবলম্বনে)