Dhaka ০২:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ৯টি গভীর আঘাতের চিত্র

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:২৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫
  • / 233

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মরদেহে ধারালো অস্ত্র দ্বারা গলার ডান পাশে থাকা রক্তনালিগুলো কাটা এবং বুক, পিঠ ও হাতে অন্তত ৯টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চাপাতির কোপে বুকের বা পাশের পাঁজর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, পিঠ দিয়ে ঢুকে ফুসফুস বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁজর ভেদ করেছে, আর বাঁ হাতের হাড় টুকরো টুকরো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ এন এম আল মামুন বলেন, “তুহিনের গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে গুরুতর ৯টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, সবই সমান গভীর ও প্রাণঘাতী।”

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক বলেন, “একটি আঘাতই মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তবে এখানে ৯টি আঘাত গভীর ও মারাত্মক।”

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে, কুমিল্লার হোমনা এলাকার মো. শাহজালাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

উপকমিশনার মো. রবিউল হাসান জানান, “ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর থেকে রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ডে থাকা আসামি শাহজালাল ইয়াবা কারবার ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দিন অন্যদের সাথে ইয়াবা সেবন করছিল। ঘটনার দিন তারা চাপাতি, দা, সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে শাপলা ম্যানশনের কাছে গিয়ে একজন ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। গোলাপি নামের এক নারী সদস্য ওই ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করতো। হামলার সময় সাংবাদিক তুহিন ভিডিও ধারণ করছিলেন, যা বুঝে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা পুলিশ আসার খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে ৯টি গভীর আঘাতের চিত্র

প্রকাশের সময় : ১২:২৫:১৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ অগাস্ট ২০২৫

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের রিপোর্টে প্রকাশ হয়েছে, সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিনের মরদেহে ধারালো অস্ত্র দ্বারা গলার ডান পাশে থাকা রক্তনালিগুলো কাটা এবং বুক, পিঠ ও হাতে অন্তত ৯টি গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। চাপাতির কোপে বুকের বা পাশের পাঁজর ক্ষতবিক্ষত হয়েছে, পিঠ দিয়ে ঢুকে ফুসফুস বিচ্ছিন্ন হয়ে পাঁজর ভেদ করেছে, আর বাঁ হাতের হাড় টুকরো টুকরো হয়েছে।

ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন রবিবার (১০ আগস্ট) রাতে পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়।

ফরেনসিক বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. এ এন এম আল মামুন বলেন, “তুহিনের গলা, ঘাড়, বুক, পিঠ ও হাতে গুরুতর ৯টি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে, সবই সমান গভীর ও প্রাণঘাতী।”

বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. মাজহারুল হক বলেন, “একটি আঘাতই মৃত্যুর কারণ হতে পারে, তবে এখানে ৯টি আঘাত গভীর ও মারাত্মক।”

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ৭ আসামিকে দুই দিনের রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হলে, কুমিল্লার হোমনা এলাকার মো. শাহজালাল ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার ড. মো. নাজমুল করিম খান বলেন, “সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শী ও অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতে ১৫ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করা হবে।”

উপকমিশনার মো. রবিউল হাসান জানান, “ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর থেকে রিমান্ডে থাকা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রিমান্ডে থাকা আসামি শাহজালাল ইয়াবা কারবার ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের দিন অন্যদের সাথে ইয়াবা সেবন করছিল। ঘটনার দিন তারা চাপাতি, দা, সুইচ গিয়ার চাকু নিয়ে শাপলা ম্যানশনের কাছে গিয়ে একজন ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা করে। গোলাপি নামের এক নারী সদস্য ওই ব্যক্তিকে প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আদায় করতো। হামলার সময় সাংবাদিক তুহিন ভিডিও ধারণ করছিলেন, যা বুঝে হামলাকারীরা তাকে লক্ষ্য করে আক্রমণ চালায় এবং মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। হামলাকারীরা পুলিশ আসার খবর পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।