ফুটবলাররা কি আসলেই বোকা, নাকি আমরা ভুল জানি

- প্রকাশের সময় : ০৭:৫০:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
- / 7

ফুটবলারদের নিয়ে একটা পুরোনো ধারণা আছে। মাঠে তাঁরা যতই বুদ্ধিদীপ্ত পাস দিন, মাঠের বাইরে নাকি বুদ্ধির বড্ড অভাব। বল পায়ে দুর্দান্ত, কিন্তু মাথার ভেতরটা নাকি ততটা সচল নয়!আশির দশকের শেষভাগ থেকে নব্বইয়ের দশক, এমনকি পরের সময়েও ফুটবলারদের নিয়ে এই ঠাট্টা কম হয়নি। তাঁদের অনেককেই দেখানো হয়েছে একটু বোকাসোকা, সহজ–সরল, বুদ্ধিবিবেচনাহীন মানুষ হিসেবে। যেন পায়ে বল থাকলেই মাথায় আর কিছু থাকার দরকার নেই!
খেলার মাঠের প্রেক্ষাপট ও মূল মুহূর্ত
কিন্তু ফুটবল যত বদলেছে, ফুটবলারদের জীবনও তত জটিল হয়েছে। এখনকার একজন খেলোয়াড়কে শুধু পাস, শট আর ট্যাকল নিয়ে ভাবলে চলে না। মাঠের বাইরেও তাঁকে সামলাতে হয় নানা রকম চাপ, প্রলোভন, প্রত্যাশা ও সিদ্ধান্তের বোঝা।তাহলে ফুটবলাররা কি সত্যিই বোকা?এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আগে একটা বিষয় মনে রাখা দরকার। কারও বুদ্ধিমত্তা বোঝার সবচেয়ে ভালো উপায় নিশ্চয়ই তাঁকে ম্যাচ শেষে মাইক্রোফোনের সামনে দাঁড় করিয়ে দেওয়া নয়।ম্যাচ শেষে সাংবাদিকের প্রশ্ন, ‘গোল করে কেমন লাগছে?’ কিংবা ‘জিততে পেরে কেমন লাগছে?’ খেলোয়াড়ের উত্তরও প্রায় বাঁধাধরা, ‘ভালো লাগছে। দলের জয়ে অবদান রাখতে পেরে খুশি।’ ব্যস, সাক্ষাৎকার শেষ। এখানে বুদ্ধির পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ কোথায়?
এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে খুব বেশি চিন্তাভাবনার দরকার হয় না। বরং প্রশ্নকর্তা যদি একটু ভিন্নভাবে কথা বলতে পারেন, খেলোয়াড়কে যদি নিজের মতো করে কথা বলার সুযোগ দেন, তখনই বেরিয়ে আসে তাঁর ব্যক্তিত্ব, আগ্রহ, চিন্তাভাবনা আর জীবনবোধ।সব খেলোয়াড় অবশ্য সমান কথা বলতে পারেন না। কেউ লাজুক, কেউ সংবাদমাধ্যমের সামনে সতর্ক, কেউ আবার সহজে কাউকে বিশ্বাস করেন না। কারও সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগবে, কারও সঙ্গে হয়তো নয়। কিন্তু এসবের কোনোটিই বুদ্ধিমত্তার মাপকাঠি হতে পারে না।ফুটবলারদের বুদ্ধি নিয়ে পুরোনো ধারণাটা সম্ভবত তাঁদের পেশার জটিলতাকে ঠিকমতো বুঝতে না পারার ফল।
কথা রেখেছে চীন, দেখায়নি রিয়াল মাদ্রিদের খেলা
ম্যাচের বিশ্লেষণ ও পরবর্তী প্রতিক্রিয়া
একজন পেশাদার ফুটবলারকে প্রতিদিনই নানা সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখন কী করতে হবে, কার কথা শুনতে হবে, কার কথা এড়িয়ে যেতে হবে, কখন নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দিতে হবে, কখন আবার নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকতে হবে। এসবের জন্য শুধু ফুটবলীয় দক্ষতা যথেষ্ট নয়। দরকার আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা, আত্মবিশ্বাস এবং পরিস্থিতি বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বুদ্ধি। যাকে এখন বলা হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স।ফুটবলে প্রতিভা যেমন জরুরি, তেমনি জরুরি মানসিক দৃঢ়তা। প্রশংসা সামলানো কঠিন, সমালোচনা সামলানোও। ভালো খেললে চারদিক থেকে বাহবা আসে। খারাপ খেললে সমালোচনার ঝড়। দুই পরিস্থিতিতেই মাথা ঠান্ডা রাখা দরকার। কারণ, ফুটবল অপরিণত সিদ্ধান্তের শাস্তি দিতে খুব একটা দেরি করে না।আর চাপটা শুধু মাঠের শেষ মুহূর্তের পেনাল্টি নেওয়ার সময়ই আসে না। মাঠের বাইরেও থাকে নানা চাপ। যেমন দলবদল।
ফুটবল এখন অনেক বড় ব্যবসা। প্রচার, অর্থ, খ্যাতি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, সব মিলিয়ে খেলোয়াড়দের জীবন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল। সুযোগ যেমন বেড়েছে, বিপদও বেড়েছে। এই বাস্তবতায় টিকে থাকতে হলে আরও সচেতন, বিচক্ষণ ও পরিণত হতে হয়।
একজন খেলোয়াড় কোথায় যাবেন, কোন দলে খেলবেন, কোন কোচের অধীনে খেলবেন, এসব সিদ্ধান্ত তাঁর ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। অথচ সব সময় যে খেলোয়াড়ের ইচ্ছা বা স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা নয়। কখনো কখনো তাঁর প্রতিনিধির সুবিধা, সম্পর্ক কিংবা কমিশনের অঙ্কটাই বড় হয়ে ওঠে।গত গ্রীষ্মের দলবদলেও এমন কয়েকটি চুক্তি হয়েছে, যেখানে খেলোয়াড়ের জন্য কোন দলটি সবচেয়ে উপযুক্ত, সেটি যেন খুব একটা বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। নতুন দলে গিয়ে খেলার সুযোগ পাবেন কি না, কোচের পরিকল্পনায় তাঁর জায়গা আছে কি না, দলে একই পজিশনে কতজন খেলোয়াড় আছেন, এসব প্রশ্নের চেয়ে অন্য হিসাব বড় হয়ে উঠেছে।






















