বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, এলাকায় সমালোচনা আগামীতে স্কুল-মাদ্রাসায় একই প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতে আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাপক লুটপাট করেছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, আতঙ্কে মানিক পশারীর স্বজনেরা; নেই পুলিশি পাহারা নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন বৃহস্পতিবার সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় প্রথম স্ত্রীকে রেখে শ্যালিকাকে বিয়ে, দেশজুড়ে সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত তালাক উন্নত বাংলাদেশ গড়তে প্রবাসী-দেশবাসীকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর নওগাঁয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গসহ আটক ১ বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে: হান্নান মাসউদ

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি
  • প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
  • / 18

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘নজরুলের আঙিনায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘গ্যাং কালচার বন্ধ হোক’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তের হিসাব চাই’ ও ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে বল বাউন্ডারির বাইরে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই দিন রাতে অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবনসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, পরে কলা ভবনের সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে ওই তিন বিভাগের রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমান নামের চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “আমি এমন কী করেছিলাম যে আমাকে মারার চেষ্টা করা হলো? শুধু একটা বলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কখনোই কাম্য নয়।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো আইন নেই? কেউ অপরাধ করলে কি তার কোনো শাস্তি হবে না?”

রবিউলের অভিযোগ, সংঘর্ষের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সিফাত ও তাঁর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, অপকর্ম করেও শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে তিনি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিব বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ না করা হলে কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হলে এবং এ ঘটনায় সঠিক বিচার না পেলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করতে চাই না। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলছি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। খুব দ্রুত তদন্তের ফল প্রকাশ করতে চাই। এ ধরনের ঘটনায় কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন

প্রকাশের সময় : ০৮:০৯:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে খেলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করেন। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ‘নজরুলের আঙিনায় সন্ত্রাসীদের ঠাঁই নাই’, ‘বিচার চাই, বিচার চাই’, ‘গ্যাং কালচার বন্ধ হোক’, ‘আমার ভাইয়ের রক্তের হিসাব চাই’ ও ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।

গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে বল বাউন্ডারির বাইরে চলে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এর জেরে ওই দিন রাতে অগ্নিবীণা হল, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ ভবন ও কলা ভবনসংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ রয়েছে, পরে কলা ভবনের সামনে ব্যবস্থাপনা বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ইংরেজি, লোকপ্রশাসন ও চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালান। এতে ওই তিন বিভাগের রবিউল, সাকিব, রাফি ও রোমান নামের চার শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হন।

মানববন্ধনে আহত শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম বলেন, “আমি এমন কী করেছিলাম যে আমাকে মারার চেষ্টা করা হলো? শুধু একটা বলকে কেন্দ্র করে এমন ঘটনা ঘটবে, এটা কখনোই কাম্য নয়।” বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কি কোনো আইন নেই? কেউ অপরাধ করলে কি তার কোনো শাস্তি হবে না?”

রবিউলের অভিযোগ, সংঘর্ষের মূল হোতা হিসেবে অভিযুক্ত সিফাত ও তাঁর অনুসারীরা ক্যাম্পাসে গ্যাং কালচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁরা মনে করেন, অপকর্ম করেও শাস্তি এড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে তিনি জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী লাবিব বলেন, “নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন প্রকাশ না করা হলে কিংবা তদন্ত দীর্ঘায়িত করার চেষ্টা করা হলে এবং এ ঘটনায় সঠিক বিচার না পেলে আমরা আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমরা এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করতে চাই না। তদন্ত কমিটির সঙ্গে কথা বলছি, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিচ্ছি। খুব দ্রুত তদন্তের ফল প্রকাশ করতে চাই। এ ধরনের ঘটনায় কোনো অপরাধী ছাড় পাবে না।”