প্রথম স্ত্রীকে রেখে শ্যালিকাকে বিয়ে, দেশজুড়ে সমালোচনার পর শেষ পর্যন্ত তালাক

- প্রকাশের সময় : ০৭:৪৮:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 18

প্রথম স্ত্রীকে সঙ্গে রেখেই আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসা নওগাঁর মহাদেবপুরের আলোচিত মাসুদকে তালাক দিয়েছেন দ্বিতীয় স্ত্রী পূর্ণিমা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে ফেসবুকে তালাকনামার ছবি প্রকাশ করে বিষয়টি নিশ্চিত করেন মাসুদ নিজেই। একই সঙ্গে ফেসবুক লাইভে এসে নিজেদের ভুল স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।
লাইভে মাসুদ বলেন, ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী একই সময়ে দুই বোনকে বিয়ে করা জায়েজ নয়—এ বিষয়টি তাঁদের জানা ছিল না। না বুঝেই তাঁরা ভুলটি করেছিলেন। এ কারণে বিভিন্নভাবে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছে। তবে তাঁরা সেই ভুল সংশোধন করেছেন।
পূর্ণিমা তাঁকে আইনিভাবে তালাক দিয়েছেন জানিয়ে মাসুদ বলেন, বর্তমানে প্রথম স্ত্রী মৌসুমীই তাঁর সঙ্গে স্ত্রী হিসেবে রয়েছেন। তালাকের প্রমাণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এতে তাঁদের নিয়ে অপমানজনক পোস্ট ও আলোচনা বন্ধ হবে বলে আশা করছেন। একই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার জন্য পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি। এ বিষয়ে আর পোস্ট না করতে নেটিজেনদের প্রতি অনুরোধও জানান মাসুদ।
এর আগে, গত ২৪ অক্টোবর নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার মাতাজি বিরামগ্রাম এলাকার বাসিন্দা ও আইনজীবীর সহকারী মাসুদ প্রথম স্ত্রীর উপস্থিতিতে তাঁর আপন ছোট বোন পূর্ণিমাকে বিয়ে করেন। ২৫ অক্টোবর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই স্ত্রীকে নিয়ে ছবি ও টিকটক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ২৬ অক্টোবর রাতে ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা মাসুদের মুখে চুন-কালি মেখে তাঁকে এলাকা থেকে বের করে দেন বলে জানা গেছে। পরদিন মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) মাসুদের শ্বশুরবাড়ির উঠানে আয়োজিত সালিশ বৈঠকে গ্রামবাসীর সামনে তাঁর শ্বশুর মান্নান সাপুরে ও ছোট মেয়ে পূর্ণিমা হাত জোড় করে ক্ষমা চান।
একই দিন ফেসবুক লাইভে এসে মাসুদও নিজের ভুল স্বীকার করেন এবং দ্বিতীয় স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কথা জানান। এর ধারাবাহিকতায় বুধবার পূর্ণিমা তাঁকে আইনিভাবে তালাক দেন বলে মাসুদ জানিয়েছেন।


















