মুক্তিযোদ্ধার জানাজা-দাফনে বাধা দেওয়ায় ক্ষোভ ঝাড়লেন সোহেল রানা

- প্রকাশের সময় : ১০:২০:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 2

একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত প্রয়াত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার বাদী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। মৃত্যুর প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর নানা টানাপোড়েন শেষে শনিবার গভীর রাতে পিরোজপুরে পরিবারের নারী সদস্যদের খোঁড়া কবরে তাকে দাফন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন কিংবদন্তি চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা।
সোমবার দুপুরে নিজের ফেসবুক পোস্টে মানিক পশারীর দাফন ঘিরে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান সোহেল রানা। তিনি লেখেন, ‘একাত্তরের রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাকে কবর দেওয়ায় বাধা সৃষ্টি করল স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং হারিকেন জ্বালিয়ে তার আলোতে আলোকিত করে তার কন্যাসন্তান নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বাবার কবর তৈরি করল।’
আগের কবরটি স্বাধীনতাবিরোধীরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন এই অভিনেতা। এ প্রসঙ্গে তিনি লেখেন, ‘আগের কবরটি স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মাটি দিয়ে ভরাট করে দিয়েছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষীয় শক্তি নাকি বর্তমানে সরকার পরিচালনা করছে। কোনো আলামত তো দেখা গেল না।’
ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়ে সোহেল রানা লেখেন, ‘সরকারের কাছে এর সঠিক জবাব চাই।’
মুক্তিযোদ্ধাদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে নিজের উপলব্ধির কথাও তুলে ধরেন তিনি। সোহেল রানা বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছেছেন। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিস্ফুলিঙ্গ পরবর্তী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে তারা হয়তো ব্যর্থ হয়েছেন।
তার ভাষায়, ‘নইলে প্রতিবাদ বা প্রতিরোধ কোনোটাই তো দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না।’
পোস্টের শেষ দিকে নিজের ক্ষোভ ও কষ্টের কথা জানিয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা লেখেন, ‘না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার আগে এমনি ধরনের সংবাদ আমার মতো অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের রক্তক্ষরণ করে। মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষীয় শক্তি সবাই জেগে ওঠো। এবার আর ক্ষমা নয়।’
উল্লেখ্য, মানিক পশারীর দাফন ও রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন তার স্বজনরা। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় দাফন সম্পন্ন হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজন উপস্থিত ছিলেন।



















