স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০

- প্রকাশের সময় : ০৫:৫৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 10

স্পেনে দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর আগে নিহতের সংখ্যা ৩৯ জন বলে জানানো হয়েছিল। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ আশঙ্কা করছে, এ দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
কাস্তিলা-লা মাঞ্চা অঞ্চলের সরকারি মুখপাত্রের বরাত দিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, সকাল ৯টার কিছু পরে মোর ও অরগাজ শহরের মধ্যবর্তী এলাকায় ট্রেন দুটির সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রেনের দুটি বগি লাইনচ্যুত হয়।
দুর্ঘটনার সময় ট্রেন দুটিতে মোট ৫৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে কয়েকটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কিছু গণমাধ্যমে যাত্রীর সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন বলে জানানো হয়েছে।
মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী রেনফে ও ইরিয়ো কোম্পানির দুটি দ্রুতগামী ট্রেনের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক ধারণা, রেল অবকাঠামো পরিচালনাকারী সংস্থা আদিফের এক কর্মীর ভুলের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে ট্রেনের বগিগুলো উল্টে খাদে পড়ে থাকতে দেখা গেছে। দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থলে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছে উদ্ধার ও জরুরি সহায়তা কার্যক্রম শুরু করেন।
দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া ৫৪ বছর বয়সী জেসুস জেরোনিমো স্পেনের সংবাদপত্র এল পাইসকে বলেন, দুর্ঘটনাটি ছিল ভয়াবহ। এ সময় ট্রেন থেকে যাত্রীরা ছিটকে পড়ে যান।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রথমে তাঁরা ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দেখেন, ট্রেনটি একদিকে কাত হয়ে আছে। ঘটনাস্থলে অনেক মানুষ আহত হন এবং যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ তোলেদোতে ঘটে যাওয়া এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি ও সমর্থন জানিয়েছেন।
উদ্ধার ও জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে মাদ্রিদ সিটি কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে সাতটি অগ্নিনির্বাপক যান পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধারে ব্যবহৃত বিশেষ যান, পানির পাম্প এবং উদ্ধারকারী যান রয়েছে।
এ ছাড়া জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ১৬টি অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়। এর মধ্যে আটটি উন্নত চিকিৎসাসেবার জন্য এবং বাকি আটটি সাধারণ অ্যাম্বুলেন্স। দুটি জরুরি সেবাদানকারী সংস্থার প্রায় ১০০ জন কর্মী উদ্ধার, চিকিৎসা ও অন্যান্য সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত রয়েছেন।



















