মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আইজিপি সহজ-সরল মানুষ, ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসআইয়ের বিরুদ্ধে মামলার তদন্তে গিয়ে তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পরিবহন সংকট নিরসনে পবিপ্রবি-বিআরটিসি চুক্তি, চালু হচ্ছে দুই ডাবল ডেকার বাস লংমার্চ ঘিরে ঝিনাইদহে ব্যাপক প্রস্তুতি রোজার আগে ভোজ্যতেলের দাম লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া আদালত চত্বরে আসামিদের ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে উত্তেজনা, হামলায় পুলিশ আহত প্রধানমন্ত্রীর সফর বাংলাদেশ-জাপানের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী ভারতীয় গোয়েন্দার সঙ্গে পরওয়ারের গোপন বৈঠকের অভিযোগ, ভিডিও প্রকাশ রাজবাড়ীতে বিনামূল্যে ৪ পরিবারকে গাভী বিতরণ
প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
  • / 14

প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনের সূত্রে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষদের টার্গেট করে এই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার বিন্দুবিসর্গও তারা বুঝতে পারেন না। পরবর্তীতে যখন তারা বুঝতে পারেন যে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের মাঠে পাঠানো হচ্ছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘের নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ

বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের জোরপূর্বক যুদ্ধে পাঠিয়েছে রাশিয়া

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

প্রতারণা ও চাপের মুখে ফেলে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৯টি দেশের নাগরিকদের রুশ সেনাবাহিনীতে নিয়োগ করানোর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ নিয়ে গঠিত জাতিসংঘের স্বাধীন তদন্ত কমিশনের এক প্রতিবেদনের সূত্রে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মানবাধিকার কমিটির কাছে এই প্রতিবেদন পেশ করা হয়।

জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে প্রলোভন ও জোরজবরদস্তির মাধ্যমে ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী বিদেশি নাগরিকদের রুশ সশস্ত্র বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত করেছে মস্কো। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া, প্রান্তিক ও কম শিক্ষাগত যোগ্যতার মানুষদের টার্গেট করে এই নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে।

বিভিন্ন দেশে সক্রিয় ট্রাভেল এজেন্সি ও স্থানীয় দালালদের মাধ্যমে উচ্চ বেতনের চাকরির লোভ দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের রাশিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরই রুশ ভাষায় লেখা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চুক্তিপত্রে তাদের সই করতে বাধ্য করা হয়, যার বিন্দুবিসর্গও তারা বুঝতে পারেন না। পরবর্তীতে যখন তারা বুঝতে পারেন যে তাদের ইউক্রেন যুদ্ধে সরাসরি লড়াইয়ের মাঠে পাঠানো হচ্ছে, ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে যায়।

কমিশন বিশ্বের ৪৮টি দেশের নাগরিকদের ওপর তথ্য অনুসন্ধান চালিয়ে ২৯টি দেশের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রতারণামূলক নিয়োগের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে। দেশগুলো হলো— বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা, বেলারুশ, আজারবাইজান, বলিভিয়া, ব্রাজিল, বতসোয়ানা, ক্যামেরুন, কলম্বিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক, এল সালভাদর, ঘানা, হন্ডুরাস, জর্ডান, কেনিয়া, মরক্কো, নাইজেরিয়া, পেরু, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, সোমালিয়া, তাজিকিস্তান, তিউনিসিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা, উজবেকিস্তান, ইয়েমেন এবং জিম্বাবুয়ে।

একই প্রতিবেদনে ইউক্রেনের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার মারাত্মক চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। কনকনে শীতের মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সেবা বন্ধ করে লাখ লাখ বেসামরিক মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার এই কাজকে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে কমিশন।

সংবাদ সম্মেলনে কমিশনের চেয়ারম্যান এরিক মোসে জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে যাওয়ায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময় বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা চরম জীবনঝুঁকিতে পড়েন। ২০২৫-২৬ সালের শীতে কিয়েভসহ বিভিন্ন অঞ্চলে অবস্থান করা ২৫৫ জন ভুক্তভোগী, চিকিৎসক ও নাগরিক সংস্থার সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়।

এদিকে জাতিসংঘের নিযুক্ত রাশিয়ার মিশন এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সমস্ত অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে দাবি করেছে।