Dhaka ০১:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ দাবির দরকষাকষির ভিডিও ভাইরাল

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
  • / 4

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খতিয়ানের তথ্য ও কপি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাকিবের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত দরকষাকষির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, গত ৮ অক্টোবর সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় অফিসসহায়ক পরিচয়ে রাকিব তাঁকে খতিয়ান খুঁজে দিতে সময় লাগবে জানিয়ে টাকা দাবি করেন। পরে সার্চিং ফি হিসেবে তাঁকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়।

সবুজের অভিযোগ, খতিয়ানগুলোর কপি নিতে গেলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, এগুলো দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা হিসাবে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হয়। সবুজ জানান, পরে ১ হাজার টাকা দিলে রাকিব খতিয়ানগুলোর নথির ছবি তুলে পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে আনতে বলা হয় তাঁকে। পরে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির কপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি খতিয়ানের কপি নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন সবুজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বজলুর রহমানকে খতিয়ানের কপি দেওয়ার বিষয়ে বলতে শোনা যায়, ‘এটা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এটা রেকর্ড রুম থেকে সহিমোহর আনতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝেমধ্যে দিয়ে থাকি।’ ভিডিওতে তাঁকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়। পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’

অভিযুক্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভোলায় ভূমি কর্মকর্তার ঘুষ দাবির দরকষাকষির ভিডিও ভাইরাল

প্রকাশের সময় : ১২:০৬:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে খতিয়ানের তথ্য ও কপি দেওয়ার বিনিময়ে টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে ইউনিয়ন উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী মো. রাকিবের বিরুদ্ধে। এ-সংক্রান্ত দরকষাকষির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

অভিযোগকারী সবুজ মুসলমান জানান, গত ৮ অক্টোবর সাচড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাগ নম্বর দিয়ে এসএ খতিয়ান খুঁজতে যান তিনি। এ সময় অফিসসহায়ক পরিচয়ে রাকিব তাঁকে খতিয়ান খুঁজে দিতে সময় লাগবে জানিয়ে টাকা দাবি করেন। পরে সার্চিং ফি হিসেবে তাঁকে ৩০০ টাকা দেন সবুজ। এরপর ১৮টি খতিয়ানের তথ্য পাওয়া যায়।

সবুজের অভিযোগ, খতিয়ানগুলোর কপি নিতে গেলে উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমান জানান, এগুলো দেওয়ার নিয়ম নেই। তবে প্রতিটি খতিয়ানের জন্য ২০০ টাকা হিসাবে মোট ১ হাজার ৮০০ টাকা দাবি করেন তিনি। পরে দরকষাকষির একপর্যায়ে ১ হাজার ৫০০ টাকা চাওয়া হয়। সবুজ জানান, পরে ১ হাজার টাকা দিলে রাকিব খতিয়ানগুলোর নথির ছবি তুলে পাশের একটি কম্পিউটারের দোকানে পাঠান। সেখান থেকে প্রিন্ট করে আনতে বলা হয় তাঁকে। পরে আরও ১০০ টাকা দিয়ে ১৮টি খতিয়ানের মধ্যে ১৬টির কপি সংগ্রহ করেন তিনি। বাকি দুটি খতিয়ানের কপি নিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি বলেও অভিযোগ করেন সবুজ।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বজলুর রহমানকে খতিয়ানের কপি দেওয়ার বিষয়ে বলতে শোনা যায়, ‘এটা দেওয়ার কোনো এখতিয়ার আমাদের নাই। এটা রেকর্ড রুম থেকে সহিমোহর আনতে হবে। আমরা আপনাদের সহযোগিতার জন্য মাঝেমধ্যে দিয়ে থাকি।’ ভিডিওতে তাঁকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দেওয়ার কথাও বলতে শোনা যায়। পরে ১ হাজার ৫০০ টাকা দাবি করার অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে রাকিব বলেন, ‘আমি ৫০০ টাকা চেয়েছি। তিনি খুশি হয়ে ৩০০ টাকা দিয়েছেন। এটা কোনো সরকারি ফি নয়।’

অভিযুক্ত উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা বজলুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রিফাত হোসেন বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’