তিন বছরের শিশুকে শ্বাসরোধ করে হত্যা, লাশ লুকানো হয় ঘরের আলনার পেছনে
- প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
- / 5
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ ঘণ্টা পর হালিমা আকতার নামের তিন বছর বয়সী এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শনিবার রাত নয়টার দিকে হালিমাদের প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের বাড়ির শোয়ার বাড়ির আলনার তাকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। হালিমাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত হালিমা আক্তার ফটিকছড়ি উপজেলার ভূজপুর থানার দাঁতমারা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিশ্চিন্তা গ্রামের নাছির উদ্দিন ও রাশেদা আক্তার দম্পতির মেয়ে। নাছির উদ্দিনের সঙ্গে প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের জমি নিয়ে বিরোধ ছিল। পুলিশ বলছে, এই বিরোধের জের ধরেই হত্যার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মুহাম্মদ আওয়াল, তাঁর স্ত্রী আসমা আকতার ও ছেলে মুহাম্মদ রবিউলকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। একই সঙ্গে আজ রোববার সকালে নিহত শিশু হালিমার ময়নাতদন্তের জন্য লাশ চট্টগ্রাম মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এরপর দুপুরে নিহত শিশুর বাবা মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তার তিনজনকে আসামি করে থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৮ টার দিকে বাড়ির উঠান থেকে হালিমা নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা আশপাশের এলাকা ও প্রতিবেশীদের বাড়িতে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে মসজিদের মাইকে শিশুটির নিখোঁজের খবর প্রচার করা হয়। একপর্যায়ে বিকেল ৫টার দিকে শিশুটির পরিবার জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানায়।
অভিযোগ পেয়ে ভূজপুর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ খোঁজাখুঁজির পর রাত ৯টার দিকে প্রতিবেশী মুহাম্মদ আওয়ালের শোয়ার কক্ষে কাপড় রাখার আলনার তাকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায় হালিমার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ।
নিহত শিশুর বাবা মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন বলেন, ‘সকাল থেকে আমার কলিজার টুকরো মেয়েটাকে কোথাও খুঁজে পাচ্ছিলাম না। চারদিকে কত খুঁজলাম। নিরুপায় হয়ে পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে খোঁজাখুঁজি করে আমার মা-মণির লাশ উদ্ধার করল পামের বাড়ি থেকে কাপড় মোড়ানো অবস্থায়। ও তো কোনো অন্যায় করেনি। কেন ওকে এভাবে মারা হলো।’
ভুজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে বলেন, এ ঘটনায় শনিবার মামলা হয়েছে। মামলার এজাহারভুক্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বলেন, আসামিদের সঙ্গে নিহত শিশুর বাবার জায়গা জমির বিরোধ রয়েছে। এর জেরে ধরে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ।
পুলিশের হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মোহাম্মদ তারেক আজিজ বলেন, মেয়ে শিশুটিকে কপালে আঘাত করে এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। আসামিরা চেয়েছিল সকালে লাশ সরিয়ে নিতে। কিন্তু পুলিশের তৎপরতার কারণে পারেনি।



















