ঝিনাইদহে বঞ্চিত ব্যবসায়ীদের ১৫ দিনের আলটিমেটাম
- প্রকাশের সময় : ০৫:২২:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 10
ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে। একই প্রকল্পে যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ পেলেও ঝিনাইদহের ব্যবসায়ীরা সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন কালীগঞ্জের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। ন্যায্য ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের দাবিতে শনিবার সংবাদ সম্মেলন করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ দিনের সময়সীমা দিয়েছেন তারা। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে পরিবার-পরিজন নিয়ে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ীরা বলেন, মহাসড়ক সম্প্রসারণের কারণে কালীগঞ্জ বাজারের প্রায় দেড় হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী উচ্ছেদের মুখে পড়েছেন। এসব ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় আড়াই হাজার শ্রমিক-কর্মচারী। ব্যবসা ও কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে গেলে তাদের পরিবারসহ প্রায় ২০ হাজার মানুষ জীবিকা সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বছরের পর বছর বৈধ ট্রেড লাইসেন্স নিয়ে ব্যবসা করে আসছেন। নিয়মিত সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবসা পরিচালনা করলেও উচ্ছেদের ক্ষেত্রে তাদের ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়নি। জমি ও স্থাপনার মালিকরা অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেলেও প্রকৃত ব্যবসায়ী ও দোকানদারদের জীবিকা হারানোর বিষয়টি যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তারা।
তাদের দাবি, পার্শ্ববর্তী যশোর জেলার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’-এর ৮(৩)(ক) ধারা অনুসরণ করে মূল ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত ১০০ শতাংশ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়েছে। একই প্রকল্পে একই ধরনের ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রে ঝিনাইদহে কেন একই সুবিধা দেওয়া হবে না, সে প্রশ্ন তোলেন তারা।
ব্যবসায়ীরা জানান, এ বিষয়ে জেলা প্রশাসন ও এলএ শাখায় একাধিকবার আবেদন ও শুনানিতে অংশ নিয়েও কার্যকর প্রতিকার পাননি। উল্টো হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ বন্ধ এবং পাওনা পরিশোধের আগে স্থাপনা অপসারণ না করাসহ আট দফা দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি অধিগ্রহণ-সংক্রান্ত মৌজা, দাগ, খতিয়ান ও নোটিশের তথ্য জেলা প্রশাসনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ এবং হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের দাবিও জানান তারা।
ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা মহাসড়ক উন্নয়ন বা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধী নন। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনগত অধিকার ও জীবিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে, ১৫ দিনের মধ্যে দাবি বাস্তবায়নে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নিলে পরিবার-পরিজন নিয়ে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসন, এলএ শাখা ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।






















