গলার লকেট দেখে স্ত্রীর পোড়া লাশ শনাক্ত করলেন স্বামী

- প্রকাশের সময় : ০৮:৪৫:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 12

কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীতে টুপটুপ রেস্তো অ্যান্ড রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ১০ দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে নিখোঁজ স্কুলশিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটার দিকে কয়েক ঘণ্টার তল্লাশি শেষে তাঁর দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। গলায় থাকা লকেট দেখে স্ত্রীকে শনাক্ত করেন স্বামী দেওয়ান ফয়সাল। এ নিয়ে ওই অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ জনে।
নিহত মুক্তার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায়। তিনি ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় স্বপ্নবিলাস নিরিবিলি স্কুলের শিক্ষিকা ছিলেন। দুই বান্ধবীর সঙ্গে কক্সবাজার বেড়াতে এসে ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকার ওই রিসোর্টে উঠেছিলেন তিনি।
মুক্তার স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের দিন ভোরে মুক্তার দুই বান্ধবী সমুদ্রসৈকতে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। তখন মুক্তা রিসোর্টের কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থাকায় দুই বান্ধবী প্রাণে বেঁচে গেলেও আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন মুক্তা। এরপর আর তাঁর সন্ধান পাওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর উদ্ধার হওয়া ১০ জনের মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সোমবার রাতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পরীক্ষার মাধ্যমে ১০ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য জানায়। তবে তাঁদের মধ্যে মুক্তা ছিলেন না। উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর নমুনার সঙ্গে তাঁর স্বজনদের ডিএনএর মিল না পাওয়ায় পরিবারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
এরপর মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় মেরিন ড্রাইভসংলগ্ন পুড়ে যাওয়া রিসোর্টে নতুন করে তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। ধ্বংসস্তূপের ঝুঁকিপূর্ণ অংশের পাশাপাশি আশপাশের নালা ও ঝোপঝাড়েও অনুসন্ধান চালানো হয়। কয়েক ঘণ্টার তল্লাশির পর দুপুর আড়াইটার দিকে মুক্তার দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়।
স্বামী দেওয়ান ফয়সাল জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে পরিবারের সদস্যরা মুক্তার সন্ধানের অপেক্ষায় ছিলেন। একে একে অন্য নিহতদের পরিচয় শনাক্ত হলেও মুক্তার কোনো খোঁজ মিলছিল না। অবশেষে ১০ দিন পর উদ্ধার হওয়া দেহাবশেষের গলায় থাকা লকেট দেখে তিনি স্ত্রীকে শনাক্ত করেন।
এদিকে উদ্ধারকাজে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুক্তার স্বজনেরা। তাঁর ফুফাতো ভাই হাসিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, প্রথম দফায় ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হলেও মুক্তার দেহাবশেষ পাওয়া যায়নি। ডিএনএ পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর তাঁদের ঘটনাস্থলে যেতে বলা হয়। সেখানে গিয়ে মুক্তার মরদেহ না পেয়ে তাঁরা হতাশ হন।
হাসিবুল ইসলাম বলেন, ‘পরে আমার দুলাভাই একপ্রকার জোর করেই সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে নিয়ে যান। সেখানে বোনের গলায় থাকা লকেট দেখে ১০ দিন পর তাঁকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।’
তিনি আরও বলেন, মুক্তার বান্ধবীরা বারবার জানিয়েছিলেন, অগ্নিকাণ্ডের সময় মুক্তা রিসোর্টের ভেতরেই ছিলেন। এরপরও কেন তাঁকে খুঁজে পাওয়া গেল না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো পাননি তাঁরা।
পরিবারের অভিযোগ, শুরু থেকেই যথাযথভাবে তল্লাশি চালানো হলে আরও আগেই মুক্তার সন্ধান পাওয়া যেত।
অন্যদিকে মঙ্গলবার দুপুরের পর কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গের হিমঘর থেকে ডিএনএ পরীক্ষায় পরিচয় শনাক্ত হওয়া ১০ জনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান ও পুলিশ সুপার এএনএম সাজেদুর রহমান।



















