Dhaka ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চাকরি পেলেন জুলাই শহিদ ও আহত পরিবারের ১০ সদস্য নওগাঁয় প্রাক্তন সৈনিক সংস্থার বার্ষিক বনভোজন অনুষ্ঠিত মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই গণঅভ্যুত্থানের সাথে প্রথম বেইমানি করেছেন ডা. শফিকুর রহমান: রাশেদ খাঁন বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট ইমিগ্রেশন পরিদর্শন করলেন এসবি প্রধান সন্তানের মাথা গোঁজার ঠাঁই পেতে মাথার চুল বিক্রি করলেন মা জনগণের অর্থ লুট করে পাচার করাই ছিল আওয়ামী লীগের কাজ: অর্থ উপদেষ্টা অপপ্রচারের মাধ্যমে সরকারের কাজে বাধা দেওয়া হচ্ছে : রিজভী ঢাকা-রিয়াদ সরাসরি ফ্লাইট চালু সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২ জন

মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬
  • / 6

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনই যোগদানের এক মাসের মধ্যে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে আবারও চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ রোগীরা।

গত ৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ জন চিকিৎসককে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে জেলার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই পাঁচজন চিকিৎসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পদায়ন করা ১২ চিকিৎসকের মধ্যে মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।

তাদের মধ্যে এক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে গেছেন ডা. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মো. মেহেদী হাসান, ডা. মো. এনামুল হক ও ডা. অতীশ দীপংকর। অর্থাৎ নতুন পদায়ন পাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪২ শতাংশই অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।

চিকিৎসক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে যারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তাদের অনেকেই ওপরের মহলে তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা নিতে এসে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরবর্তীতে মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের আরও দুজন জুনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন করা হয়। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সফিকুল ইসলাম এখনো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যোগদান করেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগটি কার্যত শূন্যই রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, কার্ডিওলজি, গাইনি, চর্ম ও যৌনরোগ, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ ছাড়া চক্ষু, কার্ডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের পদও খালি রয়েছে।

সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রায়ের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় বাড়ছিল। তবে তিনি ইনডোরে ভর্তি রোগীদের রাউন্ডে থাকায় বহির্বিভাগে সময়মতো রোগী দেখা শুরু করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।

সত্তরোর্ধ্ব মজিবর প্রামাণিক চোখের চিকিৎসার জন্য দূর থেকে হাসপাতালে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। শুধু মজিবর প্রামাণিক নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশায় হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত খরচে ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

একাধিক চিকিৎসক বলেন, ‘রোগীর তুলনায় আমাদের চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড চাপের মুখে একেকজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ডিউটি করেও একজন রোগীকে দুই-তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।’

সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। কিন্তু যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচজন বদলি হয়ে চলে যান। পরে অধিদফতর থেকে আরও দুজন চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন যোগদান করেননি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।’

চিকিৎসকদের বদলির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন কারণে তারা হঠাৎ বদলি নিয়ে চলে গেছেন, তা আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই তারা বদলির আবেদনে নিজ নিজ কারণ উল্লেখ করেছেন।’

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে চিকিৎসক পদায়ন করলেই রাজবাড়ীর মতো জেলাগুলোর চিকিৎসক সংকট মিটবে না। স্থায়ীভাবে চিকিৎসকদের ধরে রাখার কার্যকর নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্রমে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মন্ত্রীর নির্দেশে আসা ১২ চিকিৎসকের ৫ জন চলে গেলেন এক মাসের মধ্যেই

প্রকাশের সময় : ০৫:১০:০১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা ১২ জন চিকিৎসকের মধ্যে পাঁচজনই যোগদানের এক মাসের মধ্যে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। ফলে ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে আবারও চিকিৎসক সংকট দেখা দিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলোতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। এতে প্রতিদিন ভোগান্তিতে পড়ছেন জেলার বিভিন্ন এলাকার সাধারণ রোগীরা।

গত ৭ জুন স্বাস্থ্য অধিদফতরের জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১২ জন চিকিৎসককে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে পদায়ন করা হয়। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকট কাটাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলের নির্দেশে মন্ত্রণালয়ের এ উদ্যোগে জেলার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছিল। তবে যোগদানের অল্প সময়ের মধ্যেই পাঁচজন চিকিৎসক বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ায় সেই আশা অনেকটাই ভেস্তে গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পদায়ন করা ১২ চিকিৎসকের মধ্যে মেডিকেল অফিসার, সহকারী সার্জন ও বিভিন্ন বিশেষায়িত বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন।

তাদের মধ্যে এক মাসের মধ্যেই বদলি হয়ে চলে গেছেন ডা. মোহাম্মদ ফরহাদ হোসেন, ডা. জাহাঙ্গীর হোসেন, ডা. মো. মেহেদী হাসান, ডা. মো. এনামুল হক ও ডা. অতীশ দীপংকর। অর্থাৎ নতুন পদায়ন পাওয়া চিকিৎসকদের প্রায় ৪২ শতাংশই অল্প সময়ের মধ্যে হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।

চিকিৎসক মহলের একাধিক সূত্রের দাবি, অল্প সময়ের মধ্যে যারা রাজবাড়ী সদর হাসপাতাল ছেড়ে গেছেন, তাদের অনেকেই ওপরের মহলে তদবির ও সুপারিশের মাধ্যমে নিজেদের সুবিধাজনক কর্মস্থলে বদলি হয়েছেন।

এদিকে চিকিৎসক সংকটের কারণে সেবা নিতে এসে রোগীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদফতর থেকে পরবর্তীতে মেডিসিন ও কার্ডিওলজি বিভাগের আরও দুজন জুনিয়র কনসালটেন্ট পদায়ন করা হয়। তবে কার্ডিওলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সফিকুল ইসলাম এখনো রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যোগদান করেননি। ফলে গুরুত্বপূর্ণ এ বিভাগটি কার্যত শূন্যই রয়েছে।

হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, সার্জারি, মেডিসিন, শিশু, কার্ডিওলজি, গাইনি, চর্ম ও যৌনরোগ, ফরেনসিক মেডিসিন, অর্থোপেডিক সার্জারি, ইএনটি (নাক-কান-গলা) এবং অ্যানেস্থেসিয়া বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্টের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। এ ছাড়া চক্ষু, কার্ডিওলজি ও প্যাথলজি বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্টের পদও খালি রয়েছে।

সরেজমিনে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সকাল থেকেই বহির্বিভাগে রোগীদের দীর্ঘ সারি। চক্ষু বিভাগের চিকিৎসক ডা. অপূর্ব রায়ের কক্ষের সামনে রোগীদের ভিড় বাড়ছিল। তবে তিনি ইনডোরে ভর্তি রোগীদের রাউন্ডে থাকায় বহির্বিভাগে সময়মতো রোগী দেখা শুরু করতে পারেননি। ফলে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে চিকিৎসাসেবা না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়েন।

সত্তরোর্ধ্ব মজিবর প্রামাণিক চোখের চিকিৎসার জন্য দূর থেকে হাসপাতালে এসেছিলেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে না পেয়ে চিকিৎসা না নিয়েই ক্ষোভ ও হতাশা নিয়ে বাড়ি ফিরে যান তিনি। শুধু মজিবর প্রামাণিক নন, জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে প্রতিদিন অসংখ্য রোগী বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের আশায় হাসপাতালে এসে চিকিৎসা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে অনেকেই অতিরিক্ত খরচে ফরিদপুর কিংবা ঢাকায় চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন।

একাধিক চিকিৎসক বলেন, ‘রোগীর তুলনায় আমাদের চিকিৎসকের সংখ্যা খুবই কম। প্রচণ্ড চাপের মুখে একেকজন চিকিৎসককে একই সঙ্গে বহির্বিভাগ, ভর্তি রোগী ও জরুরি বিভাগের দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। অতিরিক্ত ডিউটি করেও একজন রোগীকে দুই-তিন মিনিটের বেশি সময় দেওয়া সম্ভব হয় না।’

সার্বিক বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান বলেন, ‘মন্ত্রীর নির্দেশে আমরা ১২ জন চিকিৎসক পেয়েছিলাম। কিন্তু যোগদানের কিছুদিনের মধ্যেই পাঁচজন বদলি হয়ে চলে যান। পরে অধিদফতর থেকে আরও দুজন চিকিৎসক পদায়ন করা হলেও এখন পর্যন্ত একজন যোগদান করেননি। বিষয়টি লিখিতভাবে স্বাস্থ্য অধিদফতরকে জানানো হয়েছে।’

চিকিৎসকদের বদলির কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কোন কারণে তারা হঠাৎ বদলি নিয়ে চলে গেছেন, তা আমার জানা নেই। নিশ্চয়ই তারা বদলির আবেদনে নিজ নিজ কারণ উল্লেখ করেছেন।’

স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, শুধু কাগজে-কলমে চিকিৎসক পদায়ন করলেই রাজবাড়ীর মতো জেলাগুলোর চিকিৎসক সংকট মিটবে না। স্থায়ীভাবে চিকিৎসকদের ধরে রাখার কার্যকর নীতিমালা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত না হলে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান হবে না। এতে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার ওপর সাধারণ মানুষের আস্থাও ক্রমে কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।