Dhaka ০৭:৫২ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
৬ হাজার সিমে শতকোটির প্রতারণা, চাইনিজ প্রতারক চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার বেনজীরকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এবার মোটরসাইকেলের সামনেও বাধ্যতামূলক হচ্ছে নম্বর প্লেট কাশিয়ানীতে স্কুলছাত্রী ও যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতন: প্রধান অভিযুক্ত গ্রেফতার বেনজিরকে ফেরাতে ল’ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জুলাই স্মরণে জবিতে ডকুমেন্টারি ও আলোকচিত্র প্রদর্শনীর প্রস্তুতি চূড়ান্ত রাজবাড়ীতে কৃষক সমিতির বর্ধিত সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্কাউটসকে খুবই পছন্দ করতেন: এস এম জিলানী এলপি গ্যাসের নতুন দাম ঘোষণা, সন্ধ্যা থেকেই কার্যকর নওগাঁয় বৃক্ষমেলার উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
  • / 8

ভোলার তজুমদ্দিনে একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই জামায়াত নেতার নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। যার টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে তিনি হলেন জুনিয়র শিক্ষক মৃত মহিউদ্দিন। একই নাম হওয়ায় তার (মৃত ব্যক্তির) ইনডেক্স ব্যবহার করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরে তার মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যা জালিয়াতির শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।’

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের হিসাব নম্বর থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা থাকায় লিখিতভাবে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

২০ বছর ধরে মৃত শিক্ষকের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬

ভোলার তজুমদ্দিনে একটি দাখিল মাদ্রাসায় মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত ওই জামায়াত নেতার নাম মো. মহিউদ্দিন। তিনি তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী ও উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি। যার টাকা তুলে আত্মসাৎ করা হয়েছে তিনি হলেন জুনিয়র শিক্ষক মৃত মহিউদ্দিন। একই নাম হওয়ায় তার (মৃত ব্যক্তির) ইনডেক্স ব্যবহার করে এই জালিয়াতির ঘটনা ঘটে।

এদিকে, বিষয়টি জানার পর মোহাম্মদ ভেলা ওমরিয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. নুরুজ্জামান মাদ্রাসা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। একই সঙ্গে অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।

অভিযোগে বলা হয়েছে, তজুমদ্দিন উপজেলার মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৯৯৪ সালের ১৩ মার্চ জুনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান মো. মহিউদ্দিন। পরে তার মৃত্যুর পর পদটি শূন্য হয়ে যায়। এরপর ২০০৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর তজুমদ্দিন ডিগ্রি কলেজের অফিস সহকারী মো. মহিউদ্দিন একই প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০৫ সালে শিক্ষক নিবন্ধন ব্যবস্থা চালুর পরও তথ্য গোপন করে ২০০৬ সালে বিধিবহির্ভূতভাবে নিয়োগ নেওয়া হয়। একই সঙ্গে মৃত শিক্ষকের এমপিও ইনডেক্স ও ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলনের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নেওয়া হয়েছে, যা জালিয়াতির শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, ‘হিসাব নম্বর এক হলেও ওই অ্যাকাউন্ট থেকে কোনো বেতন তোলা হয়নি। নিয়োগের সময়ও কোনো তথ্য গোপন করা হয়নি।’

অভিযোগকারীদের দাবি, ২০২৬ সালের জুন মাসের এমপিও কপিতে মৃত শিক্ষক মো. মহিউদ্দিনের হিসাব নম্বর থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মো. ভেলা ওমরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা নুরুজ্জামান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি জানতে পেরে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিষয়টি নিয়ে জটিলতা থাকায় লিখিতভাবে তদন্তের আবেদন করা হয়েছে।

তজুমদ্দিন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।