দক্ষিণ ইউরোপে ভয়াবহ দাবানল : গ্রিসে দুই দমকলকর্মীর মৃত্যু
- প্রকাশের সময় : ১১:৩৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
- / 7
দক্ষিণ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গ্রিসের ক্রিট দ্বীপে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে গিয়ে দুই দমকলকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্রিটের রেথিমনো এলাকায় আগুন নেভানোর সময় ওই দুই দমকলকর্মী আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে প্রাণ হারান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গ্রিসের পারোস ও লেসবস দ্বীপ এবং মূল ভূখণ্ডের ট্রিফিলিয়া এলাকাতেও নতুন করে দাবানল দেখা দিয়েছে। একই সময়ে দক্ষিণ তুরস্কের মুগলা প্রদেশে বড় ধরনের আগুন লাগায় ফেথিয়ে-আন্তালিয়া মহাসড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আগুনের ঝুঁকিতে একটি হাসপাতালের কিছু অংশও খালি করা হয়েছে।
এদিকে স্পেন ও ফ্রান্সে চলতি গ্রীষ্মের চতুর্থ তাপপ্রবাহ শুরু হয়েছে। দমকল বাহিনী নিয়ন্ত্রণে আনা দাবানল পুনরায় ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, একাধিক স্থানে একযোগে আগুনের সূত্রপাত হয়ে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সবচেয়ে বড় আগুনের বিস্তার প্রায় ১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেছেন, আগামী ১২ ঘণ্টা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাপমাত্রা বাড়ছে, বাতাসে আর্দ্রতা কমছে এবং দমকা হাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্পেনের আভিলা প্রদেশের বুরগোহোন্দো এলাকায় ইতোমধ্যে ৪৩ হাজার হেক্টরের বেশি এলাকা পুড়ে গেছে। এটি দেশটির ইতিহাসের অন্যতম বড় দাবানল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চলতি বছর স্পেনে মোট ২ লাখ ৭ হাজার হেক্টরের বেশি জমি আগুনে পুড়ে গেছে।
দাবানল নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা ফ্রান্সিসকো বোলানিওস জানিয়েছেন, রাতে আগুন আর না ছড়ালেও তাপমাত্রা বাড়লে পরিস্থিতি আবারও খারাপ হতে পারে। তাই প্রায় ১৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ আগুনের সীমারেখা নিরাপদ রাখতে কাজ চলছে।
আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় তোলেদো, মাদ্রিদ, আভিলা ও কাস্তেয়োন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে নিজ বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। শুধু মাদ্রিদ অঞ্চলে ২৪ হাজার মানুষ বাড়ি ফিরেছেন এবং আরও ২০ হাজার মানুষের ওপর জারি থাকা ঘরে থাকার নির্দেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে। নাভাস দেল রে ও চাপিনেরিয়া শহরের প্রায় এক হাজার বাসিন্দাও আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে বাড়ি ফিরেছেন।
চাপিনেরিয়ার মেয়র লুসিয়া ময়া বলেন, দাবানলে অনেক মানুষ তাদের বাড়িঘর ও জীবিকা হারিয়েছেন। স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে ফিরতে সময় লাগবে।
মাদ্রিদ ও কাস্তেয়োনে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর না মিললেও আলমেরিয়ার লস গাইয়ারদোস দাবানলে গুরুতর দগ্ধ এক নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
অন্যদিকে, দক্ষিণ-পশ্চিম ফ্রান্সের গিরন্দ অঞ্চলেও আগুন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাঝেমধ্যে নতুন করে জ্বলে উঠছে। সেখানে ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং শুষ্ক আবহাওয়া পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফ্রান্সের ১৬টি অঞ্চলে তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
এদিকে পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভিলা রিয়াল জেলাতেও দাবানল অব্যাহত রয়েছে। সেখানে প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ সক্রিয় আগুনের রেখা রয়েছে। নিকটবর্তী পানি শোধনাগার ও গ্যাস সংরক্ষণাগারের নিরাপত্তায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে ইউরোপে তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। ফলে তীব্র তাপপ্রবাহ, পানির সংকট এবং দাবানলের ঝুঁকি দিন দিন আরও বেড়ে যাচ্ছে।
সূত্র: বিবিসি।




















