নওগাঁয় দুবাই পাঠানোর নামে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ
- প্রকাশের সময় : ০৬:২৫:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / 10
নওগাঁর মান্দা উপজেলায় দুবাই পাঠানোর নামে ভুয়া ভিসা দিয়ে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন পাঁচটি পরিবারের সদস্যরা। এ সময় অভিযুক্ত প্রতারক চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার, আত্মসাৎ করা টাকা উদ্ধার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মান্দা উপজেলার ভরটু শিবনগর গ্রামের মো. আলতাব বলেন, নওগাঁর একটি প্রতারক চক্র ভালো চাকরির ভিসায় দুবাই পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নেয়। তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি পাঁচজন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ১৮ লাখ টাকা সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের কাছে দেন।
অভিযুক্তরা হলেন— মো. সোহেল রানা (৪২), মো. শাহাদত হোসেন উজ্জ্বল (৪৫), মো. মাহমুদুল হাসান খান (৩৬) ও মো. কামরুল হাসান (৪৫)। এছাড়া আরও ১০ থেকে ১২ জন এই প্রতারক চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ করা হয়।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন মো. সোহেল রানা (৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা), মো. রাসেল (২ লাখ টাকা), মো. ইসমাইল আলী শাহ (৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা), মানিক কুমার (৪ লাখ টাকা) এবং মো. শামীম হোসেন (২ লাখ টাকা)।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রতারক চক্রটি ভুয়া ভিসা দিয়ে ভুক্তভোগীদের বিদেশে পাঠানোর জন্য বিমানবন্দরে নিয়ে যায়। তবে ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়ার সময় ভিসাগুলো জাল বলে শনাক্ত হলে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ফেরত পাঠায় এবং পাসপোর্ট বাতিল করে দেয়।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ১৯ জুলাই বিকেলে নওগাঁ সদর থানার আনন্দনগর এলাকায় অবস্থিত ‘এমএস ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর কার্যালয়ে গিয়ে তারা আসল ভিসা অথবা টাকা ফেরত চান। এ সময় অভিযুক্তরা টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাদের মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, এই চক্রটি একই কৌশলে এলাকার ৩০ থেকে ৪০ জনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও জানানো হয়।
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত মো. সোহেল রানা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নিইনি। কেন আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করা হচ্ছে, তা জানি না। এ বিষয়ে আমি নিজেই মামলা করেছি। আদালতেই প্রকৃত সত্য প্রমাণ হবে।’
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে প্রতারক চক্রের সদস্যদের দ্রুত গ্রেফতার, আত্মসাৎ করা ১৮ লাখ টাকা উদ্ধারে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।




















