Dhaka ০৭:০২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে ক্ষমা চাইলেন জামায়াত নেতা নওগাঁ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পুলিশ-র‌্যাবের উদ্যোগে মতবিনিময় সভা নওগাঁয় দুবাই পাঠানোর নামে ১৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ফরিদপুরে হাতির ধাক্কায় উল্টে গেল অটোরিকশা, নিহত ১০ মাসের শিশু ২১ শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল, অথচ ধর্মেন্দ্রকে মালা পরালো বিজেপি: কংগ্রেস নেতা স্বেচ্ছাসেবক দলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি: শীর্ষ পদে আলোচনায় যাঁরা টানা বৃষ্টিতে মধুখালীতে মরিচ চাষে বিপর্যয়, মণপ্রতি দাম ১০ হাজার টাকা পোরশায় মাদকবিরোধী অভিযানে চোলাই মদ তৈরির উপকরণ উদ্ধার বন্ধ ইটভাটা ফের চালুর চেষ্টা, ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পরিবেশ অধিদপ্তরের সারাজীবন অন্যায়ের বিপক্ষে কথা বলেও আজ আমি অপরাধী : আইভী

২১ শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল, অথচ ধর্মেন্দ্রকে মালা পরালো বিজেপি: কংগ্রেস নেতা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
  • / 3

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দীর্ঘ ৩৭ দিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের পর তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্যরা। ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সংবর্ধনা কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনা হয়েছে ভারতীয় লোকসভায়।

মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিজেপি সংসদ সদস্যরা তাকে এমনভাবে বরণ করে নিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে ফিরেছেন।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোমবার সংসদে প্রবেশের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে বিজেপি সাংসদরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। এ সময় তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এক সাংসদ এবং কাঁধে শাল পরিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে গগৈ বলেন, “পদত্যাগের পর তিনি সংসদে প্রবেশ করলে বিজেপি সাংসদরা তাকে এমনভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”

কংগ্রেসের আরেক নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এ ঘটনার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না এটা লজ্জাজনক? ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন তা সবাই দেখেছে, কিন্তু সংসদ চত্বরে তাকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হলো যেন তিনি একজন সুপারস্টার।”

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেওয়া সংবর্ধনার সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতি এবং ভারতের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন এবং থাকবেন। সেই ব্যবস্থাই ২৬টি শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং লাখ লাখ যুবককে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”

রাহুল গান্ধীর দাবি, নৈতিক দায় থেকে নয়, বরং তরুণদের ক্ষোভের ভয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আজ সেই ব্যক্তিকেই সংসদে মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে। এটি কোনও সম্মান নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের উদযাপন। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই দৃশ্য দেখছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মুখ মনে রাখবে।”

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

গত মে মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে, ফল প্রকাশ স্থগিত করে এবং জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এতে পরীক্ষার্থীদের আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হয়।

এদিকে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের জেরে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

২১ শিক্ষার্থীর প্রাণ গেল, অথচ ধর্মেন্দ্রকে মালা পরালো বিজেপি: কংগ্রেস নেতা

প্রকাশের সময় : ০৬:০৭:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দীর্ঘ ৩৭ দিনের ছাত্র আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। পদত্যাগের পর তাকে সংবর্ধনা দিয়েছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্যরা। ধর্মেন্দ্র প্রধানের এই সংবর্ধনা কেন্দ্র করে নতুন করে সমালোচনা হয়েছে ভারতীয় লোকসভায়।

মঙ্গলবার লোকসভায় কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ বলেছেন, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর বিজেপি সংসদ সদস্যরা তাকে এমনভাবে বরণ করে নিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ জিতে ফিরেছেন।

সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়, সোমবার সংসদে প্রবেশের সময় ধর্মেন্দ্র প্রধানকে ঘিরে বিজেপি সাংসদরা ‘ধর্মেন্দ্র প্রধান জিন্দাবাদ’ স্লোগান দেন। এ সময় তার মাথায় ঐতিহ্যবাহী টুপি পরিয়ে দেন এক সাংসদ এবং কাঁধে শাল পরিয়ে দেন।

এ প্রসঙ্গে গগৈ বলেন, “পদত্যাগের পর তিনি সংসদে প্রবেশ করলে বিজেপি সাংসদরা তাকে এমনভাবে সংবর্ধনা দিয়েছেন, যেন তিনি পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করে ফিরেছেন।”

কংগ্রেসের আরেক নেতা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও এ ঘটনার সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, “আপনারা কি মনে করেন না এটা লজ্জাজনক? ধর্মেন্দ্র প্রধান কী পরিস্থিতিতে পদত্যাগ করেছেন তা সবাই দেখেছে, কিন্তু সংসদ চত্বরে তাকে এমনভাবে স্বাগত জানানো হলো যেন তিনি একজন সুপারস্টার।”

লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীও সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ধর্মেন্দ্র প্রধানকে দেওয়া সংবর্ধনার সমালোচনা করেন।

তিনি লিখেছেন, “ধর্মেন্দ্র প্রধান দুর্নীতি এবং ভারতের ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতীক ছিলেন এবং থাকবেন। সেই ব্যবস্থাই ২৬টি শিশুর জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং লাখ লাখ যুবককে রাস্তায় নামতে বাধ্য করেছে।”

রাহুল গান্ধীর দাবি, নৈতিক দায় থেকে নয়, বরং তরুণদের ক্ষোভের ভয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, “আজ সেই ব্যক্তিকেই সংসদে মালা পরিয়ে সম্মান জানানো হচ্ছে। এটি কোনও সম্মান নয়, বরং লাখো শিক্ষার্থীর নষ্ট হয়ে যাওয়া ভবিষ্যতের উদযাপন। দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই দৃশ্য দেখছে এবং এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি মুখ মনে রাখবে।”

প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে দেশজুড়ে শুরু হওয়া শিক্ষার্থী আন্দোলনের নেতৃত্ব দেয় ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দিল্লির যন্তর-মন্তর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ পরে দেশের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে। ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সংগঠনটি।

গত মে মাসে নিট (এনইইটি) পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ সামনে এলে সরকার তদন্ত শুরু করে, ফল প্রকাশ স্থগিত করে এবং জুন মাসে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত দেয়। এতে পরীক্ষার্থীদের আবারও প্রস্তুতিতে ফিরতে হয়।

এদিকে, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের জেরে শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর বিষয়ে সরকার এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি। তবে সিজেপির দাবি, এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মানসিক চাপের কারণে অন্তত ২১ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। সূত্র: এনডিটিভি