বগুড়ায় দেড় বছরে এইচআইভি শনাক্ত ৯৩ জন, আক্রান্তদের বেশিরভাগই পুরুষ
- প্রকাশের সময় : ০২:৩৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
- / 3
বগুড়ায় গত ১৯ মাসে ২ হাজার ১৬৪ জনের এইচআইভি পরীক্ষা করে ৯৩ জনের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে ৮১ জন পুরুষ, ১০ জন নারী এবং দুজন তৃতীয় লিঙ্গের। একই সময়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে গত সাত মাসেই মারা গেছেন তিনজন।
শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের এইচআইভি টেস্টিং অ্যান্ড কাউন্সেলিং (এইচটিসি) সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, শনাক্ত রোগীদের প্রায় ৮৭ শতাংশই পুরুষ। এ সময় শুধু বগুড়া জেলারই ৯২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ৫৯৭ জন এইচআইভি-সন্দেহভাজন ব্যক্তি সেন্টারে নিবন্ধন করেছেন।
চিকিৎসকদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ যৌন আচরণ, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক, অনিরাপদ রক্ত গ্রহণ এবং ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ভাগাভাগি করার কারণে এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ১৫ জন এইচআইভি পরীক্ষার জন্য এইচটিসি সেন্টারে আসেন। যাদের শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়, তাদের তাৎক্ষণিক কাউন্সেলিং এবং বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়।
শজিমেক হাসপাতাল সূত্র জানায়, বগুড়া ছাড়াও বৃহত্তর রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে রোগীরা এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। এইচআইভি পরীক্ষা, কাউন্সেলিং এবং চিকিৎসাসেবা একসঙ্গে দেওয়া হয় এই সেন্টারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য, আক্রান্তদের মধ্যে তরুণ ও কর্মক্ষম বয়সী মানুষের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। তাই ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
এইচটিসি সেন্টারের কাউন্সেলর আব্দুস সালাম বলেন, এইচআইভি পজিটিভ শনাক্ত হওয়ার পর অনেক রোগী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। নিয়মিত কাউন্সেলিং তাদের মানসিকভাবে শক্ত থাকতে এবং চিকিৎসা চালিয়ে যেতে সহায়তা করে।
শজিমেক হাসপাতালের এইচটিসি সেন্টারের চিকিৎসক ডা. মো. সুলতান ইবনে সাঈদ বলেন, অরক্ষিত যৌন সম্পর্ক এইচআইভি সংক্রমণের অন্যতম প্রধান কারণ। এছাড়া আক্রান্ত মায়ের কাছ থেকেও শিশুর শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। প্রতিরোধে নিরাপদ যৌন আচরণ, পরীক্ষিত রক্ত গ্রহণ, অন্যের ব্যবহৃত সুঁই বা সিরিঞ্জ ব্যবহার না করা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
চিকিৎসকদের মতে, এইচআইভি নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার ও বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি আক্রান্ত ব্যক্তিদের দ্রুত শনাক্ত করে চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের আওতায় আনতে পারলে সংক্রমণ অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।



















