ভিডিও বিতর্কের জেরে এমপি গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ
- প্রকাশের সময় : ০৪:৫৬:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
- / 27
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে শ্যামনগরে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শ্যামনগর সচেতন নাগরিক সমাজের ব্যানারে আয়োজিত কর্মসূচিতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা স্থানীয় বাসিন্দা, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শ্যামনগর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন ও সমাবেশে মিলিত হয়।
বিক্ষোভকারীদের হাতে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের ছবি ও প্রতীকী ঝাড়ু দেখা যায়। এ সময় তারা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উপজেলা মহিলা দলের সভানেত্রী নুরজাহান পারভীন ঝর্ণা বলেন, নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম আমজাদ বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ না হয়ে বরং একের পর এক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের পাশাপাশি সংসদ সদস্যকে পদ থেকে অপসারণের দাবি জানান।
নাগরিক নেতা অধ্যাপক আবু সাইদ বলেন, একজন জনপ্রতিনিধির প্রতি মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, তা ক্ষুণ্ন হয়েছে। তিনি সত্য উদঘাটন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
নাগরিক নেতা আশেক ই এলাহি মুন্না বলেন, প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে দাবি করা হলেও পরবর্তীতে আরও ভিডিও প্রকাশের পর নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তিনি বলেন, পরে সংসদ সদস্য তার ফেসবুক বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর আরও একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাকে একটি বাড়িতে স্থানীয়দের হাতে ধরা পড়তে দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনায় শ্যামনগরের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
সমাবেশে উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবির, জেলা বিএনপির সদস্য অ্যাডভোকেট আশেক ই এলাহি মুন্না, উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদুল আলম, চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, যুবদলের আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম দুলুসহ স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মসূচি চলাকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এলাকায় অবস্থান নেন। তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে, সমাবেশে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম বা তার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।






















