শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে জবি ছাত্রশিবিরের তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ সম্পন্ন
- প্রকাশের সময় : ০৯:২৪:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 7
নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ক্যাম্পাস। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের (২১ ব্যাচ) শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিতে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা তিন দিনব্যাপী নবীনবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রবিবার (২৮ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ আয়োজন মঙ্গলবার (৩০ জুন) শেষ হয়।
প্রথম দিনে কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়। দ্বিতীয় দিনে ব্যবসায় শিক্ষা ও চারুকলা অনুষদ এবং তৃতীয় দিনে বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
আয়োজকদের দাবি, প্রতিটি সেশনেই নবীন শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কেন্দ্রীয় মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ ছিল। শিক্ষার্থীরা পূর্বনির্ধারিত গুগল ফর্মের মাধ্যমে নিবন্ধন করে অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
প্রথম দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন। তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য নয়, বরং নিজেকে সৎ, দক্ষ ও আদর্শবান মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ, সত্য ও ন্যায়ের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। তিনি বলেন, শুধু স্লোগান, মিছিল-মিটিং বা আনন্দ-উৎসবের মাধ্যমে একটি জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়; মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার সমন্বয়ই একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দিতে পারে।
দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা। তিনি নবীনদের উদ্দেশে বলেন, ভালো ফলাফলের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত দক্ষতা, নেতৃত্বগুণ ও নৈতিক মূল্যবোধ অর্জন করতে হবে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগে নিজেদের দক্ষ করে গড়ে তোলার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, জনগণের করের অর্থে পরিচালিত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উচিত নিজেদের মেধা ও যোগ্যতাকে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানো।
প্যানেল আলোচনায় ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. বিলাল হোসাইন শিক্ষার্থীদের দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি ব্যক্তিগত জীবনে সততা, নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ অনুসরণের পরামর্শ দেন।
তৃতীয় দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা। তিনি বলেন, কঠিন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীদের এখন যোগ্য ও দক্ষ হয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করা উচিত।
প্যানেল আলোচনায় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় গবেষণা সম্পাদক মো. ফখরুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি উন্মুক্ত পরিবেশ, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিজেদের ভালো বা খারাপ—যেকোনো পথে পরিচালিত করতে পারে। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির চায় শিক্ষার্থীরা সৎ, যোগ্য ও আদর্শবান নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক।
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী মো. সুলেট বলেন, এ আয়োজনের মাধ্যমে নতুন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা প্রথমবারের মতো একত্রিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে ব্যাগ, কলম, কুরআন শরীফসহ বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়েছে এবং বক্তাদের ক্যারিয়ারবিষয়ক আলোচনা তাঁদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।
তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আব্দুল আলিম আরিফের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ও জাকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিলের সঞ্চালনায় বিভিন্ন অতিথি, শিক্ষক, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নবীন শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।














