Dhaka ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে ৭ নভেম্বর সাধারণ ছুটির প্রস্তাব অনুমোদন পত্নীতলায় ১৩০ ট্যাপেন্টাডলসহ যুবক গ্রেফতার রাণীনগরে সরকারি চাল জব্দের সংবাদ সংগ্রহে সাংবাদিককে হুমকি-লাঞ্ছিতের অভিযোগ রাজবাড়ীতে বিশ্ব শিক্ষক দিবসে পাঁচ গুণী শিক্ষক সংবর্ধিত রাজবাড়ীতে বিশ্ব বসতি দিবসে আলোচনা সভা শিক্ষকতাকে মেধাবীদের প্রথম পছন্দের পেশা করতে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিএসএফ

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬
  • / 107

 

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই সেসব স্থানের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএসএফের সাবেক মহাপরিচালক এবং পদ্মশ্রী পদকধারী প্রকাশ সিং এটিকে ‘নির্বোধ’ আইডিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এমন কিছু করলে এটি বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, কুমির আর সাপ কীভাবে বুঝবে কারা বাংলাদেশি আর কারা ভারতীয়। কে এমন প্রস্তাব দিয়েছে আমি জানি না, এটি নির্বোধ একটি আইডিয়া।

বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের উদাসীনতার কারণে অনেক বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। তারা নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করে। তখনই বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এমন অদুভুত প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএসএফের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেছেন, এই প্রস্তাবটি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা যায় সেটির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিএসএফকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাহিনীটির এক কর্মকর্তা বলেছেন, “নদী তীরবর্তী ও অন্যান্য দুর্গম জলাভূমিতে বিষধর এসব প্রাণী ছাড়া নিয়ে বিএসএফও দ্বিধাবিভক্ত। কিছু কর্মকর্তা এটির বিরোধীতা জানিয়েছেন। কারণ এটি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বন্যার সময়। আগামী সপ্তাহে এ ইস্যু নিয়ে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।”

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব অঞ্চল দুর্গম, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা যেতে পারেন না, সেসব জায়গায় এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। তার দাবি দুই দেশের মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অঞ্চল রয়েছে যেগুলো নদী ও দুর্গম অঞ্চল।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বাংলাদেশ সীমান্তে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত বিএসএফ

প্রকাশের সময় : ০৭:২৪:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

 

বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তবর্তী যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই সেসব স্থানের নদীতে কুমির ও সাপ ছাড়ার প্রস্তাব দিয়েছে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তবে মন্ত্রণালয়ের এ প্রস্তাব নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে।

বিএসএফের সাবেক মহাপরিচালক এবং পদ্মশ্রী পদকধারী প্রকাশ সিং এটিকে ‘নির্বোধ’ আইডিয়া হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এমন কিছু করলে এটি বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলবে। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, কুমির আর সাপ কীভাবে বুঝবে কারা বাংলাদেশি আর কারা ভারতীয়। কে এমন প্রস্তাব দিয়েছে আমি জানি না, এটি নির্বোধ একটি আইডিয়া।

বর্তমানে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় আছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের উদাসীনতার কারণে অনেক বাংলাদেশি ভারতে অনুপ্রবেশ করেন বলে অভিযোগ করে বিজেপি নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার। তারা নির্বাচনের আগে এ বিষয়টি নিয়ে মাতামাতি করে। তখনই বাংলাদেশিদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এমন অদুভুত প্রস্তাব দেয় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বিএসএফের একটি ঊর্ধ্বতন সূত্র টেলিগ্রাফকে বলেছেন, এই প্রস্তাবটি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে এসেছে। এটি কীভাবে কার্যকর করা যায় সেটির সম্ভাব্যতা যাচাই করতে বিএসএফকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বাহিনীটির এক কর্মকর্তা বলেছেন, “নদী তীরবর্তী ও অন্যান্য দুর্গম জলাভূমিতে বিষধর এসব প্রাণী ছাড়া নিয়ে বিএসএফও দ্বিধাবিভক্ত। কিছু কর্মকর্তা এটির বিরোধীতা জানিয়েছেন। কারণ এটি সীমান্তবর্তী মানুষের জীবনকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। বিশেষ করে বন্যার সময়। আগামী সপ্তাহে এ ইস্যু নিয়ে আরেকটি বৈঠক ডাকা হয়েছে।”

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৪ হাজার ৯৬ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত আছে। ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেছেন, যেসব অঞ্চল দুর্গম, বিশেষ করে নদী তীরবর্তী, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা যেতে পারেন না, সেসব জায়গায় এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের ব্যাপারে কথা হচ্ছে। তার দাবি দুই দেশের মধ্যে ১৭৫ কিলোমিটার সীমান্তবর্তী অঞ্চল রয়েছে যেগুলো নদী ও দুর্গম অঞ্চল।

সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া