Dhaka ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুধু খাল আর গাছ দিয়ে প্রকৃতি সম্পূর্ণ হয় না, জীববৈচিত্র্যও দরকার আছে

নুর হাসান নাহিদ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
  • / 23

৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে সাপে কাঁটার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এন্টিভেনম না থাকায় জেলা সদরে যাওয়ার পথেই ঘটে মৃত্যু।
এন্টিভেনম থাকলেই কি বেঁচে যেতো?
এবার আসেন কিছু বাস্তবতা তুলে ধরি,
১। হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশ আছে প্রতিটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরে বাধ্যতামূলক এন্টিভেনম মজুদ থাকার। কিন্তু সেটা নির্দেশ পর্যন্তই আছে, বাস্তবায়ন নাই।
২। এন্টিভেনম আমদানিনির্ভর। প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে পলিভ্যালেন্ট এন্টিভেনম আমদানি করা হয়। সেটাও চাহিদার তূলনায় অনেক কম। তার উপর যদি কোন কারণে আমদানি থেমে যায়, তাহলে পুরোদেশেই এন্টিভেনম ক্রাইসিস তৈরী হয়।
৩। বাংলাদেশে একটা প্রতিষ্ঠান আছে “Venom Research Center” নামে। যেটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়, বাজেটও পায়। কিন্তু রিসার্চ করে এখনও দেশে এন্টিভেনম উৎপাদন করতে পারেনি।
কেনো পারেনি? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দূর্নীতি কারণে? নাকি কোন ফার্মা সিন্ডিকেটের প্রভাবে? জানিনা।
৪। সাপে কাঁটা রোগীর চিকিৎসার জন্য শুধু এন্টিভেনম হলেই হয় না। আইসিইউ সহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরও প্রয়োজন হয়। যা উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায় না। তাই এন্টিভেনম থাকলেও অনেক সময় রোগীকে ভর্তি না দিয়েই জেলাতে রেফার করে দেওয়া হয়।
৫। আইসিইউ ছাড়াও রোগীর চিকিৎসা করা যায়। সবক্ষেত্রে আইসিইউ লাগে ব্যাপারটা তা নয়। বিষের মাত্রা, রোগীর কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে।
স্বাভাবিকভাবে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারই যথেষ্ট চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আমাদের উপজেলা পর্যায়ে তেমন ডাক্তার কমই পাওয়া যায়। স্নেক বাইট পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের ডাক্তারদের পর্যাপ্ত ট্রেইনড আপ করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসতো। তাহলে কেনো হচ্ছে না? জানিনা।

সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাল খননের প্রকল্প নিয়েছে। খুবই ভালো। এপ্রিশিয়েট করি। তবে সরকার মহোদয়ের এটাও জ্ঞাত থাকা উচিৎ, শুধু খাল আর গাছ দিয়ে প্রকৃতি সম্পূর্ণ হয় না। জীববৈচিত্র্যও দরকার আছে।

আর জীববৈচিত্র্য ভালো রাখতে হলে মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে হবে। সেক্ষেত্রে সবার আগে দরকার, সাপে কাঁটার সুচিকিৎসা। মানুষ সাপের কাঁমড় খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মা*রা গেলে, সাপের প্রতি নিশ্চয় কেউ দরদ দেখাবে না।

আর সাপ ছাড়া ইকোসিস্টেমের ধ্বংস, পরিবেশের ক্ষতি, কৃষির ক্ষতি। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ–
সাপে কাঁটার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে, দেশেই এন্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিন। প্রতিটা উপজেলায় সাপে কাঁটার চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ডাক্তার নিশ্চিত করুন।
এই লেখা কতদূর পৌছবে জানিনা। তবে যাদের কাছে পৌছবে তারাই যদি আওয়াজ তোলেন, তাহলে হয়তো সম্ভব ইন’শা-আল্লাহ।

লেখক: বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শুধু খাল আর গাছ দিয়ে প্রকৃতি সম্পূর্ণ হয় না, জীববৈচিত্র্যও দরকার আছে

প্রকাশের সময় : ০৯:২২:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

৫ বছরের একটা বাচ্চা মেয়েকে সাপে কাঁটার পর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। এন্টিভেনম না থাকায় জেলা সদরে যাওয়ার পথেই ঘটে মৃত্যু।
এন্টিভেনম থাকলেই কি বেঁচে যেতো?
এবার আসেন কিছু বাস্তবতা তুলে ধরি,
১। হাইকোর্ট কর্তৃক নির্দেশ আছে প্রতিটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদরে বাধ্যতামূলক এন্টিভেনম মজুদ থাকার। কিন্তু সেটা নির্দেশ পর্যন্তই আছে, বাস্তবায়ন নাই।
২। এন্টিভেনম আমদানিনির্ভর। প্রতিবেশি দেশ ভারত থেকে পলিভ্যালেন্ট এন্টিভেনম আমদানি করা হয়। সেটাও চাহিদার তূলনায় অনেক কম। তার উপর যদি কোন কারণে আমদানি থেমে যায়, তাহলে পুরোদেশেই এন্টিভেনম ক্রাইসিস তৈরী হয়।
৩। বাংলাদেশে একটা প্রতিষ্ঠান আছে “Venom Research Center” নামে। যেটা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত হয়, বাজেটও পায়। কিন্তু রিসার্চ করে এখনও দেশে এন্টিভেনম উৎপাদন করতে পারেনি।
কেনো পারেনি? সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দূর্নীতি কারণে? নাকি কোন ফার্মা সিন্ডিকেটের প্রভাবে? জানিনা।
৪। সাপে কাঁটা রোগীর চিকিৎসার জন্য শুধু এন্টিভেনম হলেই হয় না। আইসিইউ সহ বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরও প্রয়োজন হয়। যা উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাওয়া যায় না। তাই এন্টিভেনম থাকলেও অনেক সময় রোগীকে ভর্তি না দিয়েই জেলাতে রেফার করে দেওয়া হয়।
৫। আইসিইউ ছাড়াও রোগীর চিকিৎসা করা যায়। সবক্ষেত্রে আইসিইউ লাগে ব্যাপারটা তা নয়। বিষের মাত্রা, রোগীর কন্ডিশনের উপর নির্ভর করে।
স্বাভাবিকভাবে একজন অভিজ্ঞ ডাক্তারই যথেষ্ট চিকিৎসার জন্য। কিন্তু আমাদের উপজেলা পর্যায়ে তেমন ডাক্তার কমই পাওয়া যায়। স্নেক বাইট পেশেন্ট ম্যানেজমেন্ট নিয়ে উপজেলা পর্যায়ের ডাক্তারদের পর্যাপ্ত ট্রেইনড আপ করা হলে এ সমস্যা অনেকটাই কমে আসতো। তাহলে কেনো হচ্ছে না? জানিনা।

সরকার ২৫ কোটি গাছ লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে। খাল খননের প্রকল্প নিয়েছে। খুবই ভালো। এপ্রিশিয়েট করি। তবে সরকার মহোদয়ের এটাও জ্ঞাত থাকা উচিৎ, শুধু খাল আর গাছ দিয়ে প্রকৃতি সম্পূর্ণ হয় না। জীববৈচিত্র্যও দরকার আছে।

আর জীববৈচিত্র্য ভালো রাখতে হলে মানুষের সাথে বন্যপ্রাণীর সংঘাত কমাতে হবে। সেক্ষেত্রে সবার আগে দরকার, সাপে কাঁটার সুচিকিৎসা। মানুষ সাপের কাঁমড় খেয়ে বিনা চিকিৎসায় মা*রা গেলে, সাপের প্রতি নিশ্চয় কেউ দরদ দেখাবে না।

আর সাপ ছাড়া ইকোসিস্টেমের ধ্বংস, পরিবেশের ক্ষতি, কৃষির ক্ষতি। তাই সরকারের প্রতি অনুরোধ–
সাপে কাঁটার সুচিকিৎসা নিশ্চিতে, দেশেই এন্টিভেনম উৎপাদনের উদ্যোগ নিন। প্রতিটা উপজেলায় সাপে কাঁটার চিকিৎসায় অভিজ্ঞ ডাক্তার নিশ্চিত করুন।
এই লেখা কতদূর পৌছবে জানিনা। তবে যাদের কাছে পৌছবে তারাই যদি আওয়াজ তোলেন, তাহলে হয়তো সম্ভব ইন’শা-আল্লাহ।

লেখক: বন্যপ্রাণী উদ্ধারকর্মী
(লেখকের ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত)