Dhaka ০৫:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ১ মাসের ক্ষমতা চাইলেন মাহবুব কবীর মিলন ঝিনাইদহে জামায়াতে জেলা রুকন সম্মেলনে অনুষ্ঠিত ইজিবাইকে লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি প্রতিস্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বাবার ফোনে লাইভ লোকেশন পাঠিয়েছিল তাজমিন, সেই লোকেশনে গিয়ে পান লাশ নিউমুরিং টার্মিনাল চুক্তিকে দেশ বিক্রির সঙ্গে তুলনা করা সম্পূর্ণ অমূলক: বাণিজ্যমন্ত্রী মেজর নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড সরাসরি সম্প্রচার করবে যুক্তরাষ্ট্র শান্তিতে নোবেল পেলেন মানবাধিকারকর্মী নাভি পিলাই সেঞ্চুরি হাতছাড়া তানজিদের, বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ১৩৪ ১২ লাখ রোহিঙ্গার দায়িত্ব একা বাংলাদেশের পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়: আইনমন্ত্রী চট্টগ্রামে দেশের প্রথম সাইকেল ট্র্যাক চালু

ভুলে যাই আমরা, ভুলে যায় গণমাধ্যমও!

নাহিদুর রহমান হিমেল
  • প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 300
সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনা ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছিল। তখন সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছিল হাসপাতালটি। অপারেশন থিয়েটারে সুন্নতে খতনা করাতে দীর্ঘসময় অচেতন রাখা হয়েছিল আয়ানকে। এই সময়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতকলমে কাজ শেখানো হচ্ছিল থিয়েটারের ভেতরেই। পরে আর জ্ঞান ফেরেনি আয়ানের।
সেসময় ব্যাপক আলোচনায় ছিল বিষয়টি। এখন অনেকে ভুলে গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো ঘটনা আলোচনায় চলে আসলে মিডিয়া সেটার পেছনেই লেগে থাকে কয়েকদিন। এরপর ভুলে যায়/ছেড়ে দেয়। এখনকার অধিকাংশ মিডিয়াই ভিউ ব্যবসায় বিশ্বাসী।
আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গতকাল ওই হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অনেক গণমাধ্যম এখবরটি হয়তো ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এমনকি শুরু থেকেই তারা এই পরিবারকে সহযোগিতা করেছে নানা বিষয়ে।
ওই হাসপাতালে ওই ঘটনারও আগে থেকে আমি আমার বাচ্চাকে দেখাতাম। একজন ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন যাকে এখনো আমার বাচ্চাদের দেখাই। কিন্তু কিছুদিন আগে আমি আমার এক নিকটআত্মীয়কে সেখানে নাক কান গলা বিভাগের একজন ডাক্তারকে দেখাই। প্রথম দিনেই সেখানে মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল এবং তাদের একজনকে দিয়ে ওই ডাক্তার প্রেসক্রিমশন লেখান। কিছু টেস্ট লিখে দিয়ে পরেরদিন দেখা করতে বলেন। বিষয়টি প্রথমদিন হওয়ায় আমি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলাম কিন্তু দ্বিতীয় দিনেও টেস্ট রিপোর্ট দেখানোর সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। রোগীকে বসিয়ে রেখে আরো একজন শিক্ষার্থীকে ডাকার চেষ্টা করা হয়। আগের দিনের মতোই স্টুডেন্ট দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখানো হয়। রিপোর্ট নিয়ে রোগী বা রোগীর স্বজনের সাথে কোনো কথা বলেনি ডাক্তার। রোগীর বিষয়ে কয়েকবার ডাক্তারের মোনোযোগ আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব না দিয়ে ওষুধ লিখে একজন কার্ডিলজিস্ট দেখাতে বলেন। তবে কেন কার্ডিলজিস্ট দেখাতে হবে সেটিও তিনি বলার প্রয়োজন মনে করেননি। বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজের হটলাইনে অভিযোগ জানানো হলে তারা তেমন গুরুত্ব দিতে চায়নি প্রথমে। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেওয়ার পর গুরুত্ব দিলেন। এরপর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ফোন করে বিষয়টির জন্য বারবার দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেন। ভবিষ্যৎতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিলেন!
Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভুলে যাই আমরা, ভুলে যায় গণমাধ্যমও!

প্রকাশের সময় : ০৫:২৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সুন্নতে খতনা করাতে গিয়ে শিশু আয়ানের মৃত্যু হয়েছিল। ঘটনা ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর। রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুলে ইউনাইটেড মেডিক্যাল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছিল। তখন সবেমাত্র যাত্রা শুরু করেছিল হাসপাতালটি। অপারেশন থিয়েটারে সুন্নতে খতনা করাতে দীর্ঘসময় অচেতন রাখা হয়েছিল আয়ানকে। এই সময়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের হাতকলমে কাজ শেখানো হচ্ছিল থিয়েটারের ভেতরেই। পরে আর জ্ঞান ফেরেনি আয়ানের।
সেসময় ব্যাপক আলোচনায় ছিল বিষয়টি। এখন অনেকে ভুলে গেছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে কোনো ঘটনা আলোচনায় চলে আসলে মিডিয়া সেটার পেছনেই লেগে থাকে কয়েকদিন। এরপর ভুলে যায়/ছেড়ে দেয়। এখনকার অধিকাংশ মিডিয়াই ভিউ ব্যবসায় বিশ্বাসী।
আয়ানের মৃত্যুর ঘটনায় করা মামলায় গতকাল ওই হাসপাতালের চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। অনেক গণমাধ্যম এখবরটি হয়তো ইচ্ছে করেই এড়িয়ে গেছে। আবার কোনো কোনো গণমাধ্যম গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে। এমনকি শুরু থেকেই তারা এই পরিবারকে সহযোগিতা করেছে নানা বিষয়ে।
ওই হাসপাতালে ওই ঘটনারও আগে থেকে আমি আমার বাচ্চাকে দেখাতাম। একজন ভালো শিশু বিশেষজ্ঞ আছেন যাকে এখনো আমার বাচ্চাদের দেখাই। কিন্তু কিছুদিন আগে আমি আমার এক নিকটআত্মীয়কে সেখানে নাক কান গলা বিভাগের একজন ডাক্তারকে দেখাই। প্রথম দিনেই সেখানে মেডিকেল কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল এবং তাদের একজনকে দিয়ে ওই ডাক্তার প্রেসক্রিমশন লেখান। কিছু টেস্ট লিখে দিয়ে পরেরদিন দেখা করতে বলেন। বিষয়টি প্রথমদিন হওয়ায় আমি স্বাভাবিকভাবেই নিয়েছিলাম কিন্তু দ্বিতীয় দিনেও টেস্ট রিপোর্ট দেখানোর সময় কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিল। রোগীকে বসিয়ে রেখে আরো একজন শিক্ষার্থীকে ডাকার চেষ্টা করা হয়। আগের দিনের মতোই স্টুডেন্ট দিয়ে প্রেসক্রিপশন লেখানো হয়। রিপোর্ট নিয়ে রোগী বা রোগীর স্বজনের সাথে কোনো কথা বলেনি ডাক্তার। রোগীর বিষয়ে কয়েকবার ডাক্তারের মোনোযোগ আকর্ষণ করা হলেও তিনি কোনো গুরুত্ব না দিয়ে ওষুধ লিখে একজন কার্ডিলজিস্ট দেখাতে বলেন। তবে কেন কার্ডিলজিস্ট দেখাতে হবে সেটিও তিনি বলার প্রয়োজন মনে করেননি। বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল কলেজের হটলাইনে অভিযোগ জানানো হলে তারা তেমন গুরুত্ব দিতে চায়নি প্রথমে। গণমাধ্যমকর্মী পরিচয় দেওয়ার পর গুরুত্ব দিলেন। এরপর একজন সিনিয়র কর্মকর্তা ফোন করে বিষয়টির জন্য বারবার দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চাইলেন। ভবিষ্যৎতে এমন ঘটনা আর ঘটবে না বলেও প্রতিশ্রুতি দিলেন!