জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন প্রসিকিউশনের
- প্রকাশের সময় : ০৬:৪১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬
- / 162
আওয়ামী লীগ শাসনামলে শতাধিক গুম ও খুনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আবেদন করেছে প্রসিকিউশন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে এ আবেদন জানানো হয়।
রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে শুনানিতে আবেদনটি করেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ পড়ে শোনান এবং এসব অভিযোগে ১০৩ জনকে গুম ও খুনের বর্ণনা তুলে ধরেন। এ সংক্রান্ত ভিডিও প্রমাণও রয়েছে বলে ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। পরে মামলার একমাত্র আসামির বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন করেন তিনি।
শুনানিতে প্রসিকিউশনের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী ও সহিদুল ইসলাম সরদার। আসামিপক্ষে আইনজীবী হিসেবে লড়াই করেন জিয়াউল আহসানের বোন নাজনীন নাহার। তিনি প্রসিকিউশনের কাছে ভিডিও প্রমাণ সরবরাহের আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনালে দাখিলের পর ভিডিও দেওয়া হবে বলে জানায় প্রসিকিউশন। সবকিছু পর্যালোচনা করে আসামির অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করবেন বলে জানান নাজনীন নাহার। এ বিষয়ে আগামী ৮ জানুয়ারি শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এর আগে সকালে কারাগার থেকে জিয়াউল আহসানকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয় এবং দুপুরের পর মামলার শুনানি শুরু হয়। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত ২৩ ডিসেম্বর তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন আদালত। এরও আগে ১৭ ডিসেম্বর তার বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল এবং একই দিন প্রসিকিউশন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে।
উল্লেখ্য, জিয়াউল আহসান সর্বশেষ ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তখন থেকেই তিনি কারাগারে রয়েছেন।
























