এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী

- প্রকাশের সময় : ০৯:১৩:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
- / 59
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) চলমান আন্দোলন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন দুই শতাধিক কর্মকর্তা ও কর্মচারী। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত রাজস্ব ভবনে ব্যাচভিত্তিক সাক্ষাতে তাঁরা এই অনুশোচনা প্রকাশ করেন।
এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ক্ষমা চাওয়াদের মধ্যে ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এমন কর্মকর্তারাও রয়েছেন। আয়কর বিভাগের ক্যাডার কর্মকর্তারা ব্যাচভিত্তিক দেখা করে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে শৃঙ্খলা বজায় রেখে রাজস্ব আদায়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার করেন।
বিশেষ করে ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৮ ও ৪০তম ব্যাচের কর্মকর্তারা এদিন উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সম্প্রতি পদোন্নতি পাওয়া প্রায় অর্ধশতাধিক কর্মকর্তা চেয়ারম্যানের সঙ্গে দেখা করে কৃতজ্ঞতা জানান এবং দেশ ও জাতির স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, “সবার উচিত দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে রাজস্ব আদায়ে মনোযোগী হওয়া। দায়িত্বশীল আচরণ ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখলে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।”
এর আগে সোমবার (৭ জুলাই)ও কয়েক দফায় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে আন্দোলনকারীদের মধ্যে অনেকেই ক্ষমা চান বলে জানা গেছে।
চলমান প্রেক্ষাপটে এনবিআর চেয়ারম্যান আরও বলেন, “কেউ কেউ সীমা লঙ্ঘন করেছে, তাদের বিষয়ে ভিন্নভাবে ভাবা হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আমি মনে করি—সবার আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। রাজস্ব আদায়ে যারা কর্মরত, তারাই তো দায়িত্ব পালন করবে। ঝামেলার মধ্যেও তারা রাজস্ব আদায় করেছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।”
প্রসঙ্গত, গত ১২ মে সরকার একটি অধ্যাদেশ জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) বিলুপ্ত করে ‘রাজস্ব নীতি বিভাগ’ ও ‘রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ’ নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠন করে। এর প্রতিবাদে কলম বিরতি, পূর্ণ কর্মবিরতি এবং ‘কমপ্লিট শাটডাউন’সহ একাধিক কর্মসূচি পালন করে এনবিআরের কর্মকর্তারা।
তবে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর অনুরোধে এবং আমদানি-রপ্তানি ও সাপ্লাই চেইনের স্বাভাবিকতা রক্ষায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। পরে সাময়িক বরখাস্ত, বাধ্যতামূলক অবসর এবং বেশ কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের অনুসন্ধান শুরুর ঘটনায় এনবিআরের বিভিন্ন স্তরে চাপা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
























