Dhaka ০৭:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভারতে নানা জটিলতা; বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ ঢালছে চীন

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫
  • / 91

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সখ্যতা বহুদিন ধরে দেশটিতে চিকিৎসা ভ্রমণে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবছর লক্ষাধিক বাংলাদেশি ভারত যান উন্নত চিকিৎসার আশায়। ২০১৯ সালে ভারত ভ্রমণকারী ২৫ লাখ বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই গিয়েছিলেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয় গণআন্দোলনের মুখে পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া নেমে আসে। ভারতীয় মেডিকেল ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় হাইকমিশন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও এক কর্মকর্তা নিক্কেই এশিয়াকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, চিকিৎসা ভিসার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে এক-চতুর্থাংশে।

হয়তো এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে চীন। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের দরজা খুলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অসংখ্য রোগীর জন্য।

গায়ক হায়দার হোসেন সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য চীন সফর করেছেন। তিনি দেশটির সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, খরচ খুব বেশি হয়নি — পাঁচ দিনের যাত্রায় আমার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,০০০ ডলার।

এদিকে একাধিকবার চিকিৎসা ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্যান্সারের রোগী মো. আব্দুর রহমান বলেন, “আমি হতাশ। এখন বাংলাদেশেই চিকিৎসা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ইতিমধ্যে চীন বাংলাদেশের রোগীদের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে এবং নতুন ফ্লাইট চালু করেছে। গায়ক হায়দার হোসেনসহ প্রথম দলটি কুনমিং শহরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শাহাবুল হক বলেন, “চীনের কৌশলগত পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।”

ভারতের চিকিৎসা ভিসা কমে যাওয়ায় এখন অনেক বাংলাদেশি চীনমুখী হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবার জন্য। চীন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ফ্লাইট চালু করেছে এবং ইউনান প্রদেশে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উপলক্ষে চীন বাংলাদেশে একটি ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল উপহার দেবে এবং আরও তিনটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত এখনও দুর্বল। ২০১৯ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ, অথচ সরকারি হাসপাতালে ছিল মাত্র ৫৪,৬৬০টি শয্যা। বাংলাদেশিরা প্রতিবছর চিকিৎসা বাবদ বিদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন, যা উন্নত হাসপাতাল ব্যবস্থা গড়ে তুললে অনেকটা সাশ্রয়ী হতে পারে। চীনের বিনিয়োগ শুধু হাসপাতাল নয়, ওষুধ শিল্প, কাঁচামাল উৎপাদন ও যন্ত্রপাতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

ভারতে নানা জটিলতা; বাংলাদেশিদের স্বাস্থ্যসেবায় অর্থ ঢালছে চীন

প্রকাশের সময় : ১০:১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ মে ২০২৫

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক সখ্যতা বহুদিন ধরে দেশটিতে চিকিৎসা ভ্রমণে বড় ভূমিকা রেখেছে। প্রতিবছর লক্ষাধিক বাংলাদেশি ভারত যান উন্নত চিকিৎসার আশায়। ২০১৯ সালে ভারত ভ্রমণকারী ২৫ লাখ বাংলাদেশির মধ্যে প্রায় ১৫ শতাংশই গিয়েছিলেন চিকিৎসার উদ্দেশ্যে। কিন্তু ২০২৪ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনপ্রিয় গণআন্দোলনের মুখে পতনের পর দুই দেশের সম্পর্কে ছায়া নেমে আসে। ভারতীয় মেডিকেল ভিসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। ভারতীয় হাইকমিশন আনুষ্ঠানিক বিবৃতি না দিলেও এক কর্মকর্তা নিক্কেই এশিয়াকে অনানুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, চিকিৎসা ভিসার সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে এক-চতুর্থাংশে।

হয়তো এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চাচ্ছে চীন। ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যে চীনের দরজা খুলে যাচ্ছে বাংলাদেশের অসংখ্য রোগীর জন্য।

গায়ক হায়দার হোসেন সম্প্রতি চিকিৎসার জন্য চীন সফর করেছেন। তিনি দেশটির সাশ্রয়ী ও মানসম্পন্ন চিকিৎসা সেবা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম নিক্কেই এশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, খরচ খুব বেশি হয়নি — পাঁচ দিনের যাত্রায় আমার ব্যয় হয়েছে প্রায় ১,০০০ ডলার।

এদিকে একাধিকবার চিকিৎসা ভিসা প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্যান্সারের রোগী মো. আব্দুর রহমান বলেন, “আমি হতাশ। এখন বাংলাদেশেই চিকিৎসা নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ইতিমধ্যে চীন বাংলাদেশের রোগীদের জন্য দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইউনান প্রদেশে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে এবং নতুন ফ্লাইট চালু করেছে। গায়ক হায়দার হোসেনসহ প্রথম দলটি কুনমিং শহরে চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এবং বাংলাদেশ-চীন অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ড. মো. শাহাবুল হক বলেন, “চীনের কৌশলগত পদক্ষেপ আঞ্চলিক স্বাস্থ্য কূটনীতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।”

ভারতের চিকিৎসা ভিসা কমে যাওয়ায় এখন অনেক বাংলাদেশি চীনমুখী হচ্ছেন স্বাস্থ্যসেবার জন্য। চীন এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ফ্লাইট চালু করেছে এবং ইউনান প্রদেশে চারটি হাসপাতাল নির্ধারণ করেছে। শুধু তাই নয়, ৫০ বছরের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উপলক্ষে চীন বাংলাদেশে একটি ১,০০০ শয্যার হাসপাতাল উপহার দেবে এবং আরও তিনটি হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাত এখনও দুর্বল। ২০১৯ সালে দেশের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১৬ কোটি ৫০ লাখ, অথচ সরকারি হাসপাতালে ছিল মাত্র ৫৪,৬৬০টি শয্যা। বাংলাদেশিরা প্রতিবছর চিকিৎসা বাবদ বিদেশে ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেন, যা উন্নত হাসপাতাল ব্যবস্থা গড়ে তুললে অনেকটা সাশ্রয়ী হতে পারে। চীনের বিনিয়োগ শুধু হাসপাতাল নয়, ওষুধ শিল্প, কাঁচামাল উৎপাদন ও যন্ত্রপাতিতেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।