Dhaka ০৫:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পাঁচ বছরে বিএসএফের হাতে ১৫১ বাংলাদেশি নিহত

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১২:১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫
  • / 133

গত পাঁচ বছরে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে অন্তত ১৫১ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগেই মারা গেছেন ৬১ জন।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য মতে, রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলায়।
এই জেলায় পাঁচ বছরে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন ১৯ জন। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল সিংগীমারী সীমান্তে ঘাস কাটতে গেলে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে হাসিবুল নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

হাসিবুলের মা বলেন, ‘ওদের রাইফেলের মাথা দিয়ে বুক খুঁচিয়ে ছেলেকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
তারপর আটা বস্তার মতো ছুঁড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেছে।’

২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত হত্যা নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ১৩ বছর পার হলেও তার পরিবার আজও পায়নি ন্যায়বিচার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুরোধে দুই দেশের উচিত সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ত্বহা হুসাইন বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত যেসব চুক্তি আছে, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে—কেউ যদি অনুপ্রবেশ করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু প্রাণনাশ নয়।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে কেউ যাতে ঢুকতে না পারে এবং আমাদের নাগরিকরাও যেন তা অতিক্রম না করেন, তা নিশ্চিত করতে টহল অব্যাহত রয়েছে।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

পাঁচ বছরে বিএসএফের হাতে ১৫১ বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশের সময় : ১২:১২:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল ২০২৫

গত পাঁচ বছরে সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে অন্তত ১৫১ বাংলাদেশি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে রংপুর বিভাগেই মারা গেছেন ৬১ জন।

বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ তথ্য জানিয়েছে।

সংস্থাটির তথ্য মতে, রংপুর বিভাগের ছয়টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে লালমনিরহাট জেলায়।
এই জেলায় পাঁচ বছরে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন ১৯ জন। সর্বশেষ গত ১৭ এপ্রিল সিংগীমারী সীমান্তে ঘাস কাটতে গেলে বাংলাদেশ অংশে ঢুকে হাসিবুল নামের এক যুবককে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। পরে তাকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার পরিবার।

হাসিবুলের মা বলেন, ‘ওদের রাইফেলের মাথা দিয়ে বুক খুঁচিয়ে ছেলেকে ক্ষতবিক্ষত করেছে।
তারপর আটা বস্তার মতো ছুঁড়ে গাড়িতে তুলে নিয়ে চলে গেছে।’

২০১১ সালে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে কিশোরী ফেলানী হত্যাকাণ্ডের পর সীমান্ত হত্যা নিয়ে দেশজুড়ে প্রতিবাদ হলেও পরিস্থিতির তেমন কোনো উন্নতি হয়নি। ১৩ বছর পার হলেও তার পরিবার আজও পায়নি ন্যায়বিচার।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের মৃত্যুরোধে দুই দেশের উচিত সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ওপর জোর দেওয়া।

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ত্বহা হুসাইন বলেন, সীমান্ত সংক্রান্ত যেসব চুক্তি আছে, সেখানে স্পষ্টভাবে বলা রয়েছে—কেউ যদি অনুপ্রবেশ করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে, কিন্তু প্রাণনাশ নয়।

এ বিষয়ে ১৫ বিজিবির লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম বলেন, সীমান্তের জিরো লাইনের ১৫০ গজের মধ্যে কেউ যাতে ঢুকতে না পারে এবং আমাদের নাগরিকরাও যেন তা অতিক্রম না করেন, তা নিশ্চিত করতে টহল অব্যাহত রয়েছে।’