Dhaka 12:55 pm, Friday, 2 December 2022

গোয়ালন্দে ছাত্রলীগে কোন্দল

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : 08:48:14 pm, Monday, 18 July 2022
  • / 1099 জন সংবাদটি পড়েছেন

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ক্ষমতাসীন দলের আভ্যন্তরীন কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে। হামলা, মামলা ও বহিষ্কারের মধ্যদিয়ে বর্তমানে উপজেলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেচজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদের ফেস্টুন সরিয়ে সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয়ের ফেস্টুন স্থাপনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের অফিসে গেলে সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারন করে। এ ঘটনার জের ধরে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনকে তাদের উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সদস্য পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

গত ১২ জুলাই স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গত ১৬ জুলাই রাতে গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের ফেসবুক আইডি হতে প্রকাশ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ তুহিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয় স্বাক্ষর করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন রিদয় বলেন, গত ৯ জুলাই রাত ৯টার দিকে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রাতুল আহম্মেদ,  সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনের নেতৃত্বে ১২/১৩ জন গোয়ালন্দ বাজারে আমার ব্যাক্তিগত অফিসে হামলা করে। এ বিষয়ে গত ১০ জুলাই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় আমি তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি।

এ ঘটনার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত ক্রমে গত ১২ জুলাই পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনকে তাদের উপজেলা ছাত্রলীগের দলীয় সাধারণ সদস্য পদ হতে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এবং স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ বলেন, মিথ্যা মামলা দেয়ার পর তারা আমাদের বহিষ্কারের কথা বলছে। যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী হয়েছে। আমাদের সমস্যা নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ১২ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কাজ চলমান থাকায় এবং তারা ছাত্রলীগের সকল কর্মকান্ড স্থগিত করায় আমরা কোন ধরনের কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। অথচ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে সাংবাদিক সম্মেলন, কোন সভা না করেই আমাদের বহিষ্কার করা সহ একের পর এক কর্মকান্ড করে চলেছে। এতে করে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুধু তাই না, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চাই।

এদিকে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উভয় কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এমন জটিল পরিস্থিতিতে উভয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এরশাদ বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সদস্যকে ওই কমিটি বা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে জেলা কমিটির মাধ্যমে কোন সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে গেলে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। কিন্তু গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগ এ ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ ৩ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বলে ফেসবুকের মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি দুঃখজনক। তাছাড়া এ ক্ষেত্রে তারা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সভাও করেনি বলে শুনলাম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগের মধ্যে অস্থিতিশীলতা আরো বেড়ে যেতে পারে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

গোয়ালন্দে ছাত্রলীগে কোন্দল

প্রকাশের সময় : 08:48:14 pm, Monday, 18 July 2022

জনতার আদালত অনলাইন ॥ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ক্ষমতাসীন দলের আভ্যন্তরীন কোন্দল চরম আকার ধারন করেছে। হামলা, মামলা ও বহিষ্কারের মধ্যদিয়ে বর্তমানে উপজেলায় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মাঝে উত্তেচজনা বিরাজ করছে।

জানা যায়, গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদের ফেস্টুন সরিয়ে সেখানে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয়ের ফেস্টুন স্থাপনকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এরপর ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদকের অফিসে গেলে সেই উত্তেজনা চরম আকার ধারন করে। এ ঘটনার জের ধরে পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনকে তাদের উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সদস্য পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে উপজেলা ছাত্রলীগ।

গত ১২ জুলাই স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তি গত ১৬ জুলাই রাতে গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের ফেসবুক আইডি হতে প্রকাশ করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ তুহিন দেওয়ান ও সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয় স্বাক্ষর করেন।

গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন রিদয় বলেন, গত ৯ জুলাই রাত ৯টার দিকে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ রাতুল আহম্মেদ,  সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনের নেতৃত্বে ১২/১৩ জন গোয়ালন্দ বাজারে আমার ব্যাক্তিগত অফিসে হামলা করে। এ বিষয়ে গত ১০ জুলাই গোয়ালন্দ ঘাট থানায় আমি তাদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করি।

এ ঘটনার জন্য গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগের সিদ্ধান্ত ক্রমে গত ১২ জুলাই পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক আকাশ সাহা ও উপজেলা ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক মৃদুল হোসেনকে তাদের উপজেলা ছাত্রলীগের দলীয় সাধারণ সদস্য পদ হতে সাময়িক বহিষ্কার করা হয় এবং স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য কেন্দ্রীয় কমিটির নিকট সুপারিশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে গোয়ালন্দ পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি রাতুল আহমেদ বলেন, মিথ্যা মামলা দেয়ার পর তারা আমাদের বহিষ্কারের কথা বলছে। যা সম্পূর্ণভাবে ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী হয়েছে। আমাদের সমস্যা নিয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ গত ১২ জুলাই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কাজ চলমান থাকায় এবং তারা ছাত্রলীগের সকল কর্মকান্ড স্থগিত করায় আমরা কোন ধরনের কর্মসূচিতে যাচ্ছি না। অথচ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আবির হোসেন হৃদয় উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা করে সাংবাদিক সম্মেলন, কোন সভা না করেই আমাদের বহিষ্কার করা সহ একের পর এক কর্মকান্ড করে চলেছে। এতে করে ছাত্রলীগের সাধারণ নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। শুধু তাই না, তারা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিয়ে নোংরা রাজনীতি করছে। আমি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় দায়ীদের শাস্তি চাই।

এদিকে উপজেলা ও পৌর ছাত্রলীগের উভয় কমিটির মেয়াদ ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। এমন জটিল পরিস্থিতিতে উভয় কমিটি বিলুপ্ত করে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা।

রাজবাড়ী জেলা ছাত্রলীগের সদ্য বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম এরশাদ বলেন, ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী উপজেলা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সদস্যকে ওই কমিটি বা কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বহিষ্কার করতে পারে না। এ ক্ষেত্রে জেলা কমিটির মাধ্যমে কোন সুপারিশ কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে গেলে কেন্দ্রীয় কমিটি সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন। কিন্তু গোয়ালন্দ উপজেলা ছাত্রলীগ এ ক্ষেত্রে গঠনতন্ত্রের আলোকে সিদ্ধান্ত নেয়নি।

গোয়ালন্দ উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক বিপ্লব ঘোষ বলেন, ছাত্রলীগের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতির আলোকে উপজেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এ অবস্থার মধ্যে উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক সহ ৩ নেতাকে বহিষ্কার করেছে বলে ফেসবুকের মাধ্যমে জানলাম। বিষয়টি দুঃখজনক। তাছাড়া এ ক্ষেত্রে তারা ছাত্রলীগের কার্যনির্বাহী কমিটির কোন সভাও করেনি বলে শুনলাম। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এককভাবে এ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। এ সিদ্ধান্তে ছাত্রলীগের মধ্যে অস্থিতিশীলতা আরো বেড়ে যেতে পারে।