Dhaka ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ মার্চ ২০২৬, ২৪ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাজবাড়ীতে জেলের জালে ১০ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ বিক্রি হলো ৮০ হাজার টাকায় ॥ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২১
  • / 325

জনতার আদালত অনলাইন ॥ বিরল প্রজাতির ১০ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছটি দেখতে রাজবাড়ীর মাছ বাজারে শতাধিক মানুষের ভিড়। বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কুটি মন্ডল মাছটি কিনেছেন বাবু সরদার নামে এক জেলের কাছ থেকে। তার বাড়ি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এলাকায়।

 রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গোলাকার আকৃতির মাছটির বড় একটি লেজ রয়েছে। শরীরের তুলনায় লেজটি চিকন। চার শতাধিক মানুষ মাছটি দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছে। বাজারের পাঁচ সাতজন মাছ ব্যবসায়ী বাঁশ ও রসি দিয়ে বেঁধে মাছটিকে আড়তের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করছে।

সেখানেই ছিলেন মাছটির শিকারী জেলে বাবু সরদার। তিনি জানান, জীবন জীবীকার তাগিদে প্রতিদিনই তিনি জাল নিয়ে বের হন  মাছ ধরতে। পদ্মা নদীতেই বেশির ভাগ সময়  মাছ ধরেন তিনি। রোববার ভোরে জাল নিয়ে দৌলতদিয়ার পদ্মা যমুনার মোহনায় মাছ ধরছিলেন। হঠাৎই জালে মাছ ধরা পড়ে। কিছুতেই জালটি টেনে তুলতে পারছিলেন না। মাছটি নড়াচড়াও  করছিল না। পরে কয়েকজন জেলেকে তাকে সহায্যের জন্য ডাক দেন। তারা এসেও ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ৩০/৪০ জন জেলে এসে জালটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়।  তুলে দেখেন বিশাল আকৃতির মাছটি। দেখে বোঝা যায় মাছটির অনেক বয়স। একারণে হয়তো নড়াচড়া করতে পারেনি। প্রথমে সেটিকে ভ্যানে করে দৌলতদিয়া বাজারের আড়তদার রেজাউলের কাছে নিয়ে যান। মেপে দেখেন ওজন ১০ মণ। পরে আড়তদার রেজাউলের মাধ্যমে রাজবাড়ী বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কুটি মন্ডলের কাছে আট হাজার টাকা মণ দরে মোট ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে তিনি খুব খুশী।

স্থানীয়রা জানান, এধরণের মাছ সাধারণতঃ  নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচল করে। পানিতে খুব একটা ভেসে চলাচল করেনা। যেকারণে খুব একটা ধরা পড়েনা। আনুমানিক ১৫ বছর আগে এধরণের একটি মাছ ধরা পড়েছিল।

মাছটির ক্রেতা কুটি মন্ডলের বাড়ি রাজবাড়ী শহরে। তিনি জানান, লাভের আশায় ৮০ হাজার টাকায় মাছটি কিনেছেন। মাছটি টুকরো টুকরো করে কেজি দরে মানুষের কাছে বিক্রি করবেন। ইতিমধ্যে অনেকেই কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, এটিকে শাপলা পাতা মাছ বলা হয়ে থাকে। এধরণের মাছ সমুদ্রে বেশি দেখা যায়। সেখানকার জেলেরা শুটকি করে বিক্রি করে থাকে। মাছগুলোর বিচরণ নদীর মোহনায় হয়ে থাকে। রাজবাড়ীতে ইতিপূর্বে ১০ মণ ওজনের মাছ ধরা পড়ার কথা তার জানা নেই। মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু বলে জানান তিনি।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

রাজবাড়ীতে জেলের জালে ১০ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছ বিক্রি হলো ৮০ হাজার টাকায় ॥ দেখতে উৎসুক জনতার ভিড়

প্রকাশের সময় : ০৭:০৩:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ বিরল প্রজাতির ১০ মণ ওজনের শাপলা পাতা মাছটি দেখতে রাজবাড়ীর মাছ বাজারে শতাধিক মানুষের ভিড়। বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কুটি মন্ডল মাছটি কিনেছেন বাবু সরদার নামে এক জেলের কাছ থেকে। তার বাড়ি রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া এলাকায়।

 রোববার বেলা ১১টার দিকে রাজবাড়ী মাছ বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গোলাকার আকৃতির মাছটির বড় একটি লেজ রয়েছে। শরীরের তুলনায় লেজটি চিকন। চার শতাধিক মানুষ মাছটি দেখার জন্য ভিড় জমিয়েছে। বাজারের পাঁচ সাতজন মাছ ব্যবসায়ী বাঁশ ও রসি দিয়ে বেঁধে মাছটিকে আড়তের মধ্যে ঢোকানোর চেষ্টা করছে।

সেখানেই ছিলেন মাছটির শিকারী জেলে বাবু সরদার। তিনি জানান, জীবন জীবীকার তাগিদে প্রতিদিনই তিনি জাল নিয়ে বের হন  মাছ ধরতে। পদ্মা নদীতেই বেশির ভাগ সময়  মাছ ধরেন তিনি। রোববার ভোরে জাল নিয়ে দৌলতদিয়ার পদ্মা যমুনার মোহনায় মাছ ধরছিলেন। হঠাৎই জালে মাছ ধরা পড়ে। কিছুতেই জালটি টেনে তুলতে পারছিলেন না। মাছটি নড়াচড়াও  করছিল না। পরে কয়েকজন জেলেকে তাকে সহায্যের জন্য ডাক দেন। তারা এসেও ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ৩০/৪০ জন জেলে এসে জালটি টেনে তুলতে সক্ষম হয়।  তুলে দেখেন বিশাল আকৃতির মাছটি। দেখে বোঝা যায় মাছটির অনেক বয়স। একারণে হয়তো নড়াচড়া করতে পারেনি। প্রথমে সেটিকে ভ্যানে করে দৌলতদিয়া বাজারের আড়তদার রেজাউলের কাছে নিয়ে যান। মেপে দেখেন ওজন ১০ মণ। পরে আড়তদার রেজাউলের মাধ্যমে রাজবাড়ী বাজারের মাছ ব্যবসায়ী কুটি মন্ডলের কাছে আট হাজার টাকা মণ দরে মোট ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। এতে তিনি খুব খুশী।

স্থানীয়রা জানান, এধরণের মাছ সাধারণতঃ  নদীর তলদেশ দিয়ে চলাচল করে। পানিতে খুব একটা ভেসে চলাচল করেনা। যেকারণে খুব একটা ধরা পড়েনা। আনুমানিক ১৫ বছর আগে এধরণের একটি মাছ ধরা পড়েছিল।

মাছটির ক্রেতা কুটি মন্ডলের বাড়ি রাজবাড়ী শহরে। তিনি জানান, লাভের আশায় ৮০ হাজার টাকায় মাছটি কিনেছেন। মাছটি টুকরো টুকরো করে কেজি দরে মানুষের কাছে বিক্রি করবেন। ইতিমধ্যে অনেকেই কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।

রাজবাড়ী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রোকনুজ্জামান জানান, এটিকে শাপলা পাতা মাছ বলা হয়ে থাকে। এধরণের মাছ সমুদ্রে বেশি দেখা যায়। সেখানকার জেলেরা শুটকি করে বিক্রি করে থাকে। মাছগুলোর বিচরণ নদীর মোহনায় হয়ে থাকে। রাজবাড়ীতে ইতিপূর্বে ১০ মণ ওজনের মাছ ধরা পড়ার কথা তার জানা নেই। মাছটি খেতে খুবই সুস্বাদু বলে জানান তিনি।