Dhaka ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ মার্চ ২০২৬, ২৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

দৌলতদিয়ায় মানুষের ভিড় আছে, চাপ নেই যানবাহনের

সংবাদদাতা-
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মে ২০২১
  • / 297

জনতার আদালত অনলাইন ॥ প্রিয়জনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি শেষে সোমবার দুপুর থেকে কর্মস্থলগামী মানুষের ভীড় শুরু হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে নেই চিরচেনা পারাপারের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। নদী পার হতে আসা সকল যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছে।

উল্টো সকল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোকে। এ ক্ষেত্রে সাধারন যাত্রীদের চরম হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়তে হয়েছে। দেখা গেছে একটি ফেরিতে কেউ উঠে পড়েছে, কিন্তু যানবাহনের লোড না হওয়ায় ফেরিটি ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। রুটের অন্য ফেরি আগে দৌলতদিয়া ঘাট ছেড়ে যেতে দেখে যাত্রীরা তীব্র গরমের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে ছেড়ে যাওয়া ফেরির দিকে দৌরাতে হয়েছে। এতেকরে ওই সকল সাধারন যাত্রীদের চরম কষ্ট শিকার করতে হয়েছে।

সোমবার সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হয়েছে গত রোববার। আগের দিনের মত সোমবারও সকাল থেকে কোন প্রকার বিরম্বনা ছাড়াই ফেরিতে নির্বিঘেœ পদ্মা নদী পারি দিচ্ছে শত শত যাত্রী ও যানবাহন। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সাধারন যাত্রীদের চাপ। নৌরুটে চলাচলকারী ১৬টি ফেরি চালু থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী বাহি কোন যানবাহন সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে না। এমনকি কোন পন্যবাহী ট্রাকের সিরিয়ালও নেই।

অপরদিকে ঈদ শেষ হয়েছে তিনদিন আগে। তবে এখনো রাজধানী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। যাত্রীরা দূর্ভোগ ছাড়া ফেরির নাগাল পেলেও তাদের মধ্যে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব মানছেনা কেউ। একে অপরের সাথে গাদাগাদি করেই ফেরিতে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা। স্বাস্থ্যবিধি নজরদারি রাখতে ঘাট এলাকায় প্রশাসনেরও দেখা যায়নি।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় কর্মস্থলগাম একটি ওষুধ কোম্পানীর কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ জানান, ঈদের আগে বাড়িতে আসার সময় নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে আসতেও প্রচন্ড দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কিন্তু ফেরার সময় অনেকটা সাচ্ছন্দে কর্মস্থলে যেতে পারছি। অন্যান্য বছর ফিরতি পথে যে দূর্ভোগ পোহাতে হয় এবার সেটাও হচ্ছে না।

ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী ক্ষুদ্র ব্যবসায় সেলিম রেজা জানান, বাড়িতে আসার সময়কার দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঈদ শেষ না হতেই আগেভাগে ঢাকায় রওনা হয়েছি। দু’একদিন পরে গেলেও কোন সমস্যা হতো না। এসে দেখছি সিদ্ধান্তটা সঠিকই নিয়েছি।

তবে অনেক যাত্রী গণ পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিসের ব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ জানান, অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপ না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে নদীপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। রুটের সকল ফেরি সচল থাকায় সরাসরি আগত যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছে। তবে যে কোন সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহনের লোড ছাড়াই ফেরি দৌলতদিয়া ঘাটে এনে যানবাহন পারাপার করা হবে। তিনি আরো বলেন, জরুরি সেবা, কাঁচা মাল বাহী ট্রাক, আ্যাম্বুলেন্স সহ যাত্রী পারাপারে কোন ভোগান্তি যেন না হয় সেজন্য বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬ টি ফেরিই চলছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

দৌলতদিয়ায় মানুষের ভিড় আছে, চাপ নেই যানবাহনের

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৮:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ মে ২০২১

জনতার আদালত অনলাইন ॥ প্রিয়জনের সাথে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি শেষে সোমবার দুপুর থেকে কর্মস্থলগামী মানুষের ভীড় শুরু হয়েছে দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে নেই চিরচেনা পারাপারের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি। নদী পার হতে আসা সকল যানবাহন সরাসরি ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছে।

উল্টো সকল থেকে দুপুর পর্যন্ত যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোকে। এ ক্ষেত্রে সাধারন যাত্রীদের চরম হুড়োহুড়ির মধ্যে পড়তে হয়েছে। দেখা গেছে একটি ফেরিতে কেউ উঠে পড়েছে, কিন্তু যানবাহনের লোড না হওয়ায় ফেরিটি ছাড়তে বিলম্ব হচ্ছে। রুটের অন্য ফেরি আগে দৌলতদিয়া ঘাট ছেড়ে যেতে দেখে যাত্রীরা তীব্র গরমের মধ্যে হুড়োহুড়ি করে ছেড়ে যাওয়া ফেরির দিকে দৌরাতে হয়েছে। এতেকরে ওই সকল সাধারন যাত্রীদের চরম কষ্ট শিকার করতে হয়েছে।

সোমবার সরেজমিন দৌলতদিয়া ঘাট ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষ হয়েছে গত রোববার। আগের দিনের মত সোমবারও সকাল থেকে কোন প্রকার বিরম্বনা ছাড়াই ফেরিতে নির্বিঘেœ পদ্মা নদী পারি দিচ্ছে শত শত যাত্রী ও যানবাহন। সময় বাড়ার সাথে সাথে বাড়তে থাকে সাধারন যাত্রীদের চাপ। নৌরুটে চলাচলকারী ১৬টি ফেরি চালু থাকায় দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যাত্রী বাহি কোন যানবাহন সিরিয়ালে আটকে থাকতে হচ্ছে না। এমনকি কোন পন্যবাহী ট্রাকের সিরিয়ালও নেই।

অপরদিকে ঈদ শেষ হয়েছে তিনদিন আগে। তবে এখনো রাজধানী থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী মানুষের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মত। যাত্রীরা দূর্ভোগ ছাড়া ফেরির নাগাল পেলেও তাদের মধ্যে নেই কোন স্বাস্থ্যবিধি। সামাজিক দূরত্ব মানছেনা কেউ। একে অপরের সাথে গাদাগাদি করেই ফেরিতে পারাপার হচ্ছে যাত্রীরা। স্বাস্থ্যবিধি নজরদারি রাখতে ঘাট এলাকায় প্রশাসনেরও দেখা যায়নি।

কুষ্টিয়া থেকে ঢাকায় কর্মস্থলগাম একটি ওষুধ কোম্পানীর কর্মকর্তা রাসেল মাহমুদ জানান, ঈদের আগে বাড়িতে আসার সময় নিজস্ব মোটরসাইকেল নিয়ে আসতেও প্রচন্ড দূর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। কিন্তু ফেরার সময় অনেকটা সাচ্ছন্দে কর্মস্থলে যেতে পারছি। অন্যান্য বছর ফিরতি পথে যে দূর্ভোগ পোহাতে হয় এবার সেটাও হচ্ছে না।

ফরিদপুর থেকে ঢাকাগামী ক্ষুদ্র ব্যবসায় সেলিম রেজা জানান, বাড়িতে আসার সময়কার দূর্ভোগের কথা বিবেচনা করে ঈদ শেষ না হতেই আগেভাগে ঢাকায় রওনা হয়েছি। দু’একদিন পরে গেলেও কোন সমস্যা হতো না। এসে দেখছি সিদ্ধান্তটা সঠিকই নিয়েছি।

তবে অনেক যাত্রী গণ পরিবহন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট অফিসের ব্যবস্থাপক মো. ফিরোজ শেখ জানান, অতিরিক্ত যানবাহন ও যাত্রীর চাপ না থাকায় দৌলতদিয়া ঘাটে নদীপারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। রুটের সকল ফেরি সচল থাকায় সরাসরি আগত যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছে। তবে যে কোন সময় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ শুরু হতে পারে। সে ক্ষেত্রে পাটুরিয়া ঘাট থেকে যানবাহনের লোড ছাড়াই ফেরি দৌলতদিয়া ঘাটে এনে যানবাহন পারাপার করা হবে। তিনি আরো বলেন, জরুরি সেবা, কাঁচা মাল বাহী ট্রাক, আ্যাম্বুলেন্স সহ যাত্রী পারাপারে কোন ভোগান্তি যেন না হয় সেজন্য বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬ টি ফেরিই চলছে।