পর্যটকদের জন্য দুয়ার খুলল সুন্দরবনের
- প্রকাশের সময় : ১১:০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 5
টানা তিন মাস বন্ধ থাকার পর আজ মঙ্গলবার থেকে আবারও সুন্দরবনে প্রবেশ করতে পারবেন পর্যটক, জেলে ও বনজীবী মানুষেরা।
মাছের প্রজনন মৌসুমে বনের জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সব ধরনের প্রবেশ ও মাছ ধরায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
বনের দুয়ার উন্মুক্ত হলেও সবাই সব জায়গায় ইচ্ছেমতো যাতায়াত করতে পারবেন না। বন বিভাগের পাস বা অনুমতিপত্র নিয়ে নির্দিষ্ট পথ ও নির্ধারিত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাওয়া যাবে। তবে সংরক্ষিত কিছু বিশেষ এলাকায় প্রবেশের জন্য আলাদা অনুমতির প্রয়োজন হবে।
কোথায় যেতে পারবেন
একদিনের সুন্দরবন ভ্রমণে পর্যটকদের জন্য মোংলার অদূরে করমজল ও হারবাড়িয়া অন্যতম গন্তব্য। খুলনা থেকেও সুন্দরবনের কয়েকটি এলাকায় যাওয়া যায়।
খুলনা থেকে নদীপথে বা সড়কপথে কালাবগী গিয়ে সেখান থেকে ট্রলারে শেখেরটেক যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
অন্যদিকে সাতক্ষীরা হয়ে সুন্দরবনে যেতে চাইলে সেখান থেকে নৌযানে কলাগাছিয়া বা দুবেকী যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে হারবাড়িয়া, শেখেরটেক ও দুবেকী যেতে বন বিভাগের বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন।
কোন পথে যেতে পারবেন
ঢাকা থেকে সুন্দরবনে যেতে পর্যটকদের সাধারণত প্রথমে খুলনা, বাগেরহাটের মোংলা অথবা সাতক্ষীরার শ্যামনগর যেতে হয়। এসব স্থান থেকে শুরু হয় সুন্দরবনের মূল নৌযাত্রা।
ট্যুর অপারেটরদের মাধ্যমে ঢাকা থেকেও সুন্দরবন ভ্রমণের ব্যবস্থা রয়েছে। এমনকি সদরঘাট থেকে নদীপথে বিভিন্ন নদী ঘুরে সুন্দরবনে পৌঁছানোর করপোরেট প্যাকেজও রয়েছে।
সুন্দরবন ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন (টিওএএস) সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনটির অধীনে বর্তমানে ৬৫টি নৌযান রয়েছে। ইতোমধ্যে পর্যটকদের বুকিং নেওয়া শুরু হয়েছে।
সংগঠনটির সভাপতি মো. মঈনুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার বলেন, সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ১ সেপ্টেম্বর সকাল থেকেই পর্যটকদের নিয়ে সুন্দরবনের উদ্দেশে নৌযান ছাড়বে।
প্রবেশ করা যাবে না সব এলাকায়
সুন্দরবনের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা অভয়ারণ্য হিসেবে সংরক্ষিত। এসব এলাকায় সাধারণভাবে মাছ ধরা বা প্রবেশের সুযোগ নেই।
তাই সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি মিললেও অভয়ারণ্য এলাকায় ইচ্ছেমতো ঘোরাফেরা করা যাবে না। নির্ধারিত পর্যটন এলাকা ও অনুমোদিত পথেই চলতে হবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, সুন্দরবনের পশ্চিম বিভাগের খুলনা ও সাতক্ষীরা রেঞ্জের জন্য এবার ৬ হাজার নৌযানকে বিএলসি (বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট) দেওয়া হচ্ছে।
যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
সুন্দরবনে ভ্রমণের সময় পরিবেশের ক্ষতি হয়, এমন কোনো সামগ্রী বা কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওয়ানটাইম প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেটসহ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর সামগ্রী নিয়ে বনে না যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে বন বিভাগ।
পর্যটকদের ব্যবহৃত বোতল, খাবারের প্যাকেট বা অন্য কোনো বর্জ্যও বনে ফেলা যাবে না। নির্দিষ্ট স্থানে থাকা ওয়েস্ট বিনে এসব বর্জ্য ফেলার জন্য পর্যটকদের অনুরোধ করা হয়েছে।










