চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ যশোর থেকে গ্রেফতার
- প্রকাশের সময় : ০৩:৪০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
- / 12
ভারতে পালানোর সময় তিন সঙ্গীসহ চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করেছে যশোর পুলিশ।
বুধবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদের চট্টগ্রাম পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. মিরাজুল ইসলাম।
তিনি জানান, চট্টগ্রাম পুলিশের রিকুইজিশন অনুযায়ী আজ ভোর পৌনে ৪টার দিকে যশোর ডিবি পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা পুলিশের ৯টি টিম যশোর সদর উপজেলার যশোর-ঢাকা মহাসড়কের ঝুমঝুমপুর এলাকায় অবস্থান নেয়। এসময় সেখানে চেকপোস্ট বসিয়ে তিন সঙ্গীসহ ডেভিড ইমনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে সকাল ১০টায় তাদেরকে চট্টগ্রাম পুলিশের জিম্মায় দিয়ে দেওয়া হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিরাজুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানিয়েছেন যে, তারা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য যশোর এসেছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মো. মুসার ছেলে। একসময় এলাকায় সাধারণ জীবনযাপন করলেও পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ গ্রুপে যোগ দেন তিনি। এরপর নগরীতে একাধিক হত্যাকাণ্ডসহ বিভিন্ন অপরাধে তার নাম জড়ায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশি পিস্তল হাতে তার একাধিক ছবিও ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দাবি, একপর্যায়ে সাজ্জাদ গ্রুপের ‘সেকেন্ড ইন কমান্ড’ হিসেবে পরিচিতি পান ডেভিড ইমন। পরে দেশ ছেড়ে দুবাইয়ে অবস্থান করেও চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের ফোনে চাঁদা দাবি করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাঁদা না দিলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়িতে হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
সম্প্রতি চট্টগ্রাম নগরীর চকবাজার এলাকায় ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনায়ও ডেভিড ইমনের নাম উঠে আসে। ১৩ জুলাই প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল ঢুকে কম্পিউটার, মোবাইল ফোন ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। এ সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখানো হয়।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এর আগে ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে ‘ডেভিড ইমন’ পরিচয় দিয়ে ডিডিএনের স্বত্বাধিকারীর কাছে এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তী সময়ে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এর দুই দিন পর ডিডিএনের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র ও কাচের দরজাসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
এ ছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা ৪৭ হাজার টাকা, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন দেওয়ার জন্য রাখা প্রায় ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর র্যাব ও পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২০ জনকে গ্রেফতার করে। হামলার সিসিটিভি ফুটেজেও অস্ত্রধারী একটি দলকে প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে ঢুকে ভাঙচুর করতে দেখা যায়।
এর আগে গত বুধবার এক ব্রিফিংয়ে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ ফয়সল আহম্মেদ জানিয়েছিলেন, ডেভিড ইমনের অবস্থান শনাক্তে গোয়েন্দা ও প্রযুক্তিগত টিম কাজ করছে। তাকে এবং এই চক্রের অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছিল।

























