Dhaka ০৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে স্বচ্ছতা আনতে লটারি পদ্ধতি চালু : আইনমন্ত্রী বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতোর মালা, নিন্দা ও ক্ষোভ ‘জ্বালানি তেলের দাম কমে স্থিতিশীল হলে সমন্বয়ের কথা ভাববে সরকার’ ডেঙ্গুতে একদিনে রেকর্ড ১০ জনের মৃত্যু বাংলাদেশিদের শ্রম ভিসা সাময়িক বন্ধ করল লাওস ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটিই যেন না থাকে: খাদ্যমন্ত্রী ২০২৭ সালে শিক্ষাক্রমে যুক্ত হবে নতুন চার বিষয়: শিক্ষামন্ত্রী নওগাঁয় যানবাহনের কালো ধোঁয়ার বিরুদ্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন, গেজেট প্রকাশ চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি

কালুখালীতে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো মুন্নু শেখকে উপজেলা প্রশাসনের সম্মাননা

আশিক হাসান, কালুখালী
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬
  • / 112

 

রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসা মানবিক মানুষ মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ মানবসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুন্নু শেখ প্রতিদিন নিজের চটপটির দোকান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি পান করান।

তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী গল্প। ২০১৮ সালে তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একসময় ছেলের জন্য এক বোতল পানি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। দীর্ঘ দুই বছর জীবনযুদ্ধের পর ২০২০ সালে মারা যায় সবুজ। এরপর থেকেই ছেলের স্মৃতিকে ধারণ করে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানোর অঙ্গীকার করেন মুন্নু শেখ।

প্রায় ২০ বছর ধরে স্টেশনের পাশে একটি ছোট চটপটির দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা দোকান বন্ধ রেখে যাত্রীদের সেবা দেন। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাকেই তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও তাঁর পাশে দাঁড়ালে তিনি আরও ভালোভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

কালুখালীতে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানো মুন্নু শেখকে উপজেলা প্রশাসনের সম্মাননা

প্রকাশের সময় : ০৭:৫৮:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

 

রাজবাড়ীর কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে দীর্ঘ ছয় বছর ধরে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করিয়ে আসা মানবিক মানুষ মুন্নু শেখকে সম্মাননা ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে কালুখালী উপজেলা প্রশাসন।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেজবাহ উদ্দিন তাঁর কার্যালয়ে মুন্নু শেখের হাতে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুন্নু শেখের ব্যতিক্রমী মানবিক উদ্যোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসার পর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। তাঁর নিঃস্বার্থ মানবসেবার স্বীকৃতি হিসেবে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়।

কালুখালী উপজেলার রতনদিয়া ইউনিয়নের পশ্চিম রতনদিয়া গ্রামের বাসিন্দা মুন্নু শেখ প্রতিদিন নিজের চটপটির দোকান কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রেখে কালুখালী রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের যাত্রীদের বিনামূল্যে ঠান্ডা পানি পান করান।

তাঁর এই মানবিক উদ্যোগের পেছনে রয়েছে এক হৃদয়স্পর্শী গল্প। ২০১৮ সালে তাঁর নয় বছর বয়সী ছেলে সবুজ শেখ ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হলে চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ট্রেনে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাতায়াত করতে হতো। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে একসময় ছেলের জন্য এক বোতল পানি কেনার সামর্থ্যও ছিল না তাঁর। দীর্ঘ দুই বছর জীবনযুদ্ধের পর ২০২০ সালে মারা যায় সবুজ। এরপর থেকেই ছেলের স্মৃতিকে ধারণ করে ট্রেনের তৃষ্ণার্ত যাত্রীদের বিনামূল্যে পানি পান করানোর অঙ্গীকার করেন মুন্নু শেখ।

প্রায় ২০ বছর ধরে স্টেশনের পাশে একটি ছোট চটপটির দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি। প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা দোকান বন্ধ রেখে যাত্রীদের সেবা দেন। মানুষের দোয়া ও ভালোবাসাকেই তিনি তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন বলেন, “মুন্নু শেখের মতো মানুষ সমাজের জন্য অনুকরণীয়। তাঁর এই মানবিক উদ্যোগকে সম্মান জানাতেই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সামান্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। সমাজের বিত্তবানরাও তাঁর পাশে দাঁড়ালে তিনি আরও ভালোভাবে এই সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবেন।”