Dhaka ০১:৪৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ইরানকে ঘিরে ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ কী আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানছেন রোনালদো: পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের দাবি মাদকবিরোধী বার্তায় বালিয়াকান্দীতে বিবাহিত-অবিবাহিতদের ফুটবল লড়াই বালিয়াকান্দিতে জমি বিরোধে নারী আহত, দেবরের বিরুদ্ধে অভিযোগ লন্ডনে বিডিনিউজের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি : ইন্টারনেট বন্ধ, আটক সাতশ’র বেশি সরকার দেশকে মরুভূমির হাত থেকে রক্ষায় উদ্যোগ নিয়েছে: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কালুখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ মামলার পর জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামান গ্রেফতার না ফেরার দেশে ‘বীরাঙ্গনা’ ফুলমতি, শেষ হলো ৪৫ বছরের স্বীকৃতির লড়াই

জিততে না পারলেও ইতিহাস গড়ল কানাডা

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
  • / 103

টরেন্টোতে হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতি আর বাঁধভাঙা উল্লাস। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নিজেদের মাটিতে বিশ্বমঞ্চের কোনো ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। লক্ষ্য ছিল একটাই- ঐতিহাসিক এই ক্ষণটিকে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় অবশ্য অধরাই রয়ে গেছে জেসি মার্শের শিষ্যদের।

তবে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এই একটি মাত্র ম্যাচ দিয়েই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফলতা ছুঁয়ে ফেলল কানাডিয়ানরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবল ইতিহাস ছিল চরম হতাশা আর ব্যর্থতায় মোড়ানো। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে কোনো গোল না করেই ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল তারা।

এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফিরলেও ভাগ্য বদলায়নি। সেবার আলফোনসো ডেভিসের পা ধরে ইতিহাসের প্রথম গোল আসলেও বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারে কানাডা। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের আগে বিশ্বকাপে কানাডার অতীত খতিয়ান ছিল- ৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হার।

সেই দুঃস্বপ্নের ইতিহাস পেছনে ফেলে নিজেদের মাটিতে যখন কানাডা মাঠে নামল, তখন তাদের সামনে ছিল ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের হেডে যখন প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কানাডা, তখন গ্যালারিতে আবারও হারের পুরনো ভূত তাড়া করছিল স্বাগতিকদের।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই দেখা গেল এক বদলে যাওয়া কানাডাকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে গোল শোধ করেন ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে কানাডা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতে হারা একটি দলের জন্য, নিজেদের মাটিতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও লড়াকু ড্রয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেওয়া ট্রফি জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর ঠিক এই কারণেই, জয় না পেলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও স্মরণীয় রাতটি উদযাপন করল কানাডা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

জিততে না পারলেও ইতিহাস গড়ল কানাডা

প্রকাশের সময় : ১০:১৩:৩৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬

টরেন্টোতে হাজার হাজার স্বাগতিক দর্শকের উপস্থিতি আর বাঁধভাঙা উল্লাস। ফুটবল বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম নিজেদের মাটিতে বিশ্বমঞ্চের কোনো ম্যাচ খেলতে নেমেছিল কানাডা। লক্ষ্য ছিল একটাই- ঐতিহাসিক এই ক্ষণটিকে জয় দিয়ে স্মরণীয় করে রাখা। বসনিয়া অ্যান্ড হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ পর্যন্ত জয় অবশ্য অধরাই রয়ে গেছে জেসি মার্শের শিষ্যদের।

তবে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়লেও এই একটি মাত্র ম্যাচ দিয়েই নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সফলতা ছুঁয়ে ফেলল কানাডিয়ানরা।

২০২৬ বিশ্বকাপের আগে বিশ্বমঞ্চে কানাডার ফুটবল ইতিহাস ছিল চরম হতাশা আর ব্যর্থতায় মোড়ানো। ১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলতে এসে কোনো গোল না করেই ৩ ম্যাচের সবকটিতে হেরে শূন্য হাতে বিদায় নিয়েছিল তারা।

এরপর দীর্ঘ ৩৬ বছরের অপেক্ষা শেষে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ফিরলেও ভাগ্য বদলায়নি। সেবার আলফোনসো ডেভিসের পা ধরে ইতিহাসের প্রথম গোল আসলেও বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া ও মরক্কোর কাছে হেরে তিন ম্যাচের তিনটিতেই হারে কানাডা। অর্থাৎ, ২০২৬ সালের আগে বিশ্বকাপে কানাডার অতীত খতিয়ান ছিল- ৬ ম্যাচ খেলে ৬টিতেই হার।

সেই দুঃস্বপ্নের ইতিহাস পেছনে ফেলে নিজেদের মাটিতে যখন কানাডা মাঠে নামল, তখন তাদের সামনে ছিল ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের ২১তম মিনিটে বসনিয়ার ফরোয়ার্ড জোভো লুকিচের হেডে যখন প্রথমার্ধে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে কানাডা, তখন গ্যালারিতে আবারও হারের পুরনো ভূত তাড়া করছিল স্বাগতিকদের।

কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধেই দেখা গেল এক বদলে যাওয়া কানাডাকে। ম্যাচের ৭৭তম মিনিটে পুরো টরন্টো স্টেডিয়ামকে উল্লাসে ভাসিয়ে দারুণ এক কোনাকুনি শটে গোল শোধ করেন ফরোয়ার্ড কাইল লারিন। শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্রয়ে ম্যাচ শেষ হলে বিশ্বকাপের ৯৬ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো পয়েন্ট অর্জনের ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করে কানাডা।

বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে খেলা ৬টি ম্যাচের সবকটিতে হারা একটি দলের জন্য, নিজেদের মাটিতে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও লড়াকু ড্রয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম পয়েন্ট তুলে নেওয়া ট্রফি জয়ের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়। আর ঠিক এই কারণেই, জয় না পেলেও নিজেদের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ও স্মরণীয় রাতটি উদযাপন করল কানাডা।