Dhaka ০১:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
ফরিদপুরে কোদাল দিয়ে কুপিয়ে তিনজনকে হত্যা, আহত ১ বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় কোন জেলায়, কেন? বজ্রপাতে চার জেলায় আরও ৮ জনের মৃত্যু নওগাঁয় ৫০০ পিস ট্যাপেন্টাডলসহ একই পরিবারের ৩ সদস্য গ্রেফতার ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প ভুল সংশোধনীর মাধ্যমে জোরদার হবে: অর্থমন্ত্রী ইন্টারনেটের নতুন দাম নির্ধারণ, মিলবে ২৫০ এমবিপিএস গতির সেবা জুজুর ভয় দেখিয়ে দেশের মানুষকে পিছিয়ে রাখা যাবে না: প্রধানমন্ত্রী মাদক নির্মূলে বড় পদক্ষেপের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কালীগঞ্জে মোবাইল কোর্টে দুই ব্যবসায়ীকে ২৮ হাজার টাকা জরিমানা ‘জেল খাটতে কেমন লাগে’ বোঝার জন্য হত্যা করা হয় শিশু হোসাইনকে

মাদক নির্মূলে বড় পদক্ষেপের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / 19

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত এবং কঠোর সাঁড়াশি অভিযানে নামবে সরকার। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মাদক নির্মূলে বড় পদক্ষেপের বার্তা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

প্রকাশের সময় : ০৯:১০:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ বলেছেন, আগামী ৩০ এপ্রিল জাতীয় সংসদের চলমান অধিবেশন শেষ হওয়ার পরপরই সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত এবং কঠোর সাঁড়াশি অভিযানে নামবে সরকার। দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এই ঘোষণা দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের সেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এরইমধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।