Dhaka ০২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
চীন-ভারত-জাপানসহ এশিয়ার বাজারে বাড়ছে বাংলাদেশের রপ্তানি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে: প্রধানমন্ত্রী সাবেক এমপি নাইমুজ্জামান মুক্তা গ্রেফতার ৪৯তম বিসিএস থেকে আরও ৪০ জনকে শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ শিশু অধিকার দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি সক্রিয়, সৌদিতে সেনা পাঠাবে পাকিস্তান ও তুরস্ক বাদ পড়া ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসের প্রজ্ঞাপন জারি ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক পুনর্মিলনের সুযোগ নেই, বিচারের মুখোমুখি করতে হবে’ দুর্গাপূজায় টানা ৫ দিনের ছুটি, তার আগের শনিবার অফিস খোলা দুর্গাপূজা উপলক্ষে শপিংমল-মার্কেট রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপেছে: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
  • / 104

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধীদলের কাঁধে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করলো তখন ওই পাশে যারা বিরোধী দলে ছিল তারা বলল যে এক মিনিটেও বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না, মনে আছে? আমরা দেখি যে এখন যারা বিরোধী দলে বসছে এরাও একই কাজ শুরু করে দিছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত এদের ওপর আছর করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। জুলাই সনদ যেদিন বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরাও সই করেছে। আমরা দেখেছি এখন যারা বিরোধী দলে আছে, প্রথমবার তারা সই করবে কি করবে না—একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সই-ই করেনি। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে তড়িঘড়ি করে সই করল।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘প্রথমে সই করেছে বিএনপি। যারা নির্বাচনের পরে জুলাই সনদের জন্য গলা ফাটিয়ে ফেলল, তাদেরকে তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি—এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তোমরা প্রথমেই কেন সই করলা না?’

তারেক রহমান বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবার পরিষ্কার করছি। বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেই জুলাই সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না। কিন্তু যারা বিএনপির খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনকর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, কারা স্বৈরাচারের ভূত, কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন সংস্কারের কথা বলছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম কারা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপি অনেক আগেই এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে আন্দোলনে থাকা সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একদফা আন্দোলন ও সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সংস্কার কমিশন গঠন করে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানাল, তখন দেখা গেছে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সাথে মিলে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। এই দেশকে আমরা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করেছি। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। যেহেতু এই বাংলাদেশই আমাদের পরিচয় এবং শেষ আশ্রয়, তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করব।’

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বিরোধীদলের কাঁধে চেপেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের সময় : ০৭:৪৪:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

বিতাড়িত স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধীদলের কাঁধে চেপে বসেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মঙ্গলবার বিকেলে টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের মুক্তমঞ্চে এক জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন একবার সরকার গঠন করলো তখন ওই পাশে যারা বিরোধী দলে ছিল তারা বলল যে এক মিনিটেও বিএনপিকে শান্তিতে থাকতে দেওয়া হবে না, মনে আছে? আমরা দেখি যে এখন যারা বিরোধী দলে বসছে এরাও একই কাজ শুরু করে দিছে। ওই যে স্বৈরাচারের ভূত এদের ওপর আছর করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের জনগণ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার জন্য। জুলাই সনদ যেদিন বিএনপি সই করে এসেছে, যেই সনদে অন্যরাও সই করেছে। আমরা দেখেছি এখন যারা বিরোধী দলে আছে, প্রথমবার তারা সই করবে কি করবে না—একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব। আর তাদের সঙ্গে আরেকটা দল আছে, তারা তো তখন সই-ই করেনি। তাদের দেখলাম নির্বাচনের পরে গিয়ে হঠাৎ করে তড়িঘড়ি করে সই করল।’

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘প্রথমে সই করেছে বিএনপি। যারা নির্বাচনের পরে জুলাই সনদের জন্য গলা ফাটিয়ে ফেলল, তাদেরকে তো আমরা প্রশ্ন করতে পারি—এতই যদি তোমাদের দরদ হয়, তোমরা প্রথমেই কেন সই করলা না?’

তারেক রহমান বলেন, ‘আগেও বলেছি, আবার পরিষ্কার করছি। বিএনপি যে জুলাই সনদে সই করেছে, সেই জুলাই সনদ বিএনপি বাস্তবায়ন করবে। এর কোনো নড়চড় হবে না। কিন্তু যারা বিএনপির খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, পেশাদার খেলোয়াড় তৈরিসহ জনকর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে, কারা স্বৈরাচারের ভূত, কাদের ওপর আবার ধীরে ধীরে আছর করছে, কারা আবার দেশে অরাজকতা তৈরি করতে চাচ্ছে।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ যখন সংস্কারের কথা বলছে, তখন আমাদের মনে রাখতে হবে—সংস্কারের প্রস্তাব প্রথম কারা দিয়েছিল। অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কারের কথা বলছে, কিন্তু বিএনপি অনেক আগেই এই প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। ২০১৬ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি প্রথম সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালে আন্দোলনে থাকা সব দলকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপি একদফা আন্দোলন ও সংস্কারের ৩১ দফা ঘোষণা করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার যখন সংস্কার কমিশন গঠন করে বিভিন্ন দলকে আমন্ত্রণ জানাল, তখন দেখা গেছে সেই সংস্কার প্রস্তাবগুলোর ৮৫ শতাংশই বিএনপির দেওয়া প্রস্তাবের সাথে মিলে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গণতন্ত্রের নিয়মই হচ্ছে মতামতের ভিন্নতা। আমাদের মধ্যে কোনো বিষয়ে দ্বিমত থাকতে পারে, তাতে সমস্যা নেই। কিন্তু সেই দ্বিমত নিরসন হতে হবে আলোচনার মাধ্যমে।’

শেষে তিনি বলেন, ‘এই বাংলাদেশই আমাদের একমাত্র ঠিকানা। এই দেশকে আমরা আমাদের হৃদয়ে ধারণ করেছি। এ দেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই। যেহেতু এই বাংলাদেশই আমাদের পরিচয় এবং শেষ আশ্রয়, তাই এই দেশটিকে আমাদেরই গড়ে তুলতে হবে। আমরা সকলকে সঙ্গে নিয়ে ইনশাআল্লাহ এই দেশকে একটি সমৃদ্ধ ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশে রূপান্তর করব।’