Dhaka ১২:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
নতুন ঋণচুক্তির বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আলোচনা এগিয়ে নিচ্ছে বাংলাদেশ টানা পাঁচ দিন বন্ধ থাকবে ব্যাংক ও শেয়ারবাজার ৬ বছর পর ওজন করা হচ্ছে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া সোনা-রুপা আজও রিয়াদগামী ২ ফ্লাইট বাতিল, তিনদিনে বাতিল মোট ৯টি নাটোরে কাপড়ের দোকানে মিললো সেই জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ সৌদি বিমানবন্দরে নতুন হামলায় আরও এক বিদেশি নিহত প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে চুয়েটে প্রবেশ নতুন উপাচার্যের দিল্লিতে নারী ও তৃতীয় লিঙ্গের চালকদের জন্য চালু হচ্ছে গোলাপি ই-অটো রাজধানী থেকে সাবেক ২ সেনা কর্মকর্তা গ্রেপ্তার ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না: গয়েশ্বর

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৮:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 161

ভাইরাল হওয়া শপথ অনুষ্ঠানের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, মন্ত্রী হবেন না- এটা জেনেই তিনি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও চরিত্রহনন বা সম্মানে আঘাত করা সঠিক নয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জের কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি জানতাম, মন্ত্রী হব না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আমি আপনাদের বলে গেলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না হওয়ার জন্য রাগ করে আসছি…আসছি, আসছি। আর যাবো না। পরে আবারও জোর দিয়ে বলেন, আর যাবো না। আমি সংসদ সদস্য, জনগণের প্রতিনিধি। শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে আমি আগেই জানতে পারতাম। একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে আমাকে সামনের সারিতে বসার আসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক কর্মকর্তা না জেনে মন্ত্রী ছাড়া সবাইকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এমনকি না গেলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফ ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। ফেরার সময় অনেকে থাকতে অনুরোধ করলে কিছুটা রাগ প্রকাশ করি। পরে সেটিই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

এসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান তিনি। সভায় তিনি ঢাকা-৩ আসন-এর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ মানুষের মতামত প্রদানে আহ্বান করেন।

উপস্থিত বক্তারা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক সংস্কার, যানজট, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং দখল বাণিজ্যসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এবং দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না: গয়েশ্বর

প্রকাশের সময় : ০৮:৫৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভাইরাল হওয়া শপথ অনুষ্ঠানের বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না মন্তব্য করে তিনি বলেছেন, মন্ত্রী হবেন না- এটা জেনেই তিনি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কারও চরিত্রহনন বা সম্মানে আঘাত করা সঠিক নয়।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেরানীগঞ্জের কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সরকারি কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমি জানতাম, মন্ত্রী হব না। তবুও সেখানে গিয়েছিলাম। আমি আপনাদের বলে গেলাম, মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আমি মন্ত্রিপরিষদে যোগ দেব না। আপনারা বলছেন মন্ত্রী না হওয়ার জন্য রাগ করে আসছি…আসছি, আসছি। আর যাবো না। পরে আবারও জোর দিয়ে বলেন, আর যাবো না। আমি সংসদ সদস্য, জনগণের প্রতিনিধি। শেষ পর্যন্ত মানুষের পক্ষে লড়াই করব, নিয়মের কথা বলব এবং নিয়ম প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করব।’

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রীদের শপথ অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি বাগ্‌বিতণ্ডার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় ডাক পেলে আমি আগেই জানতে পারতাম। একজন সিনিয়র নেতা হিসেবে আমাকে সামনের সারিতে বসার আসন দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এক কর্মকর্তা না জেনে মন্ত্রী ছাড়া সবাইকে আসন ছেড়ে দিতে বলেন। এমনকি না গেলে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স-এসএসএফ ডেকে ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে আমি অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করি। ফেরার সময় অনেকে থাকতে অনুরোধ করলে কিছুটা রাগ প্রকাশ করি। পরে সেটিই ভিন্নভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।’

এসময় বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানান তিনি। সভায় তিনি ঢাকা-৩ আসন-এর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্থানীয় কর্মকর্তা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান ও সাধারণ মানুষের মতামত প্রদানে আহ্বান করেন।

উপস্থিত বক্তারা এলাকায় মাদক ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, সড়ক সংস্কার, যানজট, ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনা এবং দখল বাণিজ্যসহ নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। এ সময় গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘১৭ বছরের জঞ্জাল একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। তবে পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান হবে। এজন্য সবার সহযোগিতা দরকার।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন মো. উমর ফারুক এবং সঞ্চালনা করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার বেগ।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপি-র সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, এসিল্যান্ড জান্নাতুল মাওয়া ও আফতাব আহমেদ, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাইফুল ইসলাম এবং দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল ইসলামসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানরা।