Dhaka ১২:৪৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
সব নাগরিককে এক ডিজিটাল আইডির আওতায় আনতে চায় সরকার : রেহান আসিফ ৯ বছর পর মুক্তি মিলছে গাজীপুর সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের ডিআইজিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন ২৪ কর্মকর্তাকে বদলি সবার জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পূর্বশর্ত : রাষ্ট্রপতি কানাডার উৎসবে সেরা অভিনেত্রী তুষি, ‘রইদ’ পেল তিন পুরস্কার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণে ভারতের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে : পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী গুণী শিক্ষক হিসেবে সংবর্ধনা পাচ্ছেন আব্দুর রাজ্জাক একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বাবার আহাজারি, ‘আমার বাচ্চা ফেরত দেন, আর কিছু চাই না’ এলপিজির দাম বাড়ল সাতদিন ধরে চলে ‘বরের মেলা’: সেজেগুজে থাকেন পাত্ররা, পছন্দ করে কিনে নেন কনেরা!

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ০৩:০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
  • / 82

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হলো।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করা শুরু হয় এবং ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়ার পর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা, শহীদদের তালিকা দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে মোট ৮৪ জনকে তোলা হয়েছে।

মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন, যিনি গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন, রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর শাস্তি নির্ধারণ ট্রাইব্যুনালের ওপর রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে।

শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক থাকলেও মামলার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিলেন। জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়।

মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি-প্রতিবাদ চালানো হয়। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্যের পর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এই রায় বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের মৃত্যুদণ্ড

প্রকাশের সময় : ০৩:০২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ওপর মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। চব্বিশের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত গণহত্যা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এটি প্রথম মামলা, যার রায় আজ ঘোষণা করা হলো।

ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। সোমবার দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছয় অধ্যায়ে ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের প্রথম অংশ পাঠ করা শুরু হয় এবং ২ ঘণ্টা ১০ মিনিটের সংক্ষিপ্ত রায় পড়ার পর দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়।

মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে পাঁচটি মানবতাবিরোধী অভিযোগ আনা হয়: উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা এবং আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট ৮,৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠা, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণ চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠা, শহীদদের তালিকা দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠা। সাক্ষী হিসেবে মোট ৮৪ জনকে তোলা হয়েছে।

মামলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসামি সাবেক আইজিপি মামুন, যিনি গ্রেপ্তার হয়ে প্রায় এক বছর ধরে কারাগারে রয়েছেন, রাজসাক্ষী হিসেবে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তাঁর শাস্তি নির্ধারণ ট্রাইব্যুনালের ওপর রাখা হয়েছে। প্রসিকিউশন শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে।

শেখ হাসিনা ও কামাল পলাতক থাকলেও মামলার কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার সময় ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মোতায়েন ছিলেন। জনসাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়।

মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৯ কার্যদিন ধরে প্রসিকিউশন ও রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তি-প্রতিবাদ চালানো হয়। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্যের পর রায়ের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

এই রায় বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় প্রথম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।