স্কুলে ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ, কোটাসহ এলো যেসব পরিবর্তন
- প্রকাশের সময় : ১০:০১:০৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫
- / 86
সরকারি স্কুলে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির নীতিমালা প্রকাশ করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ১৩ নভেম্বর মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নীতিমালাটি প্রকাশ করে, যাতে সই করেন বিভাগের সচিব রেহেনা পারভীন। নতুন নীতিমালা অনুযায়ী অ্যান্ট্রি শ্রেণিতে এবং আসন শূন্য থাকলে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তি নেওয়া যাবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি ২০১০ অনুযায়ী ছয় বছরের বেশি বয়সী শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থীর জন্ম তারিখ ১ জানুয়ারি ২০২১ থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ সালের মধ্যে হতে হবে। জন্মনিবন্ধনের সত্যায়িত কপি বয়সপ্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বয়স ছাড় পেতে পারে। প্রতিটি শাখায় সর্বোচ্চ ৫৫ জন শিক্ষার্থী রাখা হবে।
ভর্তির পুরো কার্যক্রম কেন্দ্রীয়ভাবে ডিজিটাল লটারির মাধ্যমে সম্পন্ন করবে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। একজন শিক্ষার্থী সর্বোচ্চ পাঁচটি বিদ্যালয় পছন্দক্রম জমা দিতে পারবে। ডাবল শিফট স্কুলে উভয় শিফট বাছাই করলে তা দুটি পছন্দ হিসেবে গণ্য হবে। আবেদনকারীকে শেষে একটি প্রতিষ্ঠান চূড়ান্ত করে নিশ্চিত করতে হবে, যা সফটওয়্যারে সংযুক্ত থাকবে।
ঢাকা মহানগরের ৪৪টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে তিন গ্রুপে ভাগ করে ক্যাচমেন্ট এরিয়া নীতিও বহাল রাখা হয়েছে। প্রতিটি বিদ্যালয় সংলগ্ন সর্বোচ্চ তিনটি থানাকে ক্যাচমেন্ট হিসেবে নির্ধারণ করা যাবে এবং সেখানে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের জন্য ৪০ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকবে।
কোটায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা সন্তানদের জন্য ৫ শতাংশ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্নদের জন্য ২ শতাংশ কোটা বহাল রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের মোট ১ শতাংশ কোটা এবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়েছে—মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ০.৫ শতাংশ এবং অধীন দপ্তর-সংস্থার কর্মকর্তাদের জন্য ০.৫ শতাংশ। যমজ কোটায় আসন কমিয়ে ২ শতাংশ করা হয়েছে, আর সহোদর কোটা বাড়িয়ে ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। যমজ ও সহোদর কোটার সুবিধা এক দম্পতির সর্বোচ্চ তিন সন্তান পর্যন্ত প্রযোজ্য। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস শিক্ষার্থীদের জন্য ১০ শতাংশ আসন বাধ্যতামূলক।
ঢাকা, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ভর্তি প্রক্রিয়া তদারকিতে আলাদা ভর্তি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকায় মাউশির মহাপরিচালক, জেলায় জেলা প্রশাসক এবং উপজেলায় ইউএনও-এর নেতৃত্বে এসব কমিটি কাজ করবে।
মাউশির সভায় নির্ধারিত সম্ভাব্য সময়সূচি অনুসারে, ১৯ নভেম্বরের মধ্যে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে। ২১ নভেম্বর অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে এবং চলবে ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ১৪ ডিসেম্বর ডিজিটাল লটারি অনুষ্ঠিত হতে পারে। লটারি শেষে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ১৭ থেকে ২১ ডিসেম্বরের মধ্যে ভর্তি হতে হবে।
























