জবি ছাত্রদল নেতা জুবায়েদ হত্যা : গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ
- প্রকাশের সময় : ১১:৫৬:৩০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ অক্টোবর ২০২৫
- / 173
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য মো. জোবায়েদ হোসেনকে হত্যার ঘটনায় আটক এক কলেজ শিক্ষার্থীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ।
রোববার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর আরমানিটোলার পানির পাম্প গলির একটি ভবনের সিঁড়ি থেকে জোবায়েদের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জানা যায়, ওই ভবনের একটি বাসায় এক ছাত্রীকে তিনি টিউশন করাতেন। ঘটনার পর ওই ছাত্রীকে আটক করে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করে।
বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে—ওই ছাত্রীর সঙ্গে মাহির রহমান নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত এক বছর ধরে জুবায়েদ ওই ছাত্রীকে পড়াতেন, আর পড়ানোর সুবাধে ছাত্রী জুবায়েদকে পছন্দ করতে শুরু করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেমিক মাহির এ হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজে দুইজনকে শনাক্ত করা গেছে। তাদের মধ্যে একজন মাহির, অন্যজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত নয়। দুজনকেই ধরতে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে হত্যার আগে জুবায়েদ তার ‘লাইভ লোকেশন’ শেয়ার করেছিলেন। সহপাঠীদের ধারণা, এই বিষয়টি নিয়েও তদন্ত করছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে ওই ছাত্রী জানায়, সে শুধু স্যারের অবস্থান জানতে চেয়েছিল, পরে জুবায়েদ নিজেই লোকেশন শেয়ার করেন।
মাহির রহমান রাজধানীর বোরহানউদ্দিন কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী, এবং ছাত্রীটি একই এলাকার বাসিন্দা।
হত্যার পরও এখনো মামলা হয়নি বলে নিহতের ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত জানান। তিনি বলেন, “আমরা ওই ছাত্রী, তার বাবা-মাসহ পাঁচজনের নামে মামলা দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওসি কম নাম দিতে বলেন। আমরা চাই সব আসামির নামেই মামলা হোক।”
ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, “যাদের নামে তারা মামলা দিতে চান, নিতে কোনো বাধা নেই। শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করতে বলেছি।”
হত্যার ঘটনায় বংশাল থানার সামনে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবাদ করেছেন। তাঁরা তাঁতীবাজার মোড়ও অবরোধ করেন। রোববার রাতেই পুলিশ ওই ছাত্রীকে হেফাজতে নেয়।
হত্যার শিকার জুবায়েদ আহমেদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী, কুমিল্লা জেলা ছাত্রকল্যাণ পরিষদের সভাপতি এবং বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন।
গত এক বছর ধরে তিনি পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ওই ছাত্রীকে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান পড়াতেন। ছাত্রীটি ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।






















