বুথফেরত সমীক্ষায় নেতানিয়াহু-আইজেনকোটের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আরব দলগুলো
ইসরায়েলের ক্ষমতায় কে, ঝুলন্ত পার্লামেন্টের আভাস

- প্রকাশের সময় : ০৯:২৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
- / 13

ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক সেনাপ্রধান গ্যাডি আইজেনকোটের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। বুথফেরত সমীক্ষায় কোনো জোটই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পথে নেই। ফলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কে হচ্ছেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সরকার গঠনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে আরব দলগুলো।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলের দুটি সম্প্রচারমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ও তাঁর পরিবর্তন জোটের অন্য তিনটি দল ১২০ আসনের নেসেটে ৫১টি আসন পেতে পারে। নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তাঁর অতি-ডানপন্থী ও অর্থোডক্স মিত্রদের জোটও সমানসংখ্যক আসন পেতে পারে। তবে তৃতীয় একটি সম্প্রচারমাধ্যমের সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে তিন আসনে এগিয়ে রাখা হয়েছে।
নির্বাচনে যৌথভাবে রেকর্ড ১৮ থেকে ১৯টি আসন পেতে যাওয়া দুটি আরব দল সরকার গঠনে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার ভোট পড়েছে ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ১৯৯৯ সালের পর সর্বোচ্চ। প্রায় ছয় লাখ অনুপস্থিত ভোটারের ব্যালট বৃহস্পতিবারের আগে পুরোপুরি গণনা করা সম্ভব হবে না। চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট সরকার গঠনের জন্য জোট গঠনের আমন্ত্রণ জানাবেন।
তেল আবিবে ইয়াশার পার্টির সদর দপ্তরে কান, চ্যানেল ১২ ও চ্যানেল ১৩-এর প্রাথমিক সমীক্ষায় বিরোধী জোটকে ৫২ থেকে ৫৩ আসনে এগিয়ে থাকতে দেখে সমর্থকেরা উল্লাসে মেতে ওঠেন।
এ সময় আইজেনকোট বলেন, ‘জনগণের সিদ্ধান্ত যেন একটি সিয়োনিস্ট সরকারে রূপান্তরিত হয়, তা নিশ্চিত করব। সেই সরকার সব ইসরায়েলি নাগরিকের জন্য স্থিতিশীল ও কল্যাণকর হবে।’
তাঁর রাজনৈতিক মিত্র ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াইর লাপিদ দাবি করেন, নেতানিয়াহুর জোট শোচনীয় পরাজয়ের মুখে পড়েছে।
অন্যদিকে লিকুদ পার্টির জেরুজালেম সদর দপ্তরে তেমন উল্লাস দেখা যায়নি। বিবিসিকে ইটজিক নামের এক লিকুদ সমর্থক বলেন, ‘সবকিছু শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই শেষ নয়। তবে আমি উদ্বিগ্ন।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডোন সার বিরোধীদের উদযাপনকে ‘অকালপক্ব’ বলে মন্তব্য করেন। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির সমর্থকদের প্রার্থনা করার আহ্বান জানান।
পরে বুথফেরত সমীক্ষার হালনাগাদ ফলে কান ও চ্যানেল ১৩ উভয় জোটকে ৫১টি করে আসনে সমতায় দেখায়। অন্যদিকে চ্যানেল ১২-এর সমীক্ষায় নেতানিয়াহুর জোটকে ৫২ এবং আইজেনকোটের জোটকে ৪৯ আসনে দেখানো হয়।
বুধবার ভোরে সমর্থকদের সামনে উপস্থিত হয়ে নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর ডানপন্থী জোট বড় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। এ সময় তিনি একটি ‘শক্তিশালী ডানপন্থী জাতীয় সরকার’ গঠনের আহ্বান জানান।
এদিকে দুই আরব দলের অন্যতম নেতা মনসুর আব্বাস বলেন, ‘আমি আশা করি, সংখ্যাগুলো মিলবে এবং আমরা, পরিবর্তন জোট ও ইউএএল মিলে নেসেটের ৬১টি আসন নিশ্চিত করতে পারব।’
যৌথ তালিকার চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন বলেন, ‘যেকোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমাদের উপেক্ষা করা যাবে না।’
নির্বাচনে ভোটারদের মধ্যেও বিভক্তি দেখা গেছে। ৮৮ বছর বয়সী জিভিট আব্রামসন বিবিসিকে জানান, তিনি আইজেনকোটকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহু দেশকে ধ্বংস করছেন এবং শুধু নিজের স্বার্থ নিয়েই ব্যস্ত।
অন্যদিকে ক্লেয়ার টুগেনধাফট জানান, তিনি নেতানিয়াহুকে ভোট দিয়েছেন। তাঁর মতে, বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নেতানিয়াহুই সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি।
ভোটের দিন সমর্থকদের কেন্দ্রে যেতে উৎসাহিত করে নেতানিয়াহু এক ভিডিও বার্তায় সতর্ক করেন, ভোট না দিলে বামপন্থী ও আরব দলগুলোর সমন্বয়ে সরকার গ



















