মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধার প্রতিবাদে জাবিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ

- প্রকাশের সময় : ১১:২০:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
- / 20

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারির দাফনে জামায়াতে ইসলামীর বাধা দেওয়ার অভিযোগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন একদল শিক্ষার্থী।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় এ প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়।
১০ থেকে ১২ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে সাঈদীর কুশপুত্তলিকায় ‘পাকিস্তানের দালাল’ ও ‘যুদ্ধাপরাধী দেইল্যা রাজাকার’ লেখা ছিল। এ সময় বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা এবং তাঁকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান (গার্ড অব অনার) না দেওয়ার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন শিক্ষার্থীরা। কুশপুত্তলিকা দাহ শেষে প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশের সঞ্চালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আবু রায়হান কবির রাসেল বলেন, ‘রাজাকার একটি চেতনা, যারা বাংলাদেশ রাষ্ট্রে ভূখণ্ডগতভাবে পাকিস্তানপন্থা জিইয়ে রাখতে চায়। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসার পরও একজন মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী এ টি এম আজহারকে সংসদে বসানো হয়েছে। এর চেয়ে লজ্জাকর কিছু হতে পারে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকারদের ছবি প্রদর্শিত হয়েছিল। আমরা তখন মনে করেছিলাম, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচিত নয় বলেই হয়তো এমনটা ঘটছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে যে নির্বাচিত সরকার এল, তাদের আমলেও একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে লুকিয়ে গার্ড অব অনার দেওয়া হলো। এটি চরম ঘৃণ্য কাজ। সরকারের এমন আচরণের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
সমাবেশে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের জাবি শাখার সংগঠক সোহাগী সামিয়া অভিযোগ করেন, দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে সাক্ষী হওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারিকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান দিয়ে স্বাভাবিকভাবে দাফন করতে দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, ‘কাদের বাধার কারণে এটি হতে পারেনি, তাদের চিহ্নিত করা দরকার। তারা ধর্মকে সব সময় রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, তারা ইসলামি নিয়ম অনুযায়ী একজন মুসলিমের দাফন কার্যক্রম পর্যন্ত সম্পন্ন হতে দেয়নি।’
সাম্প্রতিক ঘটনাবলির প্রসঙ্গ টেনে সোহাগী সামিয়া বলেন, ‘যারা ২৪-এর নাম করে ৭১-কে নস্যাৎ করতে চান, তাদের চিনে রাখা দরকার। যারা ৭১-কে ধারণ করতে পারেন না, তারা কোনো দিন ২৪-কেও ধারণ করতে পারবেন না। সরকার জনগণের হলে ২৪ ও ৭১-এর চেতনাকে ধারণ করত। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে উচ্ছৃঙ্খলভাবে বাধা দেওয়া হলে আইনগতভাবে তা প্রতিহত করত। কিন্তু আইন আজ মব সৃষ্টিকারী ও উগ্রপন্থীদের হাতে বন্দী।’
ভবিষ্যতে মুক্তিযুদ্ধের ওপর কোনো আঘাত এলে গুটিকয় মানুষ নয়, হাজার হাজার মানুষ তা প্রতিরোধে রুখে দাঁড়াবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।



















