Dhaka ০৬:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:

হাত নেই, পা দিয়েই শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুঃখু মিয়া, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি

স্টাফ রিপোর্টার
  • প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
  • / 6

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখেই শেষ করেছেন পড়াশোনা। চাকরির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। চাকরি না পেয়ে নিজের পৈতৃক জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়। সেখানে এখন ১৪৫ শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মনোবলের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর আলতাফ হোসেন, যিনি এলাকায় দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর গর্ব নন, তিনি সারা দেশের গর্ব। নিজের আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা ও অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তাঁর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও সরকার তাঁর পাশে থাকবে।’

দুঃখু মিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি থেমে যাননি, হেরে যাননি; বরং নিজেই এগিয়ে এসেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে এভাবে এগিয়ে এলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দুঃখু মিয়ার স্বপ্নের বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়, এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

বিদ্যালয়টিতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪৫ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্ম আলতাফ হোসেনের। তাঁর বাবা প্রয়াত তমিজ উদ্দিন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে তাঁর নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনসংগ্রামে হার মানেননি তিনি। পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে নিজের পৈতৃক জমিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে আলতাফ হোসেনকে অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা ও স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন রানা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

হাত নেই, পা দিয়েই শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছেন দুঃখু মিয়া, পাশে দাঁড়ালেন ডিসি

প্রকাশের সময় : ০৫:৩৭:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জন্ম থেকেই দুই হাত নেই। পা দিয়ে লিখেই শেষ করেছেন পড়াশোনা। চাকরির জন্য ঘুরেছেন বিভিন্ন দপ্তরে। চাকরি না পেয়ে নিজের পৈতৃক জমিতেই গড়ে তুলেছেন বিদ্যালয়। সেখানে এখন ১৪৫ শিশুর মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন শিক্ষার আলো। অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও মনোবলের এমন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নরসিংদীর আলতাফ হোসেন, যিনি এলাকায় দুঃখু মিয়া নামে পরিচিত। তাঁর প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টি উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইসরাত জাহান কেয়া।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় দুঃখু মিয়ার প্রতিষ্ঠিত প্রতিভা দুঃখু মিয়া কিন্ডারগার্টেন পরিদর্শন করেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের পাঠদান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং দুঃখু মিয়ার জীবনসংগ্রাম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান কেয়া বলেন, ‘আলতাফ হোসেন দুঃখু মিয়া শুধু নরসিংদীর গর্ব নন, তিনি সারা দেশের গর্ব। নিজের আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা ও অদম্য মনোবল নিয়ে তিনি আজকের অবস্থানে এসেছেন। তাঁর সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সুগম করতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন। জেলা প্রশাসন ও সরকার তাঁর পাশে থাকবে।’

দুঃখু মিয়ার উদ্যোগের প্রশংসা করে জেলা প্রশাসক বলেন, তিনি থেমে যাননি, হেরে যাননি; বরং নিজেই এগিয়ে এসেছেন। তাঁর এই উদ্যোগ অন্যদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে এভাবে এগিয়ে এলে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব।

তিনি আরও বলেন, দুঃখু মিয়ার স্বপ্নের বিদ্যালয়টিকে উচ্চবিদ্যালয়ে রূপান্তর করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির ব্যক্তিগত স্বপ্ন নয়, এর সঙ্গে এলাকার শিশুদের শিক্ষার ভবিষ্যৎ জড়িয়ে রয়েছে।

বিদ্যালয়টিতে সবুজ পরিবেশ গড়ে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ১৪৫ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে একটি করে গাছের চারা তুলে দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক বলেন, সরকারের পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। শিশুদের হাতে তুলে দেওয়া চারাগুলো একদিন বড় বৃক্ষে পরিণত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

১৯৬২ সালে নরসিংদী সদর উপজেলার নগর পাঁচদোনা এলাকায় জন্ম আলতাফ হোসেনের। তাঁর বাবা প্রয়াত তমিজ উদ্দিন। জন্ম থেকেই দুই হাত না থাকায় শৈশব থেকেই নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁকে। দাদা আদর ও আক্ষেপ মিশিয়ে তাঁর নাম রেখেছিলেন দুঃখু মিয়া। তবে নামের সঙ্গে দুঃখ জড়িয়ে থাকলেও জীবনসংগ্রামে হার মানেননি তিনি। পা দিয়ে লিখে পড়াশোনা শেষ করার পর চাকরির চেষ্টা করেও সফল হননি। পরে নিজের পৈতৃক জমিতে বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে শিশুদের শিক্ষাদানে আত্মনিয়োগ করেন।

পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে আলতাফ হোসেনকে অনুদান দেওয়া হয়। এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে গাছের চারা ও স্কুলব্যাগ বিতরণ করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসমা জাহান সরকার, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেফতাহুল হাসান, পাঁচদোনা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাচ্চু মিয়া, সাধারণ সম্পাদক তারিক হোসেন রানা, পাঁচদোনা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব লোকমান হোসেনসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।