এল নিনোর ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে জাতিসংঘের সতর্কবার্তা
- প্রকাশের সময় : ১০:৩১:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / 9
এল নিনোর তীব্র প্রভাবে আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, খরা, বন্যা ও দাবানলের ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানিয়েছে, দ্রুত তীব্রতর হওয়া এল নিনো আগামী মাসগুলোতে বৈশ্বিক আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এর ফলে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, এল নিনো এখন আর শুধু দোরগোড়ায় নয়, এটি ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিচ্ছে। তাঁর ভাষায়, এটি কেবল শুরু, সামনের মাসগুলোতে এর প্রভাব আরও তীব্র হতে পারে এবং দাবানলে আক্রান্ত অঞ্চলগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এই অস্বাভাবিক উষ্ণতা বৈশ্বিক আবহাওয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, তাপপ্রবাহ, খরা ও অতিবৃষ্টির মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়িয়ে তুলবে।
জাতিসংঘ মহাসচিব মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে এল নিনোর প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে উল্লেখ করে নতুন কয়লা, তেল ও গ্যাস প্রকল্প বন্ধসহ জলবায়ু কার্যক্রম জোরদারের আহ্বান জানান।
ডব্লিউএমওর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আফ্রিকা, দক্ষিণ ইউরোপ, ভারতীয় উপমহাদেশ, পূর্ব এশিয়া এবং দক্ষিণ আমেরিকায় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাওলো বলেন, এল নিনোর ওপর নিবিড় নজরদারির পাশাপাশি আগাম সতর্কবার্তাকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হবে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকার ও মানবিক সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
বিজ্ঞানীদের মতে, চলতি বছরের দ্বিতীয়ার্ধে এল নিনো সর্বোচ্চ তীব্রতায় পৌঁছাতে পারে। তবে এর সুনির্দিষ্ট মাত্রা নিয়ে এখনো কিছু অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা





















