শনিবার, ০৭ নভেম্বর, ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সত্যানুসন্ধান মোদের অঙ্গীকার Jonotar Adalot
গুরুত্বপূর্ণ সংবাদ:
আজ টিভিতে যা দেখবেন (৭ নভেম্বর ২০২৬) ১ লাখ ডলারের বেশি বিদেশি বিনিয়োগ পেল বাংলাদেশি ব্লু-টেক স্টার্টআপ সিকুয়া শাহরুখ খান: প্রেম নয়, পুরুষের চোখের জলও সুন্দর হতে পারে হাসান ইতিহাস গড়ার পর বাংলাদেশের ৩ উইকেট হারানোর অস্বস্তি তাসকিন-হাসানের ঝাঁজের পর তিন পেসার না খেলানোর আক্ষেপ বিয়ে ঘিরে ট্রল, রাশমিকাকে নিয়ে সুখে আছেন জানালেন বিজয় এআই প্রযুক্তির সুফল পেতে কিছু ঝুঁকি মেনে নেওয়া যায়: স্যাম অল্টম্যান রিয়ালকে জেতালেন ভালভার্দে, ফেনারবাচের কাছে হেরে গেল লিভারপুল মান্না ও নিশোর ‘খলনায়ক’, ৩০ বছরের ব্যবধানে একই নামে সিনেমার দুই প্রজন্ম মোস্তাফিজকে দলে নেওয়ার খবর এবার জানালো মেলবোর্ন রেনেগেডস

৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফের শুরু হচ্ছে ইরান যুদ্ধ?

ডেস্ক নিউজ
  • প্রকাশের সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬
  • / 81

কিছুদিন আগেই চুক্তি হয়েছিল যুদ্ধ বন্ধের। কিন্তু তা ভেঙে আবারও সংঘাতের পথে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি ইরানে এই হামলার নির্দেশ দেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা নিখুঁত অস্ত্র দিয়ে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইরানের আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌকা।

সোমবার ও মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে সাধারণ নাবিকদের ওপর এমন হামলার কড়া জবাব হিসেবেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সেন্টকম একে একটি ‘শক্তিশালী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে।

সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প আঙ্কারায় তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সাথে বৈঠক করে হামলার সিদ্ধান্ত নেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলা কতক্ষণ চলবে তা পরিষ্কার নয়। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামরিক এই জবাবের ঠিক আগেই ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হলো।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাথে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ন্যাটোর সম্মেলনে ট্রাম্প তুরস্কে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির যে কথা বলেছিলেন, তা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বেগ জানিয়েছে। এই সফরে সেটি নিয়েই আলোচনা হতে পারে। তবে রাতের এই হামলার পর তার সফরসূচি ঠিক থাকবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে দোহায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা সেই চুক্তিকে বড় হুমকির মুখে ফেলে দিল। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হবে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।

Tag :

সংবাদটি আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন-

৮০ লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ফের শুরু হচ্ছে ইরান যুদ্ধ?

প্রকাশের সময় : ১১:১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

কিছুদিন আগেই চুক্তি হয়েছিল যুদ্ধ বন্ধের। কিন্তু তা ভেঙে আবারও সংঘাতের পথে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার জেরে ইরানে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে তুরস্কে রয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেখান থেকেই তিনি ইরানে এই হামলার নির্দেশ দেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা নিখুঁত অস্ত্র দিয়ে ইরানের ৮০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে।

ইরানের আক্রান্ত লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে রয়েছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার, জাহাজ বিধ্বংসী মিসাইল এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ৬০টির বেশি ছোট নৌকা।

সোমবার ও মঙ্গলবার হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালায় ইরান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথে সাধারণ নাবিকদের ওপর এমন হামলার কড়া জবাব হিসেবেই আমেরিকা এই পদক্ষেপ নিয়েছে। সেন্টকম একে একটি ‘শক্তিশালী হামলা’ বলে উল্লেখ করেছে।

সংবাদমাধ্যম এক্সিওস জানিয়েছে, ট্রাম্প আঙ্কারায় তার প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনের সাথে বৈঠক করে হামলার সিদ্ধান্ত নেন। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলা কতক্ষণ চলবে তা পরিষ্কার নয়। পরিস্থিতি মূল্যায়ন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সামরিক এই জবাবের ঠিক আগেই ইরানের তেল বিক্রির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা ছাড় বাতিল করেছে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। এর মাধ্যমে তেহরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানো হলো।

এদিকে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বুধবার ইসরায়েল সফরে যেতে পারেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজের সাথে তার সাক্ষাতের কথা রয়েছে। ন্যাটোর সম্মেলনে ট্রাম্প তুরস্কে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রির যে কথা বলেছিলেন, তা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বেগ জানিয়েছে। এই সফরে সেটি নিয়েই আলোচনা হতে পারে। তবে রাতের এই হামলার পর তার সফরসূচি ঠিক থাকবে কিনা তা এখনো নিশ্চিত নয়।

গত ১৭ জুন ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু গত সপ্তাহে দোহায় হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনা কোনো অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হয়। এরপর নতুন করে শুরু হওয়া এই হামলা সেই চুক্তিকে বড় হুমকির মুখে ফেলে দিল। এমন পরিস্থিতিতে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হবে কিনা সেই প্রশ্ন উঠেছে।